০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

চাল রফতানি নিষিদ্ধ করল ভারত

উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কায় বাসমতি ছাড়া অন্যান্য সাদা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাঞ্জাব ও হরিয়ানাসহ কয়েকটি রাজ্যের নতুন রোপণ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক এলাকার কৃষককে পুনরায় ধান রোপণ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কায় চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) থেকে ভারত সরকার বাসমতি নয় এমন সাদা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে অন্যান্য দেশকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি দেয়া হবে।

এর আগে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, খাদ্যপণ্যের মূল্য নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে ভারত বেশিরভাগ প্রজাতির চাল রফতানি বন্ধ করার কথা ভাবছে। এতে বিশ্বখাদ্য বাজারে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, ভারত এখন নন-বাসমতি চাল রফতানি বন্ধে আলোচনা করছে। কারণ দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ চাইছে না যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক। সে কারণে এমন পদক্ষেপ নেয়ার ভাবনা তাদের মাথায়।

তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভারতের ৮০ শতাংশ চাল রফতানিতে প্রভাব পড়বে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম কমলেও বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য দেখা দেবে।

বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য ভাত। আর মোট বৈশ্বিক চাল সরবরাহের ৯০ শতাংশেরই ভোক্তা এশিয়ার মানুষ। ব্লুমবার্গের খবর বলছে, এল নিনো ফিরে আসার কারণে ফসলের ক্ষতি হবে, সেই আশঙ্কায় খাদ্যপণ্যের মূল্য গত দুই বছরের চেয়ে হবে আরও ঊর্ধ্বমুখী।

খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক চাল বাণিজ্যের ৪০ শতাংশই ভারতের। তারা এবার কিছু প্রজাতির চাল রফতানিতে লাগাম টানতে চাইছে। গত বছর, তারা ভাঙা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর গম ও বাদামি চালের চালানের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল দিল্লি।

তখন মানুষকে চড়া দামে গম ও ভুট্টা কিনতে হয়েছিল। দেশটি এরইমধ্যে গম ও চিনি রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। তবে এই চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার ভাবনা নিয়ে ভারতের খাদ্য, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পায়নি ব্লুমবার্গ।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিন, চীন, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, টোগোসহ শতাধিকের বেশি দেশে চাল রফতানি করে ভারত।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যায় পডকাস্টে আগামীর বাংলাদেশের রোডম্যাপ শোনাবেন তারেক রহমান

চাল রফতানি নিষিদ্ধ করল ভারত

প্রকাশিত : ০৯:২৩:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০২৩

উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কায় বাসমতি ছাড়া অন্যান্য সাদা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের উত্তরাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাঞ্জাব ও হরিয়ানাসহ কয়েকটি রাজ্যের নতুন রোপণ করা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে অনেক এলাকার কৃষককে পুনরায় ধান রোপণ করতে হয়েছে। এতে উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কায় চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে ভারত।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) থেকে ভারত সরকার বাসমতি নয় এমন সাদা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করেছে। তবে খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে অন্যান্য দেশকে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে এবং তাদের সরকারের অনুরোধের ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি দেয়া হবে।

এর আগে ব্লুমবার্গ জানিয়েছিল, খাদ্যপণ্যের মূল্য নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে ভারত বেশিরভাগ প্রজাতির চাল রফতানি বন্ধ করার কথা ভাবছে। এতে বিশ্বখাদ্য বাজারে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গ বলছে, ভারত এখন নন-বাসমতি চাল রফতানি বন্ধে আলোচনা করছে। কারণ দেশটিতে খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ চাইছে না যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক। সে কারণে এমন পদক্ষেপ নেয়ার ভাবনা তাদের মাথায়।

তবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ভারতের ৮০ শতাংশ চাল রফতানিতে প্রভাব পড়বে। এতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম কমলেও বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য দেখা দেবে।

বিশ্বের অর্ধেক জনসংখ্যার প্রধান খাদ্য ভাত। আর মোট বৈশ্বিক চাল সরবরাহের ৯০ শতাংশেরই ভোক্তা এশিয়ার মানুষ। ব্লুমবার্গের খবর বলছে, এল নিনো ফিরে আসার কারণে ফসলের ক্ষতি হবে, সেই আশঙ্কায় খাদ্যপণ্যের মূল্য গত দুই বছরের চেয়ে হবে আরও ঊর্ধ্বমুখী।

খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক চাল বাণিজ্যের ৪০ শতাংশই ভারতের। তারা এবার কিছু প্রজাতির চাল রফতানিতে লাগাম টানতে চাইছে। গত বছর, তারা ভাঙা চাল রফতানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর গম ও বাদামি চালের চালানের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল দিল্লি।

তখন মানুষকে চড়া দামে গম ও ভুট্টা কিনতে হয়েছিল। দেশটি এরইমধ্যে গম ও চিনি রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। তবে এই চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞার ভাবনা নিয়ে ভারতের খাদ্য, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো বক্তব্য পায়নি ব্লুমবার্গ।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিন, চীন, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, টোগোসহ শতাধিকের বেশি দেশে চাল রফতানি করে ভারত।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh