যশোর, মাদারীপুর ও মৌলভীবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে যশোর ও মাদারীপুরে নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী এবং মৌলভীবাজারে নিহত ব্যক্তি ডাকাত সরদার বলে জানা গেছে। এসময় অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যশোর
যশোরে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘গোলাগুলিতে’ অজ্ঞাত এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাতে যশোর-মাগুরা সড়কের বাঘারপাড়া ভাটার আমতলা গরুর হাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার জানান, বুধবার মধ্যরাতে যশোর-মাগুরা সড়কের বাঘারপাড়া ভাটার আমতলা গরুর হাট এলাকায় দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে বলে খবর পান। খবর পেয়ে সেখানে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে তিন কেজি গাঁজা, ২০০ পিস ইয়াবা, একটি ওয়ান শ্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
মাদারীপুর
মাদারীপুরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাচ্চু খলিফা (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি প্রতিপক্ষের গুলিতে বাচ্চুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে শিবচর উপজেলার শম্ভুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিদিনের মতো রাতে মাদক উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম টহল দিচ্ছিল। শিবচরের ‘শম্ভুক’ নদ এলাকায় পৌঁছালে মাদক ব্যবসায়ী দু’পক্ষের গোলাগুলির শব্দ শুনতে পায় পুলিশ। পুলিশ কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশকে লক্ষ্য করে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীদের দু’পক্ষের গুলিতে বাচ্চু আহত হন। আহত অবস্থায় বাচ্চুকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাচ্চুর বিরুদ্ধে শিবচরসহ বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। সে তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী।
মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত দলের সর্দার ইসলাম উদ্দিন ওরফে ইসলাম আলী (৪৫) নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
কুলাউড়া থানা সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টার দিকে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে খবর আসে পাবই গ্রামে ডাকাত দল হানা দিয়েছে। এ সময় পুলিশ ওই এলাকায় পৌঁছালে ডাকাত দল টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে কিছুক্ষণ পর গুলি বিনিময় বন্ধ হয়ে যায়। তখন আশপাশ খুঁজে ইসলাম উদ্দিন ওরফে ইসলাম আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম মুসা জানান, নিহতের বিরুদ্ধে থানায় ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। ইসলামের কাছ থেকে একটি লোকাল গান ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার পাশ থেকে পাঁচটি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।





















