পাবনার সুজানগর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর পৌর এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি ও নিষ্কাশন প্রকল্পের নামে ১৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও কোন কাজে আসছে না। ব্যাপক দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের কারণে প্রকল্পটি বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, সরকার তিনটি পৌরসভায় আর্সেনিকমুক্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০১০-১১ অর্থবছরে পাইপ্ড ওয়াটার সাপ্লাই এন্ড এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প হাতে নেয়। এর জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় ১৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় তিনটি পৌর এলাকায় ৮০ কিলোমিটার পানির পাইপ স্থাপন, ১৪ টি ডিপ টিউবওয়েল, ১৪টি পাম্প হাউজ, ১৫ কিলোমিটার ড্রেন, ১০০ টি নলকূপ, ১২ টি পাবলিক টয়লেট ও ২ হাজার ১’শ বাড়িতে পানি সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জামানুর রহমান এ প্রকল্পের পিডি হন। এ প্রকল্পের পিডি তার স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যাপক দূর্নীতির মাধ্যমে যেনতেন উপায়ে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করেন বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। নিন্মমাণের পাইপ দিয়ে পানির লাইন বসানোর কারণে পানি ছাড়ার সাথে সাথেই তা ফেটে চৌচির হওয়ায় তিনটি পৌর এলাকাতেই নির্মাণের পর পরই পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ডিপ টিউবওয়েলগুলো বসানোর পর থেকেই অকোজে হয়ে নষ্ট হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগও দেয়া হয়নি। ড্রেনগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এ প্রকল্পের পিডি নিজেই টেন্ডার আহ্বানকারী ও বিল পরিশোধকারী হওয়ায় তিনি পছন্দের ঠিকাদার দিয়ে যেনতেনভাবে ১৬ কোটি টাকা খরচ দেখিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে এ প্রকল্প থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। বর্তমানে এ প্রকল্পটি কোন কাজেই আসছে না। এ ব্যাপারে সুজানগর পৌরসভার পক্ষ থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে প্রকল্পটিতে ব্যবহৃত ২৯ কিলোমিটার পাইপ লাইন, ৩০ টি নলকূপ অকোজো হয়ে পড়েছে। চারটি পাম্ম হাউজে ব্যবহৃত নলকূপ এমনই নিন্মমাণের যা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
সুজানগর পৌর মেয়র আব্দুল ওহাব জানান, পাম্প চালু করার সাথে সাথেই পাইপ ফেটে চৌচির হয়ে যায়। দু’বার পরীক্ষামূলক চালুর পর পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
চাটমোহর পৌর মেয়র মির্জা রেজাউল করিম জানান, এ প্রকল্পের পুরো টাকাটাই নষ্ট হয়েছে। পৌর এলাকায় যে পানির পাইপ বসানো হয়েছে তা নিন্মমাণের হওয়ায় পাম্প চালানো যাচ্ছে না।
ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন জানান, এ প্রকল্পের আওতায় পানির পাইপ লাইন বসানো হলেও জনসাধারণে পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাম্প চালালেই পাইপ ফেটে পানি বের হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর পাবনা নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, তিন পৌর মেয়রের সাথে আলাপ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সুপেয় পানিবঞ্চিত ৩ পৌর এলাকার বাসিন্দারা এ প্রকল্পের টাকা আত্মসাতকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তি দাবি করেছেন।





















