দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্যপাড়া খনি থেকে গত এক মাসে রেকর্ড পরিমাণ পাথর উত্তোলন করা হয়েছে। বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মাইনিং যন্ত্রপাতি স্থাপন, ইউরোপিয়ান সুদক্ষ প্রকৌশলীদল ও খনির উৎপাদন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ রেকর্ড সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত অক্টোবর উৎপাদিত পাথরের পরিমান ছিলো ১ লাখ ৪৮ হাজার মে.টন। যা পূর্বের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
এদিকে, প্রতিমাসে উৎপাদন বাড়লেও পাথর বিক্রি হচ্ছে ধীর গতিতে। গত অক্টোবর মাসে প্রায় দেড় লাখ টন পাথর উৎপাদনের বিপরীতে বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার টন। ফলে খনি ইয়ার্ডে বিভিন্ন আকারের প্রায় ৮ লাখ টন অবিক্রিত পাথরের বিশাল মজুদ গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় বিক্রি বাড়াতে পাথরের বিক্রয় মুল্য কমিয়ে দিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবু দাউদ মোঃ ফরিদুজ্জামান মুল্য কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ৫-২০ (৩-৪) মি.মি. সাইজের প্রতিটন পাথরের মুল্য ৩ হাজার ৬৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ১৫০ টাকা ও ৬০-৮০ মি.মি. ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২ হাজার ৮০০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া, ২০-৪০ মি.মি. সাইজ ৩ হাজার ৫৫০ টাকা, ৪০-৬০ মি.মি. সাইজ ৩ হাজার ৮০০ টাকা, বোল্ডার ৩ হাজার ২০০ টাকা, ০-৫ মি.মি/স্টোন ডাষ্ট ১ হাজার ২৫০ টাকা ও ফাইন ডাস্ট ৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর থেকে এ মূল্য কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ২৫ মে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। উৎপাদন শুরুর পর থেকে নানা প্রতিকুলতার কারণে পেট্রোবাংলা প্রতিদিন তিন শিফটে ৫ হাজার মে.টন ল্যমাত্রার বিপরীতে এক শিফটে ৭-৮’শ মে.টনের বেশী পাথর উত্তোলন করতে পারেনি। এর ফলে ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত ৬ বছরে খনিটি লোকসান দিয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা।
এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রæরুয়ারী ৬ বছরের জন্য খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব দেওয়া হয় বেলারুশের জেএসসি ট্রেস্ট সকটোস্ট্রয় ও দেশীয় একমাত্র মাইনিং কাজে অভিজ্ঞ প্রতিষ্টান জার্মানিয়া করপোরেশন লিমিটেড নিয়ে গঠিত জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়ামকে (জিটিসি)। বর্তমানে খনি ভূ-গর্ভে বিশ্বমানের অত্যাধুনিক মাইনিং যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে। ইউরোপিয়ান সুদক্ষ প্রকৌশলীদল ও দক্ষ খনি শ্রমিক দিয়ে পাথর উত্তোলন কাজ চালানো হচ্ছে। জিটিসির হাত ধরে খনিটি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রথমবারের মত লাভের মুখ দেখে।
জিটিসি পূর্ণমাত্রায় পাথর উৎপাদন করায় টানা চার অর্থবছর থেকে মুনাফা করে আসছে খনি। জিটিসির প্রথমদফা চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী চুক্তি শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬ মাস আগে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের কারণে ৭ দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও বিদেশিদের তেমন সাড়া মেলেনি। এ অবস্থায় খনির পাথর উৎপাদন অব্যাহত রাখার স্বার্থে দ্বিতীয় দফা চুক্তির আওতায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে পাথর উৎপাদন করছে জিটিসি। দ্বিতীয়দফা চুক্তি অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৬ বছরে প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার বিনিময়ে ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে দিবে। জিটিসি সুষ্টুভাবে খনি পরিচালনা করতে পারলে দেশের পাথরের চাহিদার অনেকাংশে পুরন হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে
























