চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। তবে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও পুলিশের দাবি গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার (২২ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে দক্ষিণ ঢেমশা ১নং ওয়ার্ডের নাপিতের চরের কাইমার বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম নাঈমা সোলতানা নিশি (১৮) তিনি নাপিতের চর এলাকার কাইমার বাড়ি মৃত জালাল আহমদের পুত্র মোরশেদুল আলমের স্ত্রী। মোরশেদ আলম পেশায় ব্যাটারী চালিত রিকশা (টমটম) চালক।
নিশির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিন মাস আগে মোরশেদুল আলম ভালোবেসে নিশি কে বিয়ে করেছিলেন। নিশির বাবা সবুজ মিয়া সাতকানিয়ার কেঁওচিয়ায় টমটম রিকশার মেকানিক হিসেবে কাজ করে , সেখানে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। মোরশেদ আলম একই গ্যারেজের নিয়মিত রিকশার কাজ করাতে যাওয়ার সূত্রে পরিচয়।
আরও জানা যায়, বিয়ের এক মাস পর নিশিকে এক লাখ টাকা যৌতুক এনে দেয়ার জন্য প্রায়ই চাপ দিত স্বামী মোরশেদ আলম এমনটাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন গৃহবধূ নিশির হতদরিদ্র বাবা সবুজ মিয়া।
নিশির মা কেরানীহাট আশশেফা হাসপাতালে মেয়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে পিতার ন্যায় একই অভিযোগ তুলে বলেন, মূলত এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্যই আমার মেয়েকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিচ্ছে তারা।
তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের গলায় ফাঁসির কোনো চিহ্ন নেই। তার দাবি, নিশির গর্ভে তিনমাসের সন্তানও আছে।
১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আক্তার কামাল বলেন, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে নাকি মেরে ফেলা হয়েছে সেটা পুলিশ তদন্ত করছে,মেয়ের বাবা মা অভিযোগ করছে তার স্বামী মেরেছে, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে নাকি অন্য কেউ মেরেছে সেটা তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই যদিও সে আমার এলাকার তাতে কি।
এদিকে বাবা জানান,নিশির পরিবারের পক্ষ থেকে নিশির স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখতে থানায় গিয়েছিল কিন্তু অভিযোগ নেয়নি ।
এ ব্যাপারে সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)প্রিটন সরকারের সাথে কথা বলে জানা যায়, নাঈমা সোলতানা নিশির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতকানিয়া থানা পুলিশ নিয়ে যায়, মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ বা মামলা হয়নি ওরা পোস্টমর্টেম করতে রাজি না ,তবে অপমৃত্যু মামলা হবে তারপর আমরা রিপোর্ট দেখব ওরা চাইলে মামলা করতে পারবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে





















