কেরানীগঞ্জে ২৫ নভেম্বর তারানগর গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে। তিনটি তাৎপর্য তুলে ধরে ঘাটারচর স্কুল মাঠে আলোচনায় সভায় বীর শহীদদের স্মৃতিচারণ করা হয়। উক্ত গণহত্যা দিবসে আলোচলা সভায় সাভাপতিত্ব করেন তারানগরন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক, প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। সঞ্চালনা করেন তারানগর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আজিজুর রহমান। বিগত ৪৫ বছর ধরে এলাকাবাসী এ গণহত্যা দিবস পালন করে আসছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার তারানগর ইউনিয়নের ঘাটারচর এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ফয়েজ রাজাকার, ডা. জয়নাল, তাজু ও মোক্তার এর সহযোগিতায় পাক হানাদার বাহীনিরা মীর জহির উদ্দিন আহমেদ, মীর সালাহ উদ্দিন আহমেদ, গোলাম মোস্তফা, ৃমিয়াজ উদ্দিন, নাসির উদ্দিন, নবী হোসেন, মোজাম্মেল হক, আব্দুর রশিদ ও সোলায়মান সহ এলাকার শতাধিক লোক মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতা করার অপরাধের তাদের নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করার পর ঘাটারচর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পাশে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন। দেশ স্বাধীনের পর থেকে তারানগরের ঘাটারচর গণকবরে এলাকাবাসী উপস্থিত হয়ে ফুল দিয়ে প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর শহীদদের স্মৃতিচার করে স্মরণ করেন।
স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও ঘাটারচর এলাকার গণকবরটি সংরক্ষণ করে কোন স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি না কারায় এলাকাবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে । ঢাকা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন জানান স্বাধীনতার ৫২ বছরেও তারানগরের ঘাটারচর গণকবরটি সংরক্ষণ করে স্মৃতিস্তম্ভ করা হয়নি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার বিগত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গণকবরটি সংরক্ষণ করে স্নৃতিস্থম্ভ তৈরি করেনি। বীর মুক্তিযোদ্ধার দাবি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘাটারচরের গণকবরটি সংরক্ষণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিস্থম্ভ তৈরি করার আহবান জানান তিনি। এলাকাবাসীরা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বার তারানগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় গনহত্যা দিবস পালন করাহয়।১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর ফয়েজ রাজাকার ঘাটার চর এলাকায় ভাওয়াল রাজা স্টেটের দেয়া প্রাইমারি স্কুল মাঠ সহ দুই একর জমি আত্মসাৎ ও ভোগদখল করে ১৯৭১সালে ঘাটারচর,খানবাড়ি,মনোহরিয়া, হিজলা,কাসিমালতা চন্ডিপুর,ভাওয়াল,
কাঠালতলী,গুইটা,নিশানবাড়ি এলাকার রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী গণহত্যা চালায়। তারপর গ্রামের ২০০’শো বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। এ সময় পাক সেনারা প্রায় শতাধিক নারী পুরুষকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি বর্বর বাহীনি ও রাজাকার আলবদররা।
২৯৯৬ সালের ২৫ নভেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য শতাধিক শহীদের মধ্যে মীর জহির উদ্দিন ও মীর সালাহ উদ্দিন সহ ৪২ জনের নাম সংগ্রহ করে শহীদের নামের তালিকা শ্বেত পাথরে লিখে ঘাটমারা ভাওয়াল স্কুল ও ঈদগাহ মাঠে স্থাপন করেন। তারপর থেকেই অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে এই গণকবরটি । তবে কেরানীগঞ্জের সবচেয়ে বড় গণহত্যা চালানো হয় দুই এপ্রিল। ১৯৭১ সালে কেরানীগঞ্জের মডেল থানার নেকরোজবাগ এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা মহসীন মন্টু ও আমির খসরুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা গেরিলা ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নিত । ওই সেন্টারে কয়েকজন সেনা কমান্ডার প্রতিদিন শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা প্রশিক্ষণ দিত। স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরের মাধ্যমে সেই খবর পান পাক হানাধাররা।
গেরিলা ট্রেনিং সেন্টার খবর আমলে নিয়ে গেরিলা যোদ্ধাদের নির্মূল করতে ১৯৭১ সালের ২ এপ্রিল ভোর চারটায় প্রায় ১১ টি গানশীপ নিয়ে জিনজিরা, কালিগঞ্জ, হাসনাবাদ, মান্দাইল, আগানগর, কালিন্দী, নেকরোজবাগ, ১৫ টি গ্রামে মেশিনগান ও মটরশেল দিয়ে গোলা নিক্ষেপ করেন। ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত নারকীয় তাণ্ডব চালিয়ে পাক সেনারা নারী পুরুষ বিদ্যা ও শিশু সহ প্রায় সাত হাজার লোককে হত্যা করে। হানাদার বাহিনীর হাতে শহীদ হওয়া বেশিরভাগ লোকজনে রাজধানী ছেড়ে কেরানীগঞ্জে আশ্রয়িতা ছিল। ২ এপ্রিলের গণহত্যা নিয়ে মনু ব্যাপারে ডাল এলাকায় ২০০৬ সালে একটি স্মৃতির স্তম্ভ তৈরি করা হয়। পক্ষান্তরে ২৫ নভেম্বরের ঘাটারচরে তারানগর গণহত্যা দিবস টি যেমন ভাবে উদযাপিত হয় না। যার কারনে তারানগর এলাকাবাসী ঘাটারচর গণকবরটিসংরক্ষণ করে দ্রুত স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করার দাবী জানান।
বিজনেস বাংলাদেশ/bh





















