০৪:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৩০ বছর ধরে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালান মোজাহার আলি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর সরিষাকোল মাদ্রাসা বাজারে তানভীর কনফেকশনারী এন্ড ফল ভান্ডারের সামনে ৩০ বছর ধরে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মোজাহার আলি (৭০)।

মাঠির চুলার উপর মাঝারি আকৃতির একটি পাতিল।পাতিলের ভেতরে সেদ্ধ হচ্ছে হাঁস-মুরগির ডিম। আর পাতিলের ঢাকনার ওপরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আগে সেদ্ধ করা কিছু ডিম।সেখান থেকেই ক্রেতাদের খোসা ছাড়িয়ে একটার পর একটা ডিম সরবরাহ করছেন তিনি।

মোজাহার আলির বাড়ি শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর বাজার পাড়া এলাকায়। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে তাঁর।তিন মেয়েকে অনেক আগে বিয়ে দিয়েছে।বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন।ছোট ছেলেকে ছয় মাস আগে বিয়ে দিয়েছি।নিজের বউকে নিয়ে ৪ জনের সংসার তাঁর।

রবিবার বিকালে কথা হয় মোজাহার আলির সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে সেদ্ধ ডিম বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল ৪ টার পর দোকান শুরু করে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। তবে বিকেলে দোকান নিয়ে বসলেও মূলত বিক্রি শুরু হয় সন্ধ্যার পর।তিনি বলেন দেশি মুরগি ডিম, হাঁসের ডিম ও ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি করেন।

মোজাহার আলি আরো বলেন,গত বছরগুলোতে যখন ডিমের দাম কম ছিল, তখন প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ ডিম বিক্রি হতো, তাতে দৈনিক আয় হতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো।সেই টাকা দিয়ে সংসার খরচ করেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেঁচে যেত তাঁর।

মোজাহার আলি বলেন, বর্তমানে ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিম বিক্রির সংখ্যা কমে গেছে। তিনি দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টি ডিম বিক্রি করতে পারেন। তাতে যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা থাকে।দিন দিন জিনিসের দাম বাড়ায় এখন এই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।এখন বয়স হয়েছে, অন্য কাজও তো আমাকে দিয়ে হবে না।ডিম বিক্রি করেই যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

৩০ বছর ধরে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালান মোজাহার আলি

প্রকাশিত : ১২:১৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৩

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর সরিষাকোল মাদ্রাসা বাজারে তানভীর কনফেকশনারী এন্ড ফল ভান্ডারের সামনে ৩০ বছর ধরে সেদ্ধ ডিম বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন মোজাহার আলি (৭০)।

মাঠির চুলার উপর মাঝারি আকৃতির একটি পাতিল।পাতিলের ভেতরে সেদ্ধ হচ্ছে হাঁস-মুরগির ডিম। আর পাতিলের ঢাকনার ওপরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে আগে সেদ্ধ করা কিছু ডিম।সেখান থেকেই ক্রেতাদের খোসা ছাড়িয়ে একটার পর একটা ডিম সরবরাহ করছেন তিনি।

মোজাহার আলির বাড়ি শাহজাদপুর উপজেলার মশিপুর বাজার পাড়া এলাকায়। দুই ছেলে ও তিন মেয়ে তাঁর।তিন মেয়েকে অনেক আগে বিয়ে দিয়েছে।বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন।ছোট ছেলেকে ছয় মাস আগে বিয়ে দিয়েছি।নিজের বউকে নিয়ে ৪ জনের সংসার তাঁর।

রবিবার বিকালে কথা হয় মোজাহার আলির সঙ্গে। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে সেদ্ধ ডিম বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন বিকেল ৪ টার পর দোকান শুরু করে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। তবে বিকেলে দোকান নিয়ে বসলেও মূলত বিক্রি শুরু হয় সন্ধ্যার পর।তিনি বলেন দেশি মুরগি ডিম, হাঁসের ডিম ও ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি করেন।

মোজাহার আলি আরো বলেন,গত বছরগুলোতে যখন ডিমের দাম কম ছিল, তখন প্রতিদিন প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ ডিম বিক্রি হতো, তাতে দৈনিক আয় হতো ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো।সেই টাকা দিয়ে সংসার খরচ করেও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেঁচে যেত তাঁর।

মোজাহার আলি বলেন, বর্তমানে ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিম বিক্রির সংখ্যা কমে গেছে। তিনি দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টি ডিম বিক্রি করতে পারেন। তাতে যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা থাকে।দিন দিন জিনিসের দাম বাড়ায় এখন এই আয় দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।এখন বয়স হয়েছে, অন্য কাজও তো আমাকে দিয়ে হবে না।ডিম বিক্রি করেই যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতে হচ্ছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/একে