১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এ বছর ভাষা আন্দোলনে একুশে পদক পাচ্ছেন গৌরীপুরের ভাষা সৈনিক হাতেম আলী মিয়া

ভাষা আন্দোলন ও তৎপরবর্তী স্বাধীকারের সকল আন্দোলনে অবদান রাখায় চলতি বছর (২০২৪) বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর) পাচ্ছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রæয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একুশে পদকে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক ২০২৪ দেয়া হচ্ছে।
মরহুম হাতেম আলী মিয়া ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ট সৈনিক, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুদ্ধকালীন ক্যাম্প ইনচার্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯২৬সনের এইদিনে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর মহকুমা দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদে গৌরীপুর সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতাও করেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ক্যাম্প ইন চার্জ ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ: সম্পাদক, ময়মনসিংহ সদর উত্তর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গৌরীপুর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৪৬ সনে তিনি কৃষক প্রজা পার্টির সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৯ সনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ১৯৫০ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গৌরীপুর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পদে ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার কারনে পাক সরকারের চক্ষুশূলে পরিণত হয়ে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ ৯ মাস কারাভোগ করেন। বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি গৌরীপুরের ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ৫২’র ২১শে ফেব্রæয়ারী ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের সম্মান জানাতে গৌরীপুর বাজারে ইট সাজিয়ে লাল কাপড়ে ঢেকে প্রতীকি শহীদ মিনার বানিয়ে তাতে ফুল দিয়েছিলেন। এসময় পুলিশ এসে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে, শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয় এবং তাকে গ্রেফতার করে।
১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে তিনি ঢাকায় শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৫৩ সালের ১৩ এপ্রিল তৎকালীন গৌরীপুর বাজার ময়দান বর্তমান শহীদ হারুন পার্কে এক বিশাল জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাষানীর উপস্থিতিতে সর্বপ্রথম তিনি মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষণ দেওয়ার কারণে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন।
১৯৭২ সালে তিনি গণপরিষদের সদস্য হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। ১৯৭৬ সালের ১৫ই আগষ্ট হাতেম আলী মিয়া তার নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেন। এতে সরকারের রোষানলে শিকার হয়ে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার কারাবরণ করেন।
১৯৬৯ এর গণঅভুত্থানে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গৌরীপুরে গণমিছিলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে হাতেম আলী মিয়া নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের ৪ মার্চ গৌরীপুর শহীদ হারুন পার্কে বিশাল জনসভায় তার সহকর্মীদের নিয়ে হাতেম আলী মিয়া পাকিস্তানের পতাকাতে অগ্নিসংযোগ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চ ঐতিহাসিক ভাষনের পর তিনি গৌরীপুরে সংগ্রাম কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিলের পর মুজিবনগর সরকারের অধীনে তিনি ভারত সরকারের সহযোগিতায় মেঘালয় রাজ্যের শিববাড়িতে ইয়্যুথ ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং সেখানে ইনর্চাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি গৌরীপুর সরকারী কলেজ, গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি তৎকালীন সময়ে ইকবাল ক্লাব প্রতিষ্ঠা ও যুব কিশোর সংগঠন কঁচিকাঁচার আসর, গোবিন্দ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠা ও রাজ রাজেশ্বরী বোকাইনগর কালীবাড়ী মন্দির গৌরীপুর শহরে পুন:প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে বাউন্ডারী কমিশনের নিকট গৌরীপুরকে জেলায় উন্নীত করার প্রথম প্রস্তাবকারী এবং ১৯৭৫ সালের ১০ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে গৌরীপুরকে জেলা করার প্রস্তাব ও ১নং মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট বাজারে রেলস্টেশন স্থাপন এবং হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া(রাঃ) এর মাজারের সংস্কারের আবেদন জানান।
তিনি দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদের নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। গৌরীপুর থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক সুবর্ণ বাংলা পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। তার লেখা অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু‘ অপ্রকাশিত রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

 

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

এ বছর ভাষা আন্দোলনে একুশে পদক পাচ্ছেন গৌরীপুরের ভাষা সৈনিক হাতেম আলী মিয়া

প্রকাশিত : ০৬:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ভাষা আন্দোলন ও তৎপরবর্তী স্বাধীকারের সকল আন্দোলনে অবদান রাখায় চলতি বছর (২০২৪) বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (মরণোত্তর) পাচ্ছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের কৃতি সন্তান ভাষা সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাতেম আলী মিয়া।
মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রæয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একুশে পদকে মনোনীতদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ২১ বিশিষ্ট নাগরিককে একুশে পদক ২০২৪ দেয়া হচ্ছে।
মরহুম হাতেম আলী মিয়া ভাষা আন্দোলনের একজন বলিষ্ট সৈনিক, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, যুদ্ধকালীন ক্যাম্প ইনচার্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯২৬সনের এইদিনে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ উত্তর মহকুমা দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদে গৌরীপুর সংবাদদাতা হিসাবে সাংবাদিকতাও করেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ক্যাম্প ইন চার্জ ছিলেন। ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ: সম্পাদক, ময়মনসিংহ সদর উত্তর মহকুমা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গৌরীপুর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৪৬ সনে তিনি কৃষক প্রজা পার্টির সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৪৯ সনে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ১৯৫০ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গৌরীপুর শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পদে ও পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার কারনে পাক সরকারের চক্ষুশূলে পরিণত হয়ে গ্রেফতার হন এবং দীর্ঘ ৯ মাস কারাভোগ করেন। বাংলা ভাষাকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে তিনি গৌরীপুরের ছাত্রজনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ৫২’র ২১শে ফেব্রæয়ারী ঢাকায় ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের সম্মান জানাতে গৌরীপুর বাজারে ইট সাজিয়ে লাল কাপড়ে ঢেকে প্রতীকি শহীদ মিনার বানিয়ে তাতে ফুল দিয়েছিলেন। এসময় পুলিশ এসে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে, শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে দেয় এবং তাকে গ্রেফতার করে।
১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে তিনি ঢাকায় শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ১৯৫৩ সালের ১৩ এপ্রিল তৎকালীন গৌরীপুর বাজার ময়দান বর্তমান শহীদ হারুন পার্কে এক বিশাল জনসভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাষানীর উপস্থিতিতে সর্বপ্রথম তিনি মুসলিম লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জ্বালাময়ী ভাষণ দেওয়ার কারণে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার হন এবং কারাবরণ করেন।
১৯৭২ সালে তিনি গণপরিষদের সদস্য হিসেবে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাক্ষর করেন। ১৯৭৬ সালের ১৫ই আগষ্ট হাতেম আলী মিয়া তার নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের নিয়ে মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেন। এতে সরকারের রোষানলে শিকার হয়ে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেফতার কারাবরণ করেন।
১৯৬৯ এর গণঅভুত্থানে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গৌরীপুরে গণমিছিলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে হাতেম আলী মিয়া নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের ৪ মার্চ গৌরীপুর শহীদ হারুন পার্কে বিশাল জনসভায় তার সহকর্মীদের নিয়ে হাতেম আলী মিয়া পাকিস্তানের পতাকাতে অগ্নিসংযোগ করেন। বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চ ঐতিহাসিক ভাষনের পর তিনি গৌরীপুরে সংগ্রাম কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিলের পর মুজিবনগর সরকারের অধীনে তিনি ভারত সরকারের সহযোগিতায় মেঘালয় রাজ্যের শিববাড়িতে ইয়্যুথ ক্যাম্প স্থাপন করেন এবং সেখানে ইনর্চাজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি গৌরীপুর সরকারী কলেজ, গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি তৎকালীন সময়ে ইকবাল ক্লাব প্রতিষ্ঠা ও যুব কিশোর সংগঠন কঁচিকাঁচার আসর, গোবিন্দ জিউর মন্দির প্রতিষ্ঠা ও রাজ রাজেশ্বরী বোকাইনগর কালীবাড়ী মন্দির গৌরীপুর শহরে পুন:প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে বাউন্ডারী কমিশনের নিকট গৌরীপুরকে জেলায় উন্নীত করার প্রথম প্রস্তাবকারী এবং ১৯৭৫ সালের ১০ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে গৌরীপুরকে জেলা করার প্রস্তাব ও ১নং মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট বাজারে রেলস্টেশন স্থাপন এবং হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়া(রাঃ) এর মাজারের সংস্কারের আবেদন জানান।
তিনি দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক সংবাদের নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। গৌরীপুর থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক সুবর্ণ বাংলা পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখতেন। তার লেখা অসমাপ্ত গ্রন্থ ‘মুজিব ভাই থেকে বঙ্গবন্ধু‘ অপ্রকাশিত রয়েছে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ