০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানিতে বেপরোয়াভাবে চলছে লেগুনা

রাজধানিতে বেপরোয়াভাবে চলছে লেগুনা। বেপরোয়াভাবে লেগুনা চালানোর কারণ জানতে চাইলে লেগুনা চালক মো: ইউসুফ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন তিনি ৮ বছর ধরে লেগুনা চালান, এতে দক্ষ বলেই ওভারটেকিংয়ে নিরাপদে চালাতে পারেন বলে দাবি করেন। কিন্ত অপরদিকে লেগুনা চালক মো: সুজন বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং করেন না জানিয়ে বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, এখন ওভারটেকিংয়ের কোনো সুযোগ নেই আমাদেরকে স্ট্যান্ড থেকে আমাদেরকে সিরিয়াল করে ছাড়া হয়, সিরিয়াল অনুযায়ী পৌছাতে হয়।

এছাড়া যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী হেলপার দিয়ে কেনো লেগুনা চালানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখন হেলপার নাই নিজেদেরকেই ভাড়া কাটতে হয়। অপরদিকে ড্রাইভার মো: ইউসুফ বলেন, ওরা ছোট হলেও গাড়ী ভালো চালায়। বয়স কম থাকায় তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পায় না। ইউসুফ আরও বলেন, সার্ভিস গাড়ি চালাই যতো বেশি টিপ মারবো ততো ইনকাম। ২টাকা বেশি ইনকাম করার জন্য দ্রুত চালাই। মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। এ জন্য মালিক তেমন চাপ দেয় না। মো:পুর থেকে নিউমার্কেটগামী এক লেগুনা ধানমন্ডি এলাকায় রাস্তা ফাকা পেয়ে বেপরোয়াভাবে চালায়। ফলে যাত্রীরা ভয় পেয়ে চেচামেচি করলেও সে তার মতো করে চালিয়ে যায় এরকম প্রয়ই করে ফলে প্রতিনিয়তই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান নিউমার্কেটগামী যাত্রী কালাম।

লতিফ প্রতিদিনি ফার্মগেট থেকে আজিমপুরে যাতায়াত করেন। তার কাছে লেগুনার বেপরোয়া গতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেগুনার ড্রাইভাররা জীবনের চেয়ে সময়ের মুল্য দেয়। একজন আরেক জনকে ওভারটেক করে দ্রুত চলে যাওয়ার যে বেপরোয়া মনোভাব তা থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে একটু ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়। মিরপুর ১০ থেকে মোহাম্মদপুরে নিয়মিত যাতায়াত করেন হেনা আহমেদ তিনি বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, এই রুটে লেগুনা প্রতিনিয়তই বেপরোয়াভাবে চলে এবং বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দেখা যায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা লেগুনা চালানো হয়। লেগুনা মলিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমরা বেপরোয়াভাবে লেগুনা চলানোর ব্যাপারে ড্রাইভারদেরকে মিটিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে দিয়েছি। তাদেরকে রাস্তায় যাত্রী তুলা, যায়গায় যায়গায় থামানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এখন একদমই নিয়োগ দেয়া হয় না। এবং তাদের লেগুনা চালানোর দক্ষতা যাচাইসহ রাস্তায় চলাচলের নিরাপত্তায় আমরা সর্বদা সজাগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং লেগুনা করতে পারে না। আমরা বেশ সজাগ বিষটি নিয়ে। এছাড়া প্রতিদিনই লেগুনা আটক করে জরিমানা করছি। পুলিশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মালিকপক্ষ কম টাকায় পায় এজন্য হেলপার দিয়ে লেগুনা চালায় এটাও আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি। লেগুনা মালিকদেরকে ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, লেগুনা মানুষের প্রয়োজনেই ব্যাবহার হয় এর প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। প্রতিনিয়ত যেসব ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এটার একটা কারণ ভাঙ্গাচোরা লেগুনা দিয়ে যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছি।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

রাজধানিতে বেপরোয়াভাবে চলছে লেগুনা

প্রকাশিত : ১০:১৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুলাই ২০১৮

রাজধানিতে বেপরোয়াভাবে চলছে লেগুনা। বেপরোয়াভাবে লেগুনা চালানোর কারণ জানতে চাইলে লেগুনা চালক মো: ইউসুফ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন তিনি ৮ বছর ধরে লেগুনা চালান, এতে দক্ষ বলেই ওভারটেকিংয়ে নিরাপদে চালাতে পারেন বলে দাবি করেন। কিন্ত অপরদিকে লেগুনা চালক মো: সুজন বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং করেন না জানিয়ে বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, এখন ওভারটেকিংয়ের কোনো সুযোগ নেই আমাদেরকে স্ট্যান্ড থেকে আমাদেরকে সিরিয়াল করে ছাড়া হয়, সিরিয়াল অনুযায়ী পৌছাতে হয়।

এছাড়া যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী হেলপার দিয়ে কেনো লেগুনা চালানো হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এখন হেলপার নাই নিজেদেরকেই ভাড়া কাটতে হয়। অপরদিকে ড্রাইভার মো: ইউসুফ বলেন, ওরা ছোট হলেও গাড়ী ভালো চালায়। বয়স কম থাকায় তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স পায় না। ইউসুফ আরও বলেন, সার্ভিস গাড়ি চালাই যতো বেশি টিপ মারবো ততো ইনকাম। ২টাকা বেশি ইনকাম করার জন্য দ্রুত চালাই। মাঝে মাঝে ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। এ জন্য মালিক তেমন চাপ দেয় না। মো:পুর থেকে নিউমার্কেটগামী এক লেগুনা ধানমন্ডি এলাকায় রাস্তা ফাকা পেয়ে বেপরোয়াভাবে চালায়। ফলে যাত্রীরা ভয় পেয়ে চেচামেচি করলেও সে তার মতো করে চালিয়ে যায় এরকম প্রয়ই করে ফলে প্রতিনিয়তই ছোটখাট দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান নিউমার্কেটগামী যাত্রী কালাম।

লতিফ প্রতিদিনি ফার্মগেট থেকে আজিমপুরে যাতায়াত করেন। তার কাছে লেগুনার বেপরোয়া গতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লেগুনার ড্রাইভাররা জীবনের চেয়ে সময়ের মুল্য দেয়। একজন আরেক জনকে ওভারটেক করে দ্রুত চলে যাওয়ার যে বেপরোয়া মনোভাব তা থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে একটু ভয় নিয়েই চলাচল করতে হয়। মিরপুর ১০ থেকে মোহাম্মদপুরে নিয়মিত যাতায়াত করেন হেনা আহমেদ তিনি বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, এই রুটে লেগুনা প্রতিনিয়তই বেপরোয়াভাবে চলে এবং বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দেখা যায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের দ্বারা লেগুনা চালানো হয়। লেগুনা মলিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, আমরা বেপরোয়াভাবে লেগুনা চলানোর ব্যাপারে ড্রাইভারদেরকে মিটিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে দিয়েছি। তাদেরকে রাস্তায় যাত্রী তুলা, যায়গায় যায়গায় থামানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ড্রাইভারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া এখন একদমই নিয়োগ দেয়া হয় না। এবং তাদের লেগুনা চালানোর দক্ষতা যাচাইসহ রাস্তায় চলাচলের নিরাপত্তায় আমরা সর্বদা সজাগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, বেপরোয়াভাবে ওভারটেকিং লেগুনা করতে পারে না। আমরা বেশ সজাগ বিষটি নিয়ে। এছাড়া প্রতিদিনই লেগুনা আটক করে জরিমানা করছি। পুলিশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। মালিকপক্ষ কম টাকায় পায় এজন্য হেলপার দিয়ে লেগুনা চালায় এটাও আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছি। লেগুনা মালিকদেরকে ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করার জন্য প্রতিদিনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, লেগুনা মানুষের প্রয়োজনেই ব্যাবহার হয় এর প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। প্রতিনিয়ত যেসব ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে এটার একটা কারণ ভাঙ্গাচোরা লেগুনা দিয়ে যাত্রীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমরা এদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছি।