০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হজ এজেন্সিগুলো নির্দেশনা মানছেনা 

আর মাত্র ১০ দিন পর শুরু হচ্ছে এ বছরের হজ ফ্লাইট। তবে এখনও ১৬ হাজার হজযাত্রীর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনেনি হজ এজেন্সিগুলো। ধর্ম মন্ত্রণালয় দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে বিমানের টিকিট কেনার নির্দেশনা দিলেও কাজ হয়নি। কয়েক দফায় সময় বাড়ানোর পরও এখনও এত টিকিট বিক্রি না হওয়ায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এদিকে, এবছর পূর্বনির্ধারিত শিডিউলভুক্ত ফ্লাইট ছাড়া অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্লট বরাদ্দ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, ১৪ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেবে বিমান। ১৫৫টি ডেডিকেটেডে ও ৩২টি শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সটি। এসব ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ৬৩ হাজার ৬০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারবেন। তবে বুধবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ হাজার টিকিট ক্রয় করেনি কোনও হজ এজেন্সি। সূত্র জানায়, গত হজ মৌসুমে হজযাত্রী না পাওয়ায় ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে এবছরও হজের টিকিট বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন পর্ষদ সদস্যরা। ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয়, হজ এজেন্সিগুলোকেও এ বিষয়ে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ প্রসঙ্গে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘হজ যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হজ এজেন্সিগুলা বলা হয়েছে। তবে এখনও অনেক এজেন্সি টিকিট সংগ্রহ করেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না, যারা নিবন্ধিত হয়েছেন সবাই হজ করতে সৌদি আরবে যেতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘হজযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে বিমানের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার অতিরিক্ত হজ ফ্লাইটের অনুমোদন দেবে না।

ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটে যাত্রী কম গেলে অন্যদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করেন হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম। তিনি বলেন, ‘হজ ফ্লাইট ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে এজেন্সিগুলো টিকিট সংগ্রহ করে ফেলবে। আমরা কোনও শঙ্কা দেখছি না। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী, বিমানের টিকিট কেনা ও অতিরিক্ত ফ্লাইট শিডিউল না পাওয়া প্রসঙ্গে হজ এজেন্সিগুলোকে জানায় মন্ত্রণালয়। গত ২১ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

সেখানে বলা হয়, ‘সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স যৌথভাবে ঘোষিত হজ ফ্লাইটের শিডিউল অনুযায়ী যেসব হজ এজেন্সি এখনও বিমানের টিকিট ক্রয় করে ভিসা সংগ্রহ করার জন্য ঢাকার হজ অফিসে হজযাত্রীদের পাসপোর্ট জমা করেনি, তাদের দ্রুত এ কাজ শেষ করে ঢাকার হজ অফিসকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এ বছর নির্ধারিত শিডিউলভুক্ত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনে ব্যর্থ হলে সৌদি আরবে কোনও অবস্থাতেই অতিরিক্ত কোনও স্লট বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। এর আগে ৯ মে একই নির্দেশনা দিয়েছিল হজ অফিস। সেখানে বলা হয়, ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে হজ এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীদের ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ২০ মে’র মধ্যে জমা দিতে হবে। সেই সময়েও বেশিরভাগ এজেন্সি টিকিট সংগ্রহ করেনি।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

হজ এজেন্সিগুলো নির্দেশনা মানছেনা 

প্রকাশিত : ০৯:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জুলাই ২০১৮

আর মাত্র ১০ দিন পর শুরু হচ্ছে এ বছরের হজ ফ্লাইট। তবে এখনও ১৬ হাজার হজযাত্রীর জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনেনি হজ এজেন্সিগুলো। ধর্ম মন্ত্রণালয় দফায় দফায় এজেন্সিগুলোকে বিমানের টিকিট কেনার নির্দেশনা দিলেও কাজ হয়নি। কয়েক দফায় সময় বাড়ানোর পরও এখনও এত টিকিট বিক্রি না হওয়ায় হজযাত্রা নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এদিকে, এবছর পূর্বনির্ধারিত শিডিউলভুক্ত ফ্লাইট ছাড়া অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য স্লট বরাদ্দ দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সৌদি আরব।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, ১৪ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেবে বিমান। ১৫৫টি ডেডিকেটেডে ও ৩২টি শিডিউল ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সটি। এসব ফ্লাইটে বাংলাদেশ থেকে ৬৩ হাজার ৬০০ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে যেতে পারবেন। তবে বুধবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৬ হাজার টিকিট ক্রয় করেনি কোনও হজ এজেন্সি। সূত্র জানায়, গত হজ মৌসুমে হজযাত্রী না পাওয়ায় ২৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে। শেষ মুহূর্তে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়। বিমানের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে এবছরও হজের টিকিট বিক্রি না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন পর্ষদ সদস্যরা। ধর্ম মন্ত্রণালয়, বিমান মন্ত্রণালয়, হজ এজেন্সিগুলোকেও এ বিষয়ে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ প্রসঙ্গে হজ অফিসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘হজ যাত্রীদের টিকিট সংগ্রহ করতে হজ এজেন্সিগুলা বলা হয়েছে। তবে এখনও অনেক এজেন্সি টিকিট সংগ্রহ করেনি। তাদের সঙ্গে আমাদের আলাপ আলোচনা হচ্ছে। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না, যারা নিবন্ধিত হয়েছেন সবাই হজ করতে সৌদি আরবে যেতে পারবেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ বিজনেস বাংলাদেশকে বলেন, ‘হজযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে বিমানের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ বছর সৌদি সরকার অতিরিক্ত হজ ফ্লাইটের অনুমোদন দেবে না।

ফলে নির্ধারিত ফ্লাইটে যাত্রী কম গেলে অন্যদের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলে মনে করেন হাব মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম। তিনি বলেন, ‘হজ ফ্লাইট ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে এজেন্সিগুলো টিকিট সংগ্রহ করে ফেলবে। আমরা কোনও শঙ্কা দেখছি না। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী, বিমানের টিকিট কেনা ও অতিরিক্ত ফ্লাইট শিডিউল না পাওয়া প্রসঙ্গে হজ এজেন্সিগুলোকে জানায় মন্ত্রণালয়। গত ২১ জুন ধর্ম মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।

সেখানে বলা হয়, ‘সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স যৌথভাবে ঘোষিত হজ ফ্লাইটের শিডিউল অনুযায়ী যেসব হজ এজেন্সি এখনও বিমানের টিকিট ক্রয় করে ভিসা সংগ্রহ করার জন্য ঢাকার হজ অফিসে হজযাত্রীদের পাসপোর্ট জমা করেনি, তাদের দ্রুত এ কাজ শেষ করে ঢাকার হজ অফিসকে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, এ বছর নির্ধারিত শিডিউলভুক্ত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহনে ব্যর্থ হলে সৌদি আরবে কোনও অবস্থাতেই অতিরিক্ত কোনও স্লট বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। এর আগে ৯ মে একই নির্দেশনা দিয়েছিল হজ অফিস। সেখানে বলা হয়, ফ্লাইট শিডিউল ঠিক রাখতে হজ এজেন্সিগুলোকে হজযাত্রীদের ফ্লাইট বুকিং সম্পন্ন করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ২০ মে’র মধ্যে জমা দিতে হবে। সেই সময়েও বেশিরভাগ এজেন্সি টিকিট সংগ্রহ করেনি।