০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমদানির আলুতে চলছে পাবনার বাজার, কেজি ১০০ টাকা

আমদানির আলুতে চলছে পাবনার বাজার। ফলে সরকারি বন্ধের দিনে ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে। প্রতি কেজি নতুন আলুর দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবারও এর দাম ছিলো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এদিকে সবজি উৎপাদনে পাবনা সমৃদ্ধ হলেও দামে বেশি শীতকালীন সবজিরও। সবজি সহ নিতপণ্যের অতিরিক্ত দাম নিয়ে নাভিশ্বাস ছুটছে ক্রেতাদের। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ওঠার ঘনিয়ে আসা এসময়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম।
সরেজমিনে পাবনার বড় বাজার ও লাইব্রেরী বাজার সহ কয়েকটি বাজারে দেখা যায়, বাজারে মুলা, কপি, বেগুন ও শিম সহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি উঠেছে। তবে এর দাম অনেকটা বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের। বিক্রেতারা বলছেন অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় সবজির ক্ষেত নষ্ট ও আবাদ কম হওয়ায় পাবনায় এবার তুলনামূলক সবজির সরবরাহ কম। তাই কিছুটা দাম বাড়তি হলেও সরবরাহ অনুযায়ী সঠিক বাজারই রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে সবজির দাম তেমন বাড়েনি, স্থিরই রয়েছে বাজার। বাজারে শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৭০-৮০, বাধাকপি ৫০, ঢোপা বেগুন ৬০, কালো বেগুন ৪০ ও শিম ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪৫-৫০, পেঁপে ৪৫, হাইব্রিড শসা ৫০, দেশি শসা ৭০, ঢেরশ ৬০, কাঁচা মরিচ ৯০ ও লাউ প্রতি পিছ ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১১০ টাকা, আমদানি পেয়াঁজ ৮০-৯০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০-২০ টাকা করে কমেছে। তবে অন্যান্য জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় অসন্তোষ ক্রেতাদের মধ্যে।

বড় বাজারে বাজার করতে আসা নাইমা জান্নাত জানান, পাবনায় ব্যাপক সবজির আবাদ হয়। এখন বাজারে শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহ, অথচ দামে কমতি নেই। যেখানে হাত দেই সেখানেই আগুন। নিজেদের উৎপাদিত সবজি যদি এভাবে অতিরিক্ত দামে খেতে হয় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আর কই রইলো?
আরেক ক্রেতা আশিষ বলেন, আলুর দাম কমছেই না। আলুটা সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, পেঁয়াজ ছেড়ে এখন আলু নিয়ে খেলা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

লাইব্রেরী বাজারে বাজার করতে এসেছেন হাসান রহমান। দোকানদারের সাথে তার দরকষাকষি দেখে এগিয়ে গেলে তিনি জানান, গত পরশু আলু নিলাম ৮৫ টাকায়, আর আজ বলছে ১০০ টাকা। একদিনের মধ্যে ১৫ টাকা দাম বেড়ে গেলো। বেসরকারি চাকুরী করি, হিসেবের সংসার৷ কিন্তু বাজার বাবদ মাসিক খরচই হিসেব করতে পারছি না।
আরেক ক্রেতা রশিদ জানান, দিনশেষে আমাদের ভাগ্য বদলায় না। নতুন সরকার আসলো, সবাই ধারণা করেছিলাম অন্তত বাজারটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কিন্তু সেটা দেখছি না। যে বাজার সেটাই রয়ে গেছে। সেই ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। শুধু মুলা, মিষ্টিকুমড়া ও লাউয়ের মত দু’একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে।

বড়বাজারের বিক্রেতা মহিদুল ইসলাম জানান, পাবনার পুরো বাজারে আমদানি আলুর দাপট। দেশী আলু দুএক বস্তা আসে, এ দিয়ে বাজার চলে না। সরকারি বন্ধের দিনে পাবনায় আমদানি পণ্য ঢোকে না, এর ফলে শুক্র ও শনিবার আমদানির আলুর দাম বেশি হয়। এ নিয়ে অবশ্য ক্রেতাদের সাথে অতিরিক্ত কথা খরচ করতে হয়।
শীতকালীন সবজির ব্যাপারে এ বিক্রেতা বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় পাবনায় সাধারণত সবজির দাম কম হবার কথা। কিন্তু এবার একটু বেশিতেই বেচা বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দফায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় আবাদে দেরি হয়েছে, কোথাও আবাদই করা যায়নি। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি। এজন্য দাম কিছুটা বেশি। তবে কৃষকের দিক বিবেচনায় দাম ঠিক আছে।

আরেক বিক্রেতা শরীফ বলেন, এ সপ্তাহ ধরে বাজার একই। কোনোটার দাম ৫/১০ টাকা কমছে, আবার কোনোটার বাড়ছে। যেমন গত দুদিনের তুলনায় ফুলকপির দাম ১৫/২০ টাকা কমেছে, অন্যটায় বেড়েছে। সবমিলিয়ে বাজার একই। আমাদের যেমন কেনা তেমন বেচা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

আমদানির আলুতে চলছে পাবনার বাজার, কেজি ১০০ টাকা

প্রকাশিত : ০৫:৫৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৪

আমদানির আলুতে চলছে পাবনার বাজার। ফলে সরকারি বন্ধের দিনে ক্রেতাদের বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে। প্রতি কেজি নতুন আলুর দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। গত বৃহস্পতিবারও এর দাম ছিলো ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। এদিকে সবজি উৎপাদনে পাবনা সমৃদ্ধ হলেও দামে বেশি শীতকালীন সবজিরও। সবজি সহ নিতপণ্যের অতিরিক্ত দাম নিয়ে নাভিশ্বাস ছুটছে ক্রেতাদের। তবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ওঠার ঘনিয়ে আসা এসময়ে কিছুটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম।
সরেজমিনে পাবনার বড় বাজার ও লাইব্রেরী বাজার সহ কয়েকটি বাজারে দেখা যায়, বাজারে মুলা, কপি, বেগুন ও শিম সহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি উঠেছে। তবে এর দাম অনেকটা বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের। বিক্রেতারা বলছেন অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় সবজির ক্ষেত নষ্ট ও আবাদ কম হওয়ায় পাবনায় এবার তুলনামূলক সবজির সরবরাহ কম। তাই কিছুটা দাম বাড়তি হলেও সরবরাহ অনুযায়ী সঠিক বাজারই রয়েছে।

গত এক সপ্তাহে সবজির দাম তেমন বাড়েনি, স্থিরই রয়েছে বাজার। বাজারে শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৭০-৮০, বাধাকপি ৫০, ঢোপা বেগুন ৬০, কালো বেগুন ৪০ ও শিম ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪৫-৫০, পেঁপে ৪৫, হাইব্রিড শসা ৫০, দেশি শসা ৭০, ঢেরশ ৬০, কাঁচা মরিচ ৯০ ও লাউ প্রতি পিছ ৩০-৪০ টাকা। এছাড়া পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১১০ টাকা, আমদানি পেয়াঁজ ৮০-৯০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম ১০-২০ টাকা করে কমেছে। তবে অন্যান্য জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় অসন্তোষ ক্রেতাদের মধ্যে।

বড় বাজারে বাজার করতে আসা নাইমা জান্নাত জানান, পাবনায় ব্যাপক সবজির আবাদ হয়। এখন বাজারে শীতকালীন সবজির ব্যাপক সরবরাহ, অথচ দামে কমতি নেই। যেখানে হাত দেই সেখানেই আগুন। নিজেদের উৎপাদিত সবজি যদি এভাবে অতিরিক্ত দামে খেতে হয় তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে আর কই রইলো?
আরেক ক্রেতা আশিষ বলেন, আলুর দাম কমছেই না। আলুটা সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়, পেঁয়াজ ছেড়ে এখন আলু নিয়ে খেলা শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

লাইব্রেরী বাজারে বাজার করতে এসেছেন হাসান রহমান। দোকানদারের সাথে তার দরকষাকষি দেখে এগিয়ে গেলে তিনি জানান, গত পরশু আলু নিলাম ৮৫ টাকায়, আর আজ বলছে ১০০ টাকা। একদিনের মধ্যে ১৫ টাকা দাম বেড়ে গেলো। বেসরকারি চাকুরী করি, হিসেবের সংসার৷ কিন্তু বাজার বাবদ মাসিক খরচই হিসেব করতে পারছি না।
আরেক ক্রেতা রশিদ জানান, দিনশেষে আমাদের ভাগ্য বদলায় না। নতুন সরকার আসলো, সবাই ধারণা করেছিলাম অন্তত বাজারটা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কিন্তু সেটা দেখছি না। যে বাজার সেটাই রয়ে গেছে। সেই ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। শুধু মুলা, মিষ্টিকুমড়া ও লাউয়ের মত দু’একটা সবজি ১০০ টাকার নিচে।

বড়বাজারের বিক্রেতা মহিদুল ইসলাম জানান, পাবনার পুরো বাজারে আমদানি আলুর দাপট। দেশী আলু দুএক বস্তা আসে, এ দিয়ে বাজার চলে না। সরকারি বন্ধের দিনে পাবনায় আমদানি পণ্য ঢোকে না, এর ফলে শুক্র ও শনিবার আমদানির আলুর দাম বেশি হয়। এ নিয়ে অবশ্য ক্রেতাদের সাথে অতিরিক্ত কথা খরচ করতে হয়।
শীতকালীন সবজির ব্যাপারে এ বিক্রেতা বলেন, অন্যান্য জেলার তুলনায় পাবনায় সাধারণত সবজির দাম কম হবার কথা। কিন্তু এবার একটু বেশিতেই বেচা বিক্রি হচ্ছে। কয়েক দফায় বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও জমিতে জলাবদ্ধতা থাকায় আবাদে দেরি হয়েছে, কোথাও আবাদই করা যায়নি। এর ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি। এজন্য দাম কিছুটা বেশি। তবে কৃষকের দিক বিবেচনায় দাম ঠিক আছে।

আরেক বিক্রেতা শরীফ বলেন, এ সপ্তাহ ধরে বাজার একই। কোনোটার দাম ৫/১০ টাকা কমছে, আবার কোনোটার বাড়ছে। যেমন গত দুদিনের তুলনায় ফুলকপির দাম ১৫/২০ টাকা কমেছে, অন্যটায় বেড়েছে। সবমিলিয়ে বাজার একই। আমাদের যেমন কেনা তেমন বেচা।

বিজনেস বাংলাদেশ/ডিএস