০৯:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত শাহজাদপুরের গাছিরা

শীতের আগমণ শুরুতেই শাহজাদপুর প্রত্যন্ত এলাকায় খেজুর রস সংগ্রহ ব্যস্ত সময় পার করছে গাছিরা।

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ২০ বছর ধরে খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন গোলজার মোল্লা।শীতের আগমন শুরু হতে না হতেই শাহজাদপুরে প্রত্যন্ত এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। এ সব গাছের রস বিক্রি করে ৪ মাস সংসার চলবে। আগামী ৪ মাসে লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় হবে বলে আশা গাছিদের।

কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা প্রকৃতির ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদের লুকোচুরি, এ যেন শীত কালকেই জানান দিচ্ছে। কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতি, পাখির কল-কাকলি, মিষ্টি রোদ আর টাটকা খেজুর রসে জমে ওঠে শীতের আমেজ।

“আমাদের বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ।এই ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু হচ্ছে হেমন্ত। প্রত্যেক ঋতু প্রকৃতিতে নতুন নতুন রূপ রস ও সৌন্দর্য নিয়ে আসে।নবসাজে সেজে উঠে প্রকৃতি। নতুন নতুন দৃশ্য, শব্দ নিয়ে আসে প্রকৃতিতে।

তেমনি হেমন্ত ঋতু বাংলা বর্ষের চতুর্থ ঋতু।ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু হেমন্ত, শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে আমাদের মাঝে। এই ঋতুতেই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় সুস্বাদু খেজুর গাছের রস। অন্যান্য জেলার মতো সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় খেজুর গাছের রস সংগ্রহের প্রস্ততিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শাহজাদপুর উপজেলায় এক সময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্ততিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই উপজেলার গাছিরা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের গোলজার মোল্লা বলেন,খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে খেজুর গাছের মাথার অংশকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করি।প্রতিদিন বিকালে ছোট-বড় কলসি (মাটির পাত্র) গাছে বাঁধি, সকালে রস সংগ্রহ করি। সেই রস নিয়ে নিকটতম বাজারে গেলে সবাই খেজুরের রস খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করেন।আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ১৬ টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করি।প্রতিদিন ৩০ লিটার রস সংগ্রহ করি।প্রতি লিটার খেজুরের রস ৫০ টাকা ও এক গ্রাস ১০ টাকা করে বিক্রি করি।

উপজেলার মশিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর বলেন,আমার পুকুর পাড়ে ৮ টা খেজুর গাছ আছে।এই ৮ টা খেজুর গাছ থেকে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার খেজুরের রস বিক্রি করি।

ডিএস..///

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত শাহজাদপুরের গাছিরা

প্রকাশিত : ০৪:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

 

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ২০ বছর ধরে খেজুরের রস সংগ্রহ করছেন গোলজার মোল্লা।শীতের আগমন শুরু হতে না হতেই শাহজাদপুরে প্রত্যন্ত এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। এ সব গাছের রস বিক্রি করে ৪ মাস সংসার চলবে। আগামী ৪ মাসে লক্ষাধিক টাকা বাড়তি আয় হবে বলে আশা গাছিদের।

কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা প্রকৃতির ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টি রোদের লুকোচুরি, এ যেন শীত কালকেই জানান দিচ্ছে। কুয়াশা ঢাকা প্রকৃতি, পাখির কল-কাকলি, মিষ্টি রোদ আর টাটকা খেজুর রসে জমে ওঠে শীতের আমেজ।

“আমাদের বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ।এই ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু হচ্ছে হেমন্ত। প্রত্যেক ঋতু প্রকৃতিতে নতুন নতুন রূপ রস ও সৌন্দর্য নিয়ে আসে।নবসাজে সেজে উঠে প্রকৃতি। নতুন নতুন দৃশ্য, শব্দ নিয়ে আসে প্রকৃতিতে।

তেমনি হেমন্ত ঋতু বাংলা বর্ষের চতুর্থ ঋতু।ছয় ঋতুর অন্যতম ঋতু হেমন্ত, শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে আমাদের মাঝে। এই ঋতুতেই প্রকৃতিতে পাওয়া যায় সুস্বাদু খেজুর গাছের রস। অন্যান্য জেলার মতো সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় খেজুর গাছের রস সংগ্রহের প্রস্ততিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। তবে আগের তুলনায় বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শাহজাদপুর উপজেলায় এক সময় প্রচুর খেজুর গাছ ছিল। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। বর্তমানে খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্ততিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই উপজেলার গাছিরা।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের গোলজার মোল্লা বলেন,খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে খেজুর গাছের মাথার অংশকে ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি (দড়ি) বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করি।প্রতিদিন বিকালে ছোট-বড় কলসি (মাটির পাত্র) গাছে বাঁধি, সকালে রস সংগ্রহ করি। সেই রস নিয়ে নিকটতম বাজারে গেলে সবাই খেজুরের রস খাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে।আবার কেউ কেউ সকালেই এই রস জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করেন।আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ১৬ টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করি।প্রতিদিন ৩০ লিটার রস সংগ্রহ করি।প্রতি লিটার খেজুরের রস ৫০ টাকা ও এক গ্রাস ১০ টাকা করে বিক্রি করি।

উপজেলার মশিপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর বলেন,আমার পুকুর পাড়ে ৮ টা খেজুর গাছ আছে।এই ৮ টা খেজুর গাছ থেকে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার খেজুরের রস বিক্রি করি।

ডিএস..///