০৫:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে বিজয় মেলা উদ্বোধন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের একটা প্রত্যয় রয়েছে।

আমরা এই বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করে ছাড়বো ইন্শাআল্লাহ। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা এমন একটি স্থান খুঁজে বের করব যেখানে স্থায়ীভাবে বিজয় মেলাসহ বিভিন্ন মেলা উদযাপন করা যাবে’।

নগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে বুধবার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়

মহানগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে ১১ডিসেম্বর (বুধবার) ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন।

‘চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’ শিরোনামের এ ঘোষণাপত্রে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “যেহেতু জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে উদযাপন করার আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই, তাই জনগণের সম্মিলনে জাতীয় উৎসব পালনের প্রয়াস নিতে চাই।

“বিজয় উৎসব উদযাপনের ঘোষণা করছি। এ উৎসব বিজয় মেলা নামে অবহিত হবে।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বয়াক আহমেদ নেওয়াজ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তবর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ নেওয়াজ, ছাত্র প্রতিনিধি মো. জুবায়ের।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী।

মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বয়াক আহমেদ নেওয়াজ চট্টগ্রামের বিজয় মেলা শুরুর প্রেক্ষাপট বর্নণা করে বলেছেন, ১৯৮৯ সালে এ মাঠে বিজয় মেলা শুরু হয়েছিল।
“৯১ সালে এটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।“

বিজয় মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়ভাবে বিচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “যে যে দল করুক না কেন মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় সন্তান। তাদের সম্মান করতে হবে। কে কোন দল করে সেটা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”

১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রামের এ বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হত সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে। পরে সেখানে জিয়া স্মৃতি শিশু পার্ক করা হয়। মেলা সরিয়ে নেওয়া হয় বিপরীতে আউটার স্টেডিয়ামে।

‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, বীর বাঙালির অহংকার’- এই স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামে বিজয়ের মাসে বিজয় মেলার আয়োজন করত ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ’। সেই মেলা হত এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামে।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর এবার মেলার আয়োজনের দায়িত্ব নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রথমে আউটার স্টেডিয়ামে মেলার পরিকল্পনা নিলেও সেখান থেকে সরে এসে পুরানো জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধকে সামনে রেখে চট্রগ্রামের সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত, একক সংগীত, নাচ ও আবৃত্তির আয়োজন থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

মেলার অংশ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এবার বিজয় মেলার আয়োজক জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম।

ডিএস///

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রামে বিজয় মেলা উদ্বোধন

প্রকাশিত : ০৫:৩৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেখানে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমাদের একটা প্রত্যয় রয়েছে।

আমরা এই বাংলাদেশকে বৈষম্যমুক্ত করে ছাড়বো ইন্শাআল্লাহ। সকলের মতামতের ভিত্তিতে আমরা এমন একটি স্থান খুঁজে বের করব যেখানে স্থায়ীভাবে বিজয় মেলাসহ বিভিন্ন মেলা উদযাপন করা যাবে’।

নগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে বুধবার ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়

মহানগরীর কাজীর দেউড়ি সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে ১১ডিসেম্বর (বুধবার) ঘোষণাপত্র পাঠের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন।

‘চলো দুর্জয় প্রাণের আনন্দে’ শিরোনামের এ ঘোষণাপত্রে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “যেহেতু জাতি, ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সম্মিলিতভাবে উদযাপন করার আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই, তাই জনগণের সম্মিলনে জাতীয় উৎসব পালনের প্রয়াস নিতে চাই।

“বিজয় উৎসব উদযাপনের ঘোষণা করছি। এ উৎসব বিজয় মেলা নামে অবহিত হবে।”

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বয়াক আহমেদ নেওয়াজ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের অন্তবর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহ নেওয়াজ, ছাত্র প্রতিনিধি মো. জুবায়ের।

উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী।

মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বয়াক আহমেদ নেওয়াজ চট্টগ্রামের বিজয় মেলা শুরুর প্রেক্ষাপট বর্নণা করে বলেছেন, ১৯৮৯ সালে এ মাঠে বিজয় মেলা শুরু হয়েছিল।
“৯১ সালে এটা আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।“

বিজয় মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম মুক্তিযোদ্ধাদের দলীয়ভাবে বিচার না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “যে যে দল করুক না কেন মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় সন্তান। তাদের সম্মান করতে হবে। কে কোন দল করে সেটা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।”

১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া চট্টগ্রামের এ বিজয় মেলা অনুষ্ঠিত হত সার্কিট হাউস সংলগ্ন মাঠে। পরে সেখানে জিয়া স্মৃতি শিশু পার্ক করা হয়। মেলা সরিয়ে নেওয়া হয় বিপরীতে আউটার স্টেডিয়ামে।

‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, বীর বাঙালির অহংকার’- এই স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামে বিজয়ের মাসে বিজয় মেলার আয়োজন করত ‘মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদ’। সেই মেলা হত এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আউটার স্টেডিয়ামে।

ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর এবার মেলার আয়োজনের দায়িত্ব নেয় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রথমে আউটার স্টেডিয়ামে মেলার পরিকল্পনা নিলেও সেখান থেকে সরে এসে পুরানো জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়।

বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান ও চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধকে সামনে রেখে চট্রগ্রামের সর্বস্তরের সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পীদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত, একক সংগীত, নাচ ও আবৃত্তির আয়োজন থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

মেলার অংশ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এবার বিজয় মেলার আয়োজক জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম।

ডিএস///