চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসদরে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্স সিকিউর সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে সীতাকুণ্ড কামিল মাদ্রাসার ছাত্ররা।
সোমবার (১৩ জানুয়ারী) সকাল ১১টায় ছাত্ররা শপিং কমপ্লেক্সে দোকান বরাদ্দ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগে এর পূর্ব-পশ্চিমের দুটি প্রবেশদ্বারেই তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় তারা প্রথমে মার্কেটের অভ্যন্তরে ও পরে মার্কেটের বাহিরে মানববন্ধন করে। এরপর ছাত্রদের একটি মিছিল সীতাকুণ্ড পৌরসদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মানবন্ধনে যোগ দেয়।
এদিকে মার্কেটের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। মার্কেটের অভ্যন্তরে একটি ব্যাংকের শাখা অফিস ও কয়েকটি ব্যাংকের বুথ রয়েছে। আছে খাবারের দোকানও। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৭টা) মার্কেটের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলতে দেখা যায়। বাহিরে সিকিউর সিটি শপিং কমপ্লেক্স লেখা সাইনবোর্ডটি ছিড়ে সেখানে ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ সিকিউর সিটি’ লেখা সম্বলিত ফেস্টুন লাগানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার বরাদ্দ পাওয়া ১০৪টি দোকানের সবকটি দোকানই মার্কেটের পিছন দিকে অর্থাৎ সর্ব দক্ষিণে। যা মার্কেটের সম্মুখ দোকান সমূহের তুলনায় ৫ শতাংশ ভ্যালু বহন করে। অর্থাৎ দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে উনিশ-বিশ হওয়ার কথা থাকলেও মাদ্রাসাকে এক-বিশ করে চরমভাবে ঠকানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে সম্মুখের শতাধিক দোকান বিক্রি কিংবা ভাড়া হলেও এ পর্যন্ত মাদ্রাসার ১০৪টি দোকানের একটিও ভাড়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিকিউর সিটি শপিং কমপ্লেক্সের অধিকাংশ ভূমির মালিক সীতাকুণ্ড কামিল এম এ মাদ্রাসা। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা মার্কেটটিতে মাদ্রাসার পক্ষে প্রকল্প কমিটির প্রধান ছিলেন ব্যবসায়ী কামাল উল্লাহ। যিনি নিজেই আবার এ মার্কেটের কিছু ভূমির মালিক। ফলে দোকান বরাদ্দের সময় তিনি সামনের সারির দোকানগুলো নিজের জন্য রেখে মাদ্রাসাকে পেছনের দোকানগুলো ধরিয়ে দেন। এ তথ্য জানিয়েছেন খোদ সিকিউর সিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আকতার হোসাইন মামুন। তিনি বলেন, মাদ্রাসাকে আমরা পিস্তল ঠেকিয়ে দোকান দেয়নি। তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প কমিটির প্রধান কামাল উল্লাহ দোকান বরাদ্দের সময় নিজের জন্য সামনের দোকান নিয়ে নিয়েছেন। তখন সিকিউর সিটি তাকে মাদ্রাসার সব দোকান পিছনে পড়ে যাচ্ছে জানালে তিনি বলতেন, ‘মাদ্রাসাকে আমি বুঝাবো।
আন্দোলকারী ছাত্রদের একজন নুরুল্লাহ পায়েল বলেন, মাদ্রাসার এক ইঞ্চি জমি নিয়েও আমরা নয় ছয় হতে দেব না। প্রয়োজনে মার্কেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
এদিকে সিকিউর সিটির ডেভেলপর প্রতিষ্ঠান সিকিউর প্রপার্টিজ লিঃ এর বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওসমান গণি বলেছেন, সিকিউর কতৃপক্ষ প্রথমে মাদ্রাসাকে ১০৪টি দোকান বরাদ্ধ দেয়। পরে আমরা তদন্ত করে দেখতে পায় মাদ্রাসার আরও ১৫টি দোকান পাওনা রয়েছে। ২০২২ সালে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর তিন বছরেও সিকিউর মাদ্রাসার ১৫টি দোকান বুঝিয়ে দেয়নি। কামাল উল্লাহ ও সিকিউর যোগসাজসে মাদ্রাসাকে সবগুলো দোকান পিছনে দিয়েছে।
তিনি বলেন, সর্বশেষ ১৫টির মধ্যে ১২৮ নং দোকানটি মোটামুটি সামনে ছিল। সে দোকানটিও তারা মাদ্রাসাকে না জানিয়ে ও মাদ্রাসা কমিটির বর্তমান সভাপতি এডিসি (শিক্ষা) শরীফ উদ্দিনের মৌখিক নির্দেশনা অমান্য করে বিক্রয় করে দিয়েছে। এরপর মাদ্রাসা ও সিকিউরের উপস্থিতে মার্কেট পরিমাপ করে ১২৭৬ স্কয়ার ফুট মাদ্রাসার পাওনা রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। পরে সিকিউর কর্তৃপক্ষ নানা টালবাহানা করে গত ১১ জানুয়ারী বৈঠকে বসে। কিন্তু বৈঠকে ১৫টি দোকান ও অবশিষ্ট পরিমাণে জায়গা বুঝিয়ে দেয়ার লিখিত সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সিকিউর। বিষয়টি জানাজানি হলে মাদ্রাসা ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়।
এদিকে সিকিউর সিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আকতার হোসাইন মামুন বলেন, দোকান বুঝিয়ে দেয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময় চেয়েছি। তারা এর আগেই হার্ডলাইনে গিয়েছে। এখন আমাদের কিছু করণীয় নেই।
ব্যবসায়ী কামাল উল্লাহ বলেন, মাদ্রাসা ঠকেনি বরং সিকিউর সিটিকে জায়গা দিয়ে আমি ঠকেছি। আমি চাইলে নিজেই আমার জায়গায় মার্কেট করতে পারতাম। আমি তা না করে সিকিউরকে দিয়েছি। এতে মাদ্রাসাসহ আজ অনেকেই মার্কেটের মালিক হয়েছে। দোকান পিছনে হোক আর যেখানেই হোক মার্কেটের মধ্যেইতো আছে।
এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমি পদাধিকার বলে অনেক প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু আমাকে বেশিরভাগ সময় দিতে হচ্ছে শিক্ষা ও আইসিটিতে। সিকিউর সিটির বিষয়টি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ভাল বলতে পারবে। এছাড়া সেখানে আরও একাধিক মালিক রয়েছেন আপনি তাদের সাথেও কথা বলেতে পারেন।
ডিএস//




















