“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” এই প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দিনব্যাপী তারুণ্যের মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ফৌজদারহাটস্থ ডিসি পার্কে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের মাসব্যাপী ফুল উৎসবে আয়োজিত তারুণ্যের মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবটি উদ্বোধন করা হয়।
চট্টগ্রামের স্থানীয় সরকার’র উপ-পরিচালক মোঃ নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম বলেন, তরুণদের অদম্য সাহস ও রক্তের বিনিময়ে আজকের বাংলাদেশ। অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী তরুণদের সাহস সারা বাংলাদেশকে সাহসী করে তুলেছিল, সাহসী করে তুলেছে আমাদেরকে। তাদের অদম্য সাহস ও রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ। তরুণদের নিয়েই আমাদের সামনে দিকে এগিয়ে যেতে হবে। স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে তরুণ সমাজকে মাদক, জঙ্গিবাদ ও সংঘাতমুক্ত করতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় এই জায়গাটি ছিল মাদকের অভয়ারণ্য, ছিলো মাদকসেবীদের দখলে। অবৈধভাবে ইট ভাটার মাটি কাটার জন্য সেখানে গাছ উঠতে দেওয়া হতো না। পরে জেলা প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগীতায় মাদকের অভয়ারণ্য খ্যাত জায়গাটি মাদকসেবীদের হাত থেকে দখল মুক্ত হয়। যেহেতু পার্কটি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আবার জায়গাটি সরকারের খাস জায়গা। সে জন্য পার্কটিকে ডিসি পার্ক নামে নামকরণ করা হয়েছিল। আগামীতে যদি সময় ও সুযোগ হয় নির্মল আনন্দের এই চমৎকার জায়গাটিকে অন্য কোন নামে নামকরণ করা যায় সেটা ভেবে দেখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক।
দেশী-বিদেশী ১৩৬ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুল দিয়ে ডিসি পার্কটিকে ফুল উৎসব উপলক্ষে সাজানো হয়েছে। বিদেশী ফুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টিউলিপ, লিলিয়াম, ম্যাগনোলিয়া, ক্যামেলিয়া ফুল। দেশী ফুলের মধ্যে রয়েছে ১৫ প্রজাতির গাঁদা, জবা, কৃষ্ণচূড়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন ফুল।
অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) এ.কে.এম. গোলাম মোরশেদ খান, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে. এম. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার মোঃ আলাউদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, ছাত্র সমন্বয়ক ওমর ফারুক সাগর, সমন্বয়ক মোঃ নোমান, ছাত্র আন্দোলনে আহত আবদুল্লাহ আল শাহেদ, সমন্বয়ক এনামুল হক, জোবায়েরুল হক, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আন্দোলনের অন্যতম প্রবাসী হাফেজ মোহাম্মদ নাঈম উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী অসংখ্য ছাত্র, তাদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও সুধীজনসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ও শেষে একক বাউল সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
ডিএস//




















