গ্যাস সংকট, চাহিদার তুলনায় গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধি না পাওয়া এবং পাইপলাইনে বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ থাকায় গত ৯ বছরে এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৮০০ গুন। এক্ষেত্রে সরকারের নীতিমালা সহজ করার বিষয়টিও কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এলপিজি গ্যাসের ব্যবহার বাড়লেও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়েনি। ফলে মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং প্রাণহানিও হচ্ছে।
বিষয়টি রীতিমত উদ্বেগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে। সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিভাগ। এই বিভাগের উপ-সচিব আকরামুজ্জামান ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। প্রতিবেদনে এলপিজি ব্যবহারকারীদের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সিলিন্ডারের গায়ে খোদাই করে লেখা মেয়াদ দেখে ক্রয় করার পাশাপাশি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনার কারণ এবং প্রতিকারের উপায়ের ওপরে প্রচারণা চালাতে হবে। ব্যবহারকারীদের সচেতন করে তুলতে হবে। এলপিজির বোতল নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া, আধুনিক সেফটি রেগুলেটর ব্যবহার করতে হবে।
প্রতি তিন বছর পর রেগুলেটর এবং প্রতিবছর একবার হোস পাইপ পরিবর্তন করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বিস্ফোরক পরিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদন ঘেটে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে সচেতনতার অভাবে। গ্রাহকরা এলপিজি’র সিলিন্ডারটি এমন জায়গায় রাখেন যে, লিক হয়ে গ্যাস বের হলেও তা ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। রান্না ঘরের জানালা খোলা রাখা হয়না। আবার গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে ভাল্ব, পাইপ লাইন বা চুলা থেকে গ্যাস নির্গত হচ্ছে কী-না, ব্যবহারকারীরা তাও সব সময় খেয়াল করেন না। বেশির ভাগ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয় গ্যাসে ঘর ভরে থাকছে। যখনই দেশলাইয়ের কাঠি জ্বালানো হয়, তখনই পেট্রোলিয়াম গ্যাসে আগুন ধরে পুড়ে যাচ্ছে জীবন।
তবে গ্যাসের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া মানুষের কোনও পরিসংখ্যান নেই জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে। যদিও দিন দিন এধরনের দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. শামসুল আলম বলেন, আমরা বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বলেছি, তারা যেন নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকদের সচেতন করেন। গ্রাহকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ব্যবসায়িদের অনুরোধও করা হয়েছে। কোনও কোনও কোম্পানিকে বিজনেস প্রমোশনের জন্য নানা ক্যাম্পেইন করতে দেখা গেলেও গ্রাহকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করতে তেমন দেখা যায় না। তিনি বলেন, আমাদের ফ্ল্যাট বাড়িগুলোর প্রতিটি রান্নাঘরের যে অবস্থা, তাতে বিস্ফোরণ ঘটা অস্বাভাবিক নয়।
রান্নাঘরগুলোতে যেমন বাতাস পৌঁছানো কঠিন, তেমনই বাতাস বের হওয়ার জন্য যথেষ্ট বড় জানালা নেই।’ গ্রাহকরা নিজেদের স্বার্থেই এসব দিকে নজর দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। জানা গেছে, দেশের এলপিজি বিপণন কোম্পানিগুলোকে ডেকে সম্প্রতি এক বৈঠক করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, মানুষ রান্নার কাজে বিপুল পরিমাণ এলপিজি ব্যবহার করছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। কোনও অবস্থাতেই একটি দুর্ঘটনাও কাম্য নয়। যাতে কোথাও দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন।

























