০৬:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর সিটির নতুন প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার খবরে এলাকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার অনুসারীরাসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি ও শওকত হোসেন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিক্ষিপ্তভাবে আনন্দ মিছিল হয়েছে। নতুন প্রশাসক গাজীপুরে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

শওকত হোসেন সরকার এর আগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একসময় জেলা বিএনপির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দুই মেয়াদে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও স্থানীয় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নতুন প্রশাসক গাজীপুর মহানগর বিএনপি-র সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন সরকারের সন্তান। পারিবারিকভাবেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগপর্যন্ত তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার একই ইউনিয়নে প্রায় এক দশক চেয়ারম্যান ছিলেন। এরও আগে তাঁর দাদা জবেদ আলী সরকার এবং চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার পৃথক সময়ে দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় প্রজন্মজুড়ে এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর মতে, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, এলাকাভিত্তিক সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা এবং নগরবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই তাঁকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিয়োগের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘এই দায়িত্ব আমার জন্য বড় সম্মান, একই সঙ্গে বড় দায়িত্ব। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার কাছে দোয়া চাই-আমি যেন গাজীপুর সিটির মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি।’

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বসুন্ধরা শুভসংঘ নীলফামারী জেলা শাখার আলোচনা সভা

গাজীপুর সিটির নতুন প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার

প্রকাশিত : ০৬:২৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেলেন মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার খবরে এলাকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার অনুসারীরাসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি ও শওকত হোসেন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিক্ষিপ্তভাবে আনন্দ মিছিল হয়েছে। নতুন প্রশাসক গাজীপুরে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

শওকত হোসেন সরকার এর আগে গাজীপুর মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একসময় জেলা বিএনপির সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। দুই মেয়াদে তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সফল চেয়ারম্যান ছিলেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও স্থানীয় সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।

নতুন প্রশাসক গাজীপুর মহানগর বিএনপি-র সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন সরকারের সন্তান। পারিবারিকভাবেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগপর্যন্ত তিনি কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর বাবা গিয়াসউদ্দিন সরকার একই ইউনিয়নে প্রায় এক দশক চেয়ারম্যান ছিলেন। এরও আগে তাঁর দাদা জবেদ আলী সরকার এবং চাচা সোহরাব উদ্দিন সরকার পৃথক সময়ে দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় প্রজন্মজুড়ে এই অভিজ্ঞতা নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব পালনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর মতে, স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, এলাকাভিত্তিক সমস্যা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা এবং নগরবাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কারণেই তাঁকে প্রশাসক হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নিয়োগের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘এই দায়িত্ব আমার জন্য বড় সম্মান, একই সঙ্গে বড় দায়িত্ব। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই। নগরকে আরও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার কাছে দোয়া চাই-আমি যেন গাজীপুর সিটির মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারি।’

ডিএস./