বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভিসা প্রতারণা এবং অনলাইন থাই জুয়া ও ক্যাসিনো পরিচালনাকারী চক্রের বিরুদ্ধে জোরালো অভিযান চালিয়ে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) নীলফামারীতে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২২টি মামলা দায়ের করেছে জেলা পুলিশ। এসব মামলায় ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৮১ জন এজাহারভুক্ত আসামি ছাড়াও প্রায় ২০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নীলফামারী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবিএম ফয়জুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলার সৈয়দপুর, কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলাকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করত। পরে বিদেশে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া ভিসা, জাল কাগজপত্র ও প্রতারণামূলক পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথি সরবরাহ করত। নির্ধারিত সময়ে বিদেশে যেতে না পারলে প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেত।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একই চক্রের সদস্যদের একটি অংশ অনলাইনে থাই জুয়া, ক্যাসিনো ও অন্যান্য অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনার সঙ্গেও জড়িত। তারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
জেলা পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ২২টি মামলা রুজু করা হয়। মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ভিসা প্রতারণা ও অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অর্থ আত্মসাৎ এবং তরুণদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তাই এ ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবিএম ফয়জুল ইসলাম বলেন, “ভিসা প্রতারণা, থাই জুয়া ও অনলাইন ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। কোথাও এ ধরনের তথ্য পেলেই তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ছয় মাসে ২২টি মামলা দায়ের এবং ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিদেশে চাকরির নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে অর্থ লেনদেনের আগে সরকারি অনুমোদন, লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়া বা ভিসা প্রতারণা সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় বা জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
ডিএস./





















