০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

রংপুরে দুরারোগ্য রোগীদের চিকিৎসায় ৫০ লাখ টাকার অনুদান

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় ও দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান কার্যক্রম শুরু রংপুরে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া এ অর্থ থেকে ১০০ জন রোগীকে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হাসপাতাল ভিত্তিক যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ কমিটি গঠন করেছে।এই কমিটির অনুমোদনে ১০০জন রোগি ৫০ হাজার করে টাকা পেয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের হলরুমে এ কমসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল আহসান সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।আর্থিক সহায়তার টাকা ১০০জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় বাংলাদেশ সরকারের এ বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বরাদ্দ পাওয়া ৫০ লাখ টাকা থেকে মোট ১০০ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আনোয়ারা বেগম, জয়নাল আবেদীন,সামিউল বাসারসহ ১০০ জন অসহায় রোগী এ সহায়তা পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

অনুদান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল আহসান সরকারকে।সদস্য হিসেবে রয়েছেন রংপুর গ্রুপের পরিচালক মো. আখতার আলী সরকার, পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার এবং তিনটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন রংপুর গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মিরাজুল মুহসিন।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন রংপুর গ্রুপের উপ-পরিচালক (অডিট) মো. মিজানুর রহমান।

আবেদনকারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র,আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।একই সঙ্গে অনুদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে দাবি কমিটির।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলেন, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের অনুদানের আওতায় এনে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নাজমুল আহসান সরকার বলেন, “সরকারের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য যেন প্রকৃত অসহায় রোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় রোগী নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের আবেদন, চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়, যাতে সরকারি অনুদানের সুফল প্রকৃত উপকারভোগীরাই পান।

সদস্য সচিব মো. মিরাজুল মুহসিন বলেন, “কমিটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে যোগ্য রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। চিকিৎসার মতো ব্যয়বহুল ক্ষেত্রে এ ধরনের সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে একজন প্রকৃত রোগীও বঞ্চিত না হন।”

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

রংপুরে দুরারোগ্য রোগীদের চিকিৎসায় ৫০ লাখ টাকার অনুদান

প্রকাশিত : ০৫:০৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত অসহায় ও দুঃস্থ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান কার্যক্রম শুরু রংপুরে।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে বরাদ্দ পাওয়া এ অর্থ থেকে ১০০ জন রোগীকে মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হাসপাতাল ভিত্তিক যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ কমিটি গঠন করেছে।এই কমিটির অনুমোদনে ১০০জন রোগি ৫০ হাজার করে টাকা পেয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়ামের হলরুমে এ কমসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল আহসান সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।আর্থিক সহায়তার টাকা ১০০জনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় বাংলাদেশ সরকারের এ বিশেষ মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বরাদ্দ পাওয়া ৫০ লাখ টাকা থেকে মোট ১০০ জন রোগীকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আনোয়ারা বেগম, জয়নাল আবেদীন,সামিউল বাসারসহ ১০০ জন অসহায় রোগী এ সহায়তা পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

অনুদান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল আহসান সরকারকে।সদস্য হিসেবে রয়েছেন রংপুর গ্রুপের পরিচালক মো. আখতার আলী সরকার, পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন সরকার এবং তিনটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষরা। সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন রংপুর গ্রুপের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মিরাজুল মুহসিন।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন রংপুর গ্রুপের উপ-পরিচালক (অডিট) মো. মিজানুর রহমান।

আবেদনকারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র,আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।একই সঙ্গে অনুদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাত বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে দাবি কমিটির।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বলেন, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহনে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত রোগীদের অনুদানের আওতায় এনে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মো. নাজমুল আহসান সরকার বলেন, “সরকারের এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য যেন প্রকৃত অসহায় রোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতের সুযোগ থাকবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় রোগী নির্বাচন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “রোগীদের আবেদন, চিকিৎসার কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হয়, যাতে সরকারি অনুদানের সুফল প্রকৃত উপকারভোগীরাই পান।

সদস্য সচিব মো. মিরাজুল মুহসিন বলেন, “কমিটি নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে আবেদন যাচাই করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা শেষে যোগ্য রোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে সুপারিশ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। চিকিৎসার মতো ব্যয়বহুল ক্ষেত্রে এ ধরনের সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে একজন প্রকৃত রোগীও বঞ্চিত না হন।”

ডিএস./