পাহাড়ে টানা বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়া অসহায় মানুষের পাশে বরাবরের মতোই মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অতিবর্ষণ ও পাহাড় ধসে বসতঘর হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া দুর্গম এলাকার অসহায় বৃদ্ধ কচাকলা ত্রিপুরাকে একটি নতুন ঘর উপহার দিয়েছে ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি মাটিরাঙ্গা জোন।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরের দিকে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের অত্যন্ত দুর্গম তপ্ত মাস্টারপাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ওই বৃদ্ধের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরের চাবি ও মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খাঁন, পিএসসি, জি-র সার্বিক সহযোগিতায় এবং নির্দেশনায় ঘরটি নির্মাণ করা হয়। জোন কমান্ডারের পক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে ঘরটি হস্তান্তর করেন মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল, পিএসসি, জি।
ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সুনি ত্রিপুরা, দয়া হেডম্যানপাড়ার হেডম্যান দ্বীনময় ত্রিপুরাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা ও মুষলধারে বর্ষণে মাটিরাঙ্গার পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরই একপর্যায়ে তপ্ত মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা কচাকলা ত্রিপুরার মাটির তৈরি একমাত্র বসতঘরটি পাহাড় ধসে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্যে তিনি প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে মাটিরাঙ্গা জোনের নজরে এলে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বৃদ্ধের এই মানবিক বিপর্যয় ও কষ্টের কথা বিবেচনা করে মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার দ্রুততম সময়ে নতুন ঘর নির্মাণের নির্দেশনা দেন। সেনাবাহিনীর অক্লান্ত পরিশ্রমে স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ করে আজ তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
আবেগাপ্লুত কচাকলা ত্রিপুরা বলেন:”সব হারিয়ে আমি যখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন সেনাবাহিনী আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সহযোগিতা আমার জীবনে নতুন করে বেঁচে থাকার ও মাথা গোঁজার আশার আলো জ্বালিয়েছে। আমি সারাজীবন সেনাবাহিনীর এই ঋণ ভুলব না।” আনন্দাশ্রু ভেজা চোখে তিনি সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের দীর্ঘায়ু ও সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অসহায় এক আদিবাসী বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়ে সেনাবাহিনীর এই দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, কার্বারি (পাড়া প্রধান) এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ খাগড়াছড়ি গুইমারা রিজিয়ন ও মাটিরাঙ্গা জোনের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। স্থানীয়দের মতে, সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগ পাহাড়ে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সম্প্রীতি ও আস্থার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
মাটিরাঙ্গা জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাসুদ খাঁন, পিএসসি, জি বলেন: দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি যেকোনো মানবিক সংকটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অতীতেও আমরা মানুষের সুখ-দুঃখে সঙ্গী হয়েছি, বর্তমানেও আছি। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে ঘর হারানো বৃদ্ধ কচাকলা ত্রিপুরাকে নতুন ঘর উপহার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমাদের এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ডিএস./



















