রংপুর নগরীর অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের শতাধিক শিশুর বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করা হয়েছে।মানবিক ও জনকল্যাণমূলক এই উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, ওষুধ, পোশাক ও খাবারও বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর জুম্মাপাড়ায় সাবেক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে জুম্মাপাড়া সচেতন নাগরিক কমিটি। মরহুম সাবেক কমিশনার ছোট মুসলিমের স্মরণে টানা ১০ম বারের মতো এ আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা বিএনপির সদস্য লিটন পারভেজ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মো. সামসুজ্জামান সামু বলেন, “মানুষের জন্য কাজ করাই প্রকৃত রাজনীতি ও সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক কর্তব্য। জুম্মাপাড়া সচেতন নাগরিক কমিটির এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে বলে আমি আশা করি।”
সভাপতির বক্তব্যে লিটন পারভেজ বলেন, “মরহুম ছোট মুসলিম মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করেছেন। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতিবছর এই কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে। অর্থাভাবে যেন কোনো শিশুর সুন্নতে খতনা বিলম্বিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে।”
আয়োজকরা জানান, এবারের কর্মসূচিতে এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের অন্তত ১০০ শিশুর সুন্নতে খতনা সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি শিশুর খতনা করা হয়। খতনা শেষে প্রতিটি শিশুকে একটি লুঙ্গি, গেঞ্জি, গামছা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবার প্রদান করা হয়। পুরো কার্যক্রমই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পরিচালিত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক দরিদ্র পরিবার সন্তানের সুন্নতে খতনা করাতে হিমশিম খায়। এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে আরও বেশি অসহায় মানুষ উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব চৌধুরী, জাসাসের রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক নুরুজ্জামান মানিক, জেলা যুবদলের সহসভাপতি বিপ্লব হোসেন বিটু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাপোলো চৌধুরী, দেউতি আইডিয়াল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং শিক্ষক মজিনুর রহমান মানিক।
রাজিব চৌধুরী বলেন, “সমাজের প্রতিটি বিত্তবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একটি করে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।”
নুরুজ্জামান মানিক বলেন, “মানবসেবার চেয়ে বড় ইবাদত নেই। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।”অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আলমগীর বাদশা বাবলু চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা জানান, গত এক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত এই গণসুন্নতে খতনা কর্মসূচির মাধ্যমে ইতোমধ্যে কয়েকশ শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।আয়োজকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দরিদ্র পরিবারগুলো যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে, তেমনি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ চর্চারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়েছে।
ডিএস./



















