০৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গঠন, ফিফাকে ‘অচল করার’ পরিকল্পনা

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অথচ খুব সহজেই টানা চতুর্থবার ফিফা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসাবনিকাশ পাল্টে দিলো। এই পরিকল্পনা বাতিল করেও রেহাই পাচ্ছেন না। তাকে গদি থেকে নামাতে এবার একজোট হয়েছেন উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নেতারা।

ইতালিয়ান-সুইস প্রশাসকের ওপর আস্থা হারানোর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছিল উয়েফা। আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে পুনঃনির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইংলিশ ও ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচানো তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের দাবি, টিকে থাকতে সোমবার হোয়াইট হাউজে ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

আর এবার দ্য টাইস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ‘ফিফাকে অচল’ করতে তিন কনফেডারেশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই প্রতিবেদনে যোগ করা হয়েছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট যদি ক্ষমতায় থেকে যান এবং আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে চান, তাহলে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে তারা।

এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের মতো করে একটি ‘বিদ্রোহী’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে এই তিন ফুটবল সংস্থা। আর ‘সরকারি বয়কট’ তো রয়েছেই। এর মানে তারা ফিফার সিদ্ধান্ত কিংবা পরিষদ ও কমিটি বৈঠকে থাকতে অস্বীকৃতি জানাবে।

দ্য টাইমস এক সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাকে যেতেই হবে। তা না হলে আমরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও রয়েছে – দক্ষিণ আমেরিকার বড় দেশগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেন নাকি লেবানন বা জিবুতির সঙ্গে খেলতে বেশি পছন্দ করবে? সবাই খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, বেশ কিছু দেশ ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেবল ১৫ দেশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মার্চের পুনঃনির্বাচনে দাঁড়াতে ৫৬ বছর বয়সী ২১১ ফিফা সদস্যের প্রায় সবার সমর্থন পেয়েছিলেন। জিততে তার ১০৬ ভোটের দরকার ছিল।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেননি। অবশ্য ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাতে সময় আছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানালে জরুরি ফিফা পরিষদ বৈঠক ডাকতেই হবে।

ডিএস

ট্যাগ :

টাঙ্গাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনুমোদনহীন ৪টি ক্লিনিক সিলগালা ও জরিমানা

ইনফান্তিনোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জোট গঠন, ফিফাকে ‘অচল করার’ পরিকল্পনা

প্রকাশিত : ১১:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। অথচ খুব সহজেই টানা চতুর্থবার ফিফা প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল তার। সব টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা হিসাবনিকাশ পাল্টে দিলো। এই পরিকল্পনা বাতিল করেও রেহাই পাচ্ছেন না। তাকে গদি থেকে নামাতে এবার একজোট হয়েছেন উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নেতারা।

ইতালিয়ান-সুইস প্রশাসকের ওপর আস্থা হারানোর কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছিল উয়েফা। আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে পুনঃনির্বাচনে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ইংলিশ ও ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এমন অবস্থায় চাকরি বাঁচানো তার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু গণমাধ্যমের দাবি, টিকে থাকতে সোমবার হোয়াইট হাউজে ‘বন্ধু’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

আর এবার দ্য টাইস এক প্রতিবেদনে বলেছে, ইনফান্তিনো পদত্যাগ না করলে ‘ফিফাকে অচল’ করতে তিন কনফেডারেশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই প্রতিবেদনে যোগ করা হয়েছে, ফিফা প্রেসিডেন্ট যদি ক্ষমতায় থেকে যান এবং আগামী নির্বাচনে লড়াই করতে চান, তাহলে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে তারা।

এর মধ্যে রয়েছে নিজেদের মতো করে একটি ‘বিদ্রোহী’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করবে এই তিন ফুটবল সংস্থা। আর ‘সরকারি বয়কট’ তো রয়েছেই। এর মানে তারা ফিফার সিদ্ধান্ত কিংবা পরিষদ ও কমিটি বৈঠকে থাকতে অস্বীকৃতি জানাবে।

দ্য টাইমস এক সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে, ‘সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে তাকে যেতেই হবে। তা না হলে আমরা তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এর মধ্যে ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও রয়েছে – দক্ষিণ আমেরিকার বড় দেশগুলো কি ফ্রান্স বা স্পেন নাকি লেবানন বা জিবুতির সঙ্গে খেলতে বেশি পছন্দ করবে? সবাই খুব দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, এখন আর পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, বেশ কিছু দেশ ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেবল ১৫ দেশের সমর্থন পেয়েছেন তিনি। অথচ সপ্তাহখানেক আগেও মার্চের পুনঃনির্বাচনে দাঁড়াতে ৫৬ বছর বয়সী ২১১ ফিফা সদস্যের প্রায় সবার সমর্থন পেয়েছিলেন। জিততে তার ১০৬ ভোটের দরকার ছিল।

এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থী তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়াতে এগিয়ে আসেননি। অবশ্য ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত হাতে সময় আছে। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশ ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানালে জরুরি ফিফা পরিষদ বৈঠক ডাকতেই হবে।

ডিএস