১২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

‘মক্কা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয় : তুরস্ক

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে তুলেছে তুরস্ক। তবে চুক্তিটি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’

ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা
ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ‘কৌশলগতভাবে’ সাদৃশ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ধারার অধীনে কোনো একজন সদস্যের ওপর আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, আক্রমণের শিকার কোনো দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এই জোট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে একটি সচিবালয়ও স্থাপন করা হবে।

ফিদান বলেন, তিনটি দেশ যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও এই চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিদান বলেন, মক্কায় তিন নেতার আলোচনায় এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। এর মধ্যে দেশগুলো কীভাবে একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারে, সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল। এটি থেকে বোঝা যায়, চুক্তিটি কেবল ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি করা হয়নি।

আঙ্কারার এমন দাবি সত্ত্বেও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর নির্ভর না করার বিষয়ে সৌদি আরবকে সতর্ক করেছেন।

ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেছেন, সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।

কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাইও একইভাবে চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি চুক্তিটির কথা উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করতে এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা

ডিএস./

‘মক্কা চুক্তি’ ইরানের বিরুদ্ধে নয় : তুরস্ক

প্রকাশিত : ১২:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি ত্রিপক্ষীয় জোট গড়ে তুলেছে তুরস্ক। তবে চুক্তিটি ইরানকে লক্ষ্য করে করা হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির নেতারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, এই চুক্তিতে ইরান বা অন্য কোনো দেশকে যৌথ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

শনিবার (৮ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ‘মক্কা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করেন। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবগুলোর ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে ফিদান বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে কোনো যৌথ হুমকি নির্ধারণ করিনি। যে দেশগুলো স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর ওপর হামলা চালাবে না, তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।’

ন্যাটোর সঙ্গে তুলনা
ফিদান এই চুক্তিকে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ‘কৌশলগতভাবে’ সাদৃশ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। এ ধারার অধীনে কোনো একজন সদস্যের ওপর আক্রমণকে সব সদস্যের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেকোনো হামলার প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, আক্রমণের শিকার কোনো দেশকে সহায়তার জন্য অনুরোধ করতে হবে এবং কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে হবে। এর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ থেকে শুরু করে গোলাবারুদ বা সামরিক ইউনিট মোতায়েন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এই জোট পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি রাজনৈতিক ও সামরিক কমিটি গঠন করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে একটি সচিবালয়ও স্থাপন করা হবে।

ফিদান বলেন, তিনটি দেশ যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, রসদ সরবরাহ, হুমকি মূল্যায়ন এবং সামরিক আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতাও এই চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফিদান বলেন, মক্কায় তিন নেতার আলোচনায় এটি ছিল অন্যতম প্রধান বিষয়। এর মধ্যে দেশগুলো কীভাবে একে অপরের সামরিক প্রযুক্তি থেকে উপকৃত হতে পারে, সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তির প্রস্তুতি প্রায় দুই বছর আট মাস ধরে চলছিল। এটি থেকে বোঝা যায়, চুক্তিটি কেবল ইরানকে ঘিরে বর্তমান উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় তৈরি করা হয়নি।

আঙ্কারার এমন দাবি সত্ত্বেও কিছু ইরানি কর্মকর্তা এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা নিরাপত্তার জন্য নতুন অংশীদারদের ওপর নির্ভর না করার বিষয়ে সৌদি আরবকে সতর্ক করেছেন।

ইরানের সংসদীয় জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য মাহমুদ নাভাবিয়ন বলেছেন, সৌদি নেতাদের বোঝা উচিত যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।

কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজাইও একইভাবে চুক্তিটিকে ‘কাগজে-কলমের চুক্তি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সরাসরি চুক্তিটির কথা উল্লেখ না করলেও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে নিজেদের ওপর নির্ভর করতে এবং ‘প্রকৃত ভ্রাতৃত্ব’ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন।

সূত্র : আল জাজিরা

ডিএস./