০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ রেল চলাচলে গুরুত্বারোপ

ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রেলপথ পরিদর্শনে মহাব্যবস্থাপক

রেলপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান যাচাই করতে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়ে ট্র্যাক, ব্রিজ, বিভিন্ন স্থাপনা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, স্টেশন ও রেলওয়ের জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রেল পরিচালনায় নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

পরিদর্শনকালে মহাব্যবস্থাপক বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ওয়েটিং রুম ও ওয়াশরুম ঘুরে দেখেন। এসব স্থাপনার সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবহারযোগ্যতা পর্যবেক্ষণ করে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

একই সঙ্গে স্টেশন এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান আরও উন্নত করা, যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিদর্শনের সময় ট্রেনের কোচের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। রেলওয়ের সম্পত্তি ও জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং রেলওয়ের সার্বিক অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে রেলপথের ট্র্যাক, ব্রিজ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি এবং কোথাও কোনো ত্রুটি বা ঝুঁকি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, “রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের উন্নত ও স্বস্তিদায়ক সেবা দেওয়াই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্টেশন, ওয়েটিং রুম, ওয়াশরুম ও ট্রেনের অভ্যন্তরের পরিচ্ছন্নতা আরও উন্নত করতে হবে। একই সঙ্গে রেলপথ ও স্থাপনাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

রেলপথ ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে জামালপুর টাউন স্টেশন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, রেলওয়ের জায়গায় সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং স্টেশন এলাকাকে আরও নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে রেলওয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার উপযোগী বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়। রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভীরুল ইসলাম, সিওপিএস (পূর্ব) মো. সফিকুর রহমান, ডিআরএম/ঢাকা, কমান্ড্যান্ট/ঢাকা, বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে রেলপথের অবকাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেরপুরে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ!

যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ রেল চলাচলে গুরুত্বারোপ

ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ রেলপথ পরিদর্শনে মহাব্যবস্থাপক

প্রকাশিত : ০৫:১৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রেলপথের নিরাপত্তা, অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা এবং যাত্রীসেবার মান যাচাই করতে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও স্টেশন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী এ পরিদর্শনে ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়ে ট্র্যাক, ব্রিজ, বিভিন্ন স্থাপনা, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, স্টেশন ও রেলওয়ের জায়গা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি রেল পরিচালনায় নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হয়।

পরিদর্শনকালে মহাব্যবস্থাপক বিভিন্ন স্টেশনের যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ওয়েটিং রুম ও ওয়াশরুম ঘুরে দেখেন। এসব স্থাপনার সুযোগ-সুবিধা ও ব্যবহারযোগ্যতা পর্যবেক্ষণ করে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

একই সঙ্গে স্টেশন এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মান আরও উন্নত করা, যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিদর্শনের সময় ট্রেনের কোচের অভ্যন্তরীণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো এবং যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। রেলওয়ের সম্পত্তি ও জায়গা যথাযথভাবে সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং রেলওয়ের সার্বিক অবকাঠামো সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে রেলপথের ট্র্যাক, ব্রিজ ও সিগন্যালিং ব্যবস্থার নিয়মিত তদারকি এবং কোথাও কোনো ত্রুটি বা ঝুঁকি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রেল পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, “রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীদের উন্নত ও স্বস্তিদায়ক সেবা দেওয়াই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্টেশন, ওয়েটিং রুম, ওয়াশরুম ও ট্রেনের অভ্যন্তরের পরিচ্ছন্নতা আরও উন্নত করতে হবে। একই সঙ্গে রেলপথ ও স্থাপনাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

রেলপথ ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে জামালপুর টাউন স্টেশন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, রেলওয়ের জায়গায় সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং স্টেশন এলাকাকে আরও নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে রেলওয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং স্টেশন এলাকার উপযোগী বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়। রেলওয়ের বিভিন্ন স্থাপনা ও জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীনের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী (পূর্ব) মো. তানভীরুল ইসলাম, সিওপিএস (পূর্ব) মো. সফিকুর রহমান, ডিআরএম/ঢাকা, কমান্ড্যান্ট/ঢাকা, বিভাগীয় কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে রেলপথের অবকাঠামোগত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ডিএস./