০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, লালদিঘীতে সমাবেশ: ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যাপক প্রস্তুতি

জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে ওইদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়স্থ বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করার জন্য দেশবাসী ও চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের কারণে দেশের জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এসব সংকট নিরসন এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা।’ জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত ও সুলভ মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন তিনি।
কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জনগণের ন্যায্য দাবি ও কর্মসূচির উদ্দেশ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জাগপা চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম নগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহ, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফজলুল করিম জিহাদী, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক জাহেদুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।
ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শেরপুরে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ উপকরণ বিতরণ!

৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ, লালদিঘীতে সমাবেশ: ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশিত : ০৫:১৯:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। লংমার্চের সমাপনী কর্মসূচি হিসেবে ওইদিন বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের কার্যালয়স্থ বিআইএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করার জন্য দেশবাসী ও চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের সংকট, সারের সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকীর্ণ দলীয়করণের কারণে দেশের জনগণ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছে, তারও পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এসব সংকট নিরসন এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘গণভোটের গণরায় উপেক্ষা করে দেশ পরিচালনা বিএনপির সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতারণা।’ জনগণের মতামত ও গণরায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকার দেশ পরিচালনা করলে তা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পর্যাপ্ত ও সুলভ মূল্যে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার দাবি জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে যোগ্যতা, দক্ষতা ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন। লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন তিনি।
কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পর্কে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, লংমার্চ ও সমাবেশ সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সমাবেশস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, আগত মানুষের নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক ও দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীসহ সর্বস্তরের জনগণকে আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও লালদিঘী ময়দানের সমাবেশে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জনগণের ন্যায্য দাবি ও কর্মসূচির উদ্দেশ্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহছানুল্লাহ ভুঁইয়া, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ জাফর সাদেক, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন, জাগপা চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আবু মোজাফফর মো. আনাস, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোবায়ের মাহমুদ, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সদস্য সচিব যায়েদ হাসান, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ও লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, নগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম নগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহ, নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা ফজলুল করিম জিহাদী, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, নায়েবে আমীর মাওলানা মুবিনুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রচার সম্পাদক জাহেদুল ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।