কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কুঁড়ার মিলে অবৈধভাবে মজুত রেখে জব্দ করা সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৯.৫ টন (সাড়ে ১৯ টন) চাল অবশেষে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চালগুলো কিনে নেন স্থানীয় মো. সেলিম মিয়া। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার বিকেল ৩টায় কুলিয়ারচর সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) কার্যালয়ে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে চারজন দরদাতা অংশ নেন। তাঁরা হলেন মো. সেলিম মিয়া, মো. সেতু মিয়া, বাসির মেম্বার ও শফিকুল ইসলাম। এসময় প্রতি টন চালের সর্বোচ্চ দর ওঠে ১১ হাজার ২০০ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মো. সেলিম মিয়ার কাছে চালগুলো বিক্রি করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে পৌর শহরের খরকমারা এলাকার জিল্লু মিয়ার কুঁড়ার মিলে অভিযান চালিয়ে সরকারি চালের শতাধিক বস্তা জব্দসহ মিলটি সিলগালা করা হয়। ঘটনাটি অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্যবিশিষ্ঠ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রতিবেদনের কয়েকটি বিষয়ে অস্পষ্টতা থাকায় পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আদনান আখতারের নেতৃত্বে চার সদস্যের দ্বিতীয় কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অবৈধ মজুতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় আইন অনুযায়ী চাল নিলামের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক উজ্জ্বল কুমার দত্তকে আহ্বায়ক করে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের গঠিত কমিটির ব্যবস্থাপনাতেই সোমবার উন্মুক্ত নিলাম কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
নিলাম কার্যক্রমে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুকুল ইসলাম ফারুক, খাদ্যগুদামের পরিদর্শক রাসেদা খাতুন, সালুয়া, রামদী, ফরিদপুর, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ও উছমানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যাগনসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে তদন্ত চলাকালে সিলগালাকৃত মিল থেকে গোপনে ট্রাক দিয়ে চাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠলে তৈরি হয়েছিল নতুন জটিলতা ও নানা চাঞ্চল্য। সংবাদ পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চালগুলো পুনরায় জব্দ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ঘটনায় পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘদিন মিলটি বন্ধ থাকায় চালের বস্তায় আলো-বাতাস লাগানো এবং পোকামাকড়ের আক্রমণে চাল নষ্ট হওয়া ঠেকাতে আইন অনুযায়ী মিলের চাবি নির্ধারিত ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে চাল সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তদন্তে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে মজুতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় চাল চুরির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত করায় অভিযুক্ত জিল্লুর ওএমএস ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে এবং তার গচ্ছিত জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া নিলামের প্রাপ্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএস./



















