০৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে নাগরিক সরকার সংযোগ জোরদারের আহ্বান

নাগরিকদের উদ্বেগ, সমস্যা ও প্রয়োজনকে কার্যকর সরকারি পদক্ষেপে রূপ দিতে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর নাগরিক–সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়া অংশীজনরা।

তারা বলেন, সরকারি সেবা চালু থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়া, সহজে সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং কোনো অভিযোগ বা সমস্যা জানানোর পর তার অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে নাগরিককে অবহিত করাও নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ‘কণ্ঠস্বর থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় শাসনের জন্য নাগরিক–সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সিএসও/সিবিও, ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

আলোচনায় বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও নারী, চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র কৃষক ও যুবসমাজসহ অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এসব সেবায় কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারেন না। তথ্যের অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে না পারা এর অন্যতম কারণ।

অংশীজনরা বলেন, ‘সেবার প্রাপ্যতা’ ও ‘সেবায় প্রবেশাধিকার’ এক বিষয় নয়। একজন নাগরিক কোনো সমস্যা জানানোর পর সেটি কোথায় পৌঁছেছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলাফল কী এসব তথ্যও তাকে জানানো প্রয়োজন। এ জন্য জানা রিপোর্ট → প্রেরণ → সাড়া → অনুসরণ → যাচাই—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর নাগরিক সরকার সংযোগ ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, “মৌলভীবাজারে মানুষের কথা বলার জন্য শুধু আরেকটি ব্যবস্থা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, সাড়া পাওয়া যাবে এবং ফলাফল সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।”

কর্মশালায় স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এসব সংগঠন সরকারের বিকল্প নয়; বরং নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার যোগাযোগের ঘাটতি কমাতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা নাগরিকদের সমস্যা শুনে তা নথিবদ্ধ করা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি সাড়ার অগ্রগতি অনুসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিক সমন্বয় প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, “প্রান্তিক মানুষের অনেক সমস্যা ও প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে উঠে আসছে। এখন প্রয়োজন এসব বিষয়কে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অগ্রগতি অনুসরণ করা এবং ফলাফল কমিউনিটিকে জানানো যাতে নাগরিকের কণ্ঠস্বর বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়।”

আলোচনায় আরও বলা হয়, এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কোনো কমিটি বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে আরও সহজপ্রাপ্য, সাড়াদানকারী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।

নাগরিকতা–সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। এর আওতায় ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পটি ডিনেট ও এর চার সহযোগী সংস্থা প্রগতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (PSUS), জন কল্যাণ কেন্দ্র (JKK), নিঃস্ব সহায়ক সংস্থা (NSS) এবং প্রচেষ্টা (Procheshta) এর মাধ্যমে মৌলভীবাজারে স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় শাসনে সম্পৃক্ততা জোরদারে কাজ করছে।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শ্রীমঙ্গলে নাগরিক সরকার সংযোগ জোরদারের আহ্বান

প্রকাশিত : ০৪:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাগরিকদের উদ্বেগ, সমস্যা ও প্রয়োজনকে কার্যকর সরকারি পদক্ষেপে রূপ দিতে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর নাগরিক–সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গলে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শমূলক কর্মশালায় অংশ নেওয়া অংশীজনরা।

তারা বলেন, সরকারি সেবা চালু থাকাই যথেষ্ট নয়; প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবার তথ্য পৌঁছে দেওয়া, সহজে সেবা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি এবং কোনো অভিযোগ বা সমস্যা জানানোর পর তার অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে নাগরিককে অবহিত করাও নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদে ‘কণ্ঠস্বর থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্থানীয় শাসনের জন্য নাগরিক–সরকার রিপোর্টিং ব্যবস্থা’ শীর্ষক এ পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, সিএসও/সিবিও, ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক, প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

আলোচনায় বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকা, জলবায়ু-সহনশীলতা ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও নারী, চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র কৃষক ও যুবসমাজসহ অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এসব সেবায় কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে পারেন না। তথ্যের অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে না পারা এর অন্যতম কারণ।

অংশীজনরা বলেন, ‘সেবার প্রাপ্যতা’ ও ‘সেবায় প্রবেশাধিকার’ এক বিষয় নয়। একজন নাগরিক কোনো সমস্যা জানানোর পর সেটি কোথায় পৌঁছেছে, কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলাফল কী এসব তথ্যও তাকে জানানো প্রয়োজন। এ জন্য জানা রিপোর্ট → প্রেরণ → সাড়া → অনুসরণ → যাচাই—এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর নাগরিক সরকার সংযোগ ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডিনেটের নির্বাহী পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, “মৌলভীবাজারে মানুষের কথা বলার জন্য শুধু আরেকটি ব্যবস্থা প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন এমন একটি শক্তিশালী ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষের কথা শোনা হবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হবে, সাড়া পাওয়া যাবে এবং ফলাফল সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা হবে।”

কর্মশালায় স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এসব সংগঠন সরকারের বিকল্প নয়; বরং নাগরিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার যোগাযোগের ঘাটতি কমাতে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা নাগরিকদের সমস্যা শুনে তা নথিবদ্ধ করা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি সাড়ার অগ্রগতি অনুসরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নাগরিক সমন্বয় প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আসিফ আহমেদ তন্ময় বলেন, “প্রান্তিক মানুষের অনেক সমস্যা ও প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে উঠে আসছে। এখন প্রয়োজন এসব বিষয়কে একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেওয়া, অগ্রগতি অনুসরণ করা এবং ফলাফল কমিউনিটিকে জানানো যাতে নাগরিকের কণ্ঠস্বর বাস্তব পদক্ষেপে রূপ নেয়।”

আলোচনায় আরও বলা হয়, এ উদ্যোগের লক্ষ্য নতুন কোনো কমিটি বা সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করা নয়; বরং বিদ্যমান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের কাছে আরও সহজপ্রাপ্য, সাড়াদানকারী ও জবাবদিহিমূলক করে তোলা।

নাগরিকতা–সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। এর আওতায় ‘নাগরিক সমন্বয়’ প্রকল্পটি ডিনেট ও এর চার সহযোগী সংস্থা প্রগতি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (PSUS), জন কল্যাণ কেন্দ্র (JKK), নিঃস্ব সহায়ক সংস্থা (NSS) এবং প্রচেষ্টা (Procheshta) এর মাধ্যমে মৌলভীবাজারে স্থানীয় সিএসও ও সিবিওগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় শাসনে সম্পৃক্ততা জোরদারে কাজ করছে।

ডিএস./