০২:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক বৃক্ষমেলা-২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে জমে উঠেছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ, সবুজে ঘেরা পরিবেশ ও বিনোদনের আমেজে প্রতিদিনই মেলায় ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ঘর সাজানোর ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের গাছ।

এবারের বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় প্রবেশ উন্মুক্ত এবং কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না।

বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মেলা শুরুর প্রথম দিন ৯ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারার বিক্রয়মূল্য ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা।

মেলায় ঘর সাজানোর গাছ ও ছাদবাগানের গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে অর্কিড ও ক্যাকটাসের চারার দাম বেশি হলেও আমগাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে।

এবারের বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে বিদেশি জাতের রাম্বুটান, পারসিমন, আজওয়া খেজুর, পাকিস্তানি আনার এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আমের চারা। এসব গাছের ছোট আকারের চারা ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বন অধিদপ্তরের সোসিওলজিস্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মেলায় কোনো প্রবেশমূল্য নেই। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। এখানে বনজ, ফলদ, ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী-সব ধরনের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের জন্য ফলদ গাছের চাহিদা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯১টি চারা বিক্রি হয়েছিল, যার বিক্রয়মূল্য ছিল ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ২৭৪ টাকা। এর আগের বছর বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার চারা। এবারও বিক্রি সন্তোষজনক। ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি চারা বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা।’

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরে গাছ লাগানোর জায়গা কমে এলেও মানুষের আগ্রহ কমেনি। অনেকে ছাদবাগানের জন্য গাছ কিনছেন, আবার অনেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করছেন। প্রতিদিনের বিক্রির পরিসংখ্যানই মানুষের এই আগ্রহের প্রমাণ।’

নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়ে তিনি জানান, মেলায় পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মা ও শিশু কর্নার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, চিকিৎসাসেবা, মিডিয়া কর্নার এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা বিশ্রামকক্ষের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয়

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি, প্রজ্ঞাপন জারি

জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক বৃক্ষমেলা-২০২৬

প্রকাশিত : ১২:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসংলগ্ন মাঠে জমে উঠেছে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬। দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ, সবুজে ঘেরা পরিবেশ ও বিনোদনের আমেজে প্রতিদিনই মেলায় ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মেলায় সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ঘর সাজানোর ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের গাছ।

এবারের বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। গত ৯ জুলাই শুরু হওয়া এ মেলা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় প্রবেশ উন্মুক্ত এবং কোনো টিকিটের প্রয়োজন হয় না।

বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মেলা শুরুর প্রথম দিন ৯ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত মোট ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি বিভিন্ন জাতের গাছের চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারার বিক্রয়মূল্য ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা।

মেলায় ঘর সাজানোর গাছ ও ছাদবাগানের গাছের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তুলনামূলকভাবে অর্কিড ও ক্যাকটাসের চারার দাম বেশি হলেও আমগাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে তুলনামূলক কম দামে।

এবারের বৃক্ষমেলায় দর্শনার্থীদের বিশেষ নজর কেড়েছে বিদেশি জাতের রাম্বুটান, পারসিমন, আজওয়া খেজুর, পাকিস্তানি আনার এবং বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আমের চারা। এসব গাছের ছোট আকারের চারা ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বন অধিদপ্তরের সোসিওলজিস্ট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মেলায় কোনো প্রবেশমূল্য নেই। প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসছেন। এখানে বনজ, ফলদ, ভেষজ ও শোভাবর্ধনকারী-সব ধরনের গাছের চারা পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরে ইনডোর প্ল্যান্ট ও ছাদবাগানের জন্য ফলদ গাছের চাহিদা বেশি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর জাতীয় বৃক্ষমেলায় ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯১টি চারা বিক্রি হয়েছিল, যার বিক্রয়মূল্য ছিল ১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ২৭৪ টাকা। এর আগের বছর বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার চারা। এবারও বিক্রি সন্তোষজনক। ২৩ জুলাই পর্যন্ত ৮ লাখ ১২ হাজার ৮০২টি চারা বিক্রি হয়েছে, যার মূল্য ৬ কোটি ৭৩ লাখ ২৯ হাজার ২৩৬ টাকা।’

আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরে গাছ লাগানোর জায়গা কমে এলেও মানুষের আগ্রহ কমেনি। অনেকে ছাদবাগানের জন্য গাছ কিনছেন, আবার অনেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রোপণ করছেন। প্রতিদিনের বিক্রির পরিসংখ্যানই মানুষের এই আগ্রহের প্রমাণ।’

নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের সুবিধার বিষয়ে তিনি জানান, মেলায় পুলিশ ও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মা ও শিশু কর্নার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, চিকিৎসাসেবা, মিডিয়া কর্নার এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য আলাদা বিশ্রামকক্ষের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।