০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কাজের সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন পোশাক শ্রমিক, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সুমি আক্তার ওরফে মিশু (২৭) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ইতোমধ্যে। ভিডিওটি ভাইরালের পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে ঘটে এ ঘটনা।

নিহত সুমি আক্তার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খোকারহাট এলাকার বজলার মিয়ার মেয়ে। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার সালামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডের সুইং অপারেটর ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডে সুমি নিজের মেশিনে কাজ করছিলেন। এসময় তার পাশে পাঞ্জাবি পরা একজন পুরুষ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৫টা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পাঞ্জাবি পরা আরেক কর্মকর্তা তার দিকে তেড়ে আসেন। তিনি সুমির মেশিন চাপড়াতে থাকেন এবং কয়েক দফায় আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে সুমির হাত থেকে কাজের কাপড়টি নিয়ে ফেলে দেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, এসব ঘটনার মধ্যেই বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে সুমি মেশিনে বসা অবস্থায় ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। তখন ওই কর্মকর্তা কিছুটা দূরে সরে যান। সুমিকে পড়ে যেতে দেখে পাশের মেশিনে কাজ করা নারী শ্রমিকরা একে একে তার কাছে এগিয়ে যান। পরে বিকেল ৫টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে তাকে একটি স্ট্রেচারে তোলা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু সিসিটিভি ফুটেজ, নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কারখানায় উৎপাদন চলছিল। সুমি অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দুপুরে বাসায় খেতে গিয়ে তিনি ছেলেকে নিজের অসুস্থতা ও কারখানায় কাজের চাপের কথা জানিয়েছিলেন।

নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন-অর-রশীদ জানান, আগামী অ্যাপারেলস থেকে সুমি আক্তার মিশু নামের ওই নারী শ্রমিককে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। স্বামী কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরে মৃত্যুসনদ দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্বামীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

তবে, হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নেওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বাধা দেন বলে জানান হারুন-অর-রশীদ। এসময় নিহতের স্বামী ও স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে মরদেহ থানায় নিতে বলেন। তখন অ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে মরদেহ আশুলিয়া থানায় নিয়ে যেতে বলা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছিলেন। সমালোচনা এড়াতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে মৃত্যুর আগে এক কর্মকর্তাকে সুমির সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ডিএস./

জনপ্রিয়

উত্তর সাতকানিয়া উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে কেরানীহাটে মহাসমাবেশ, জনতার ঢল

কাজের সময় হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন পোশাক শ্রমিক, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

প্রকাশিত : ১২:২১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সুমি আক্তার ওরফে মিশু (২৭) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ইতোমধ্যে। ভিডিওটি ভাইরালের পর থেকেই চলছে নানা আলোচনা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে ডেকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠান আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডে ঘটে এ ঘটনা।

নিহত সুমি আক্তার নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খোকারহাট এলাকার বজলার মিয়ার মেয়ে। স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি আশুলিয়ার কাঠগড়া নয়াপাড়া এলাকার সালামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি আগামী অ্যাপারেলস লিমিটেডের সুইং অপারেটর ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৯ সেকেন্ডে সুমি নিজের মেশিনে কাজ করছিলেন। এসময় তার পাশে পাঞ্জাবি পরা একজন পুরুষ কর্মকর্তা দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৫টা ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা পাঞ্জাবি পরা আরেক কর্মকর্তা তার দিকে তেড়ে আসেন। তিনি সুমির মেশিন চাপড়াতে থাকেন এবং কয়েক দফায় আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে সুমির হাত থেকে কাজের কাপড়টি নিয়ে ফেলে দেন।

ফুটেজে আরও দেখা যায়, এসব ঘটনার মধ্যেই বিকেল ৫টা ১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে সুমি মেশিনে বসা অবস্থায় ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। তখন ওই কর্মকর্তা কিছুটা দূরে সরে যান। সুমিকে পড়ে যেতে দেখে পাশের মেশিনে কাজ করা নারী শ্রমিকরা একে একে তার কাছে এগিয়ে যান। পরে বিকেল ৫টা ৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডে তাকে একটি স্ট্রেচারে তোলা হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু সিসিটিভি ফুটেজ, নিহতের স্বজন ও সহকর্মীদের বরাত দিয়ে জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কারখানায় উৎপাদন চলছিল। সুমি অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজে যোগ দিয়েছিলেন। দুপুরে বাসায় খেতে গিয়ে তিনি ছেলেকে নিজের অসুস্থতা ও কারখানায় কাজের চাপের কথা জানিয়েছিলেন।

নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন-অর-রশীদ জানান, আগামী অ্যাপারেলস থেকে সুমি আক্তার মিশু নামের ওই নারী শ্রমিককে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তার স্বামী সাজ্জাদ হোসেন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। স্বামী কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। পরে মৃত্যুসনদ দিয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও স্বামীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

তবে, হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নেওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক বাধা দেন বলে জানান হারুন-অর-রশীদ। এসময় নিহতের স্বামী ও স্বজনেরা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নেমে পড়েন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। এরপর আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোন করে মরদেহ থানায় নিতে বলেন। তখন অ্যাম্বুলেন্সের চালককে ফোন করে মরদেহ আশুলিয়া থানায় নিয়ে যেতে বলা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, কারখানায় অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলছিলেন। সমালোচনা এড়াতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজে মৃত্যুর আগে এক কর্মকর্তাকে সুমির সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে দেখা গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ডিএস./