আফগানিস্তানের রেসলিং ক্লাবে দুটি আত্মঘাতী হামলায় দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। আহত ৭০ জন। গতকাল বুধবার রাজধানী কাবুলে বিস্ফোরণের ঘটনা দুটি ঘটে।
পুলিশের মুখপাত্র হাশমত স্তানিকজাই বলেন, শিয়া-অধ্যুষিত এলাকায় স্পোর্টস হলঘরের ভেতরে এক ব্যক্তি বোমার বিস্ফোরণে নিজেকে উড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছুটে এলে সেখানে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যভর্তি গাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইসলামিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস হামলার বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে। আইএস পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আমাকের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স (জঙ্গিদের অনলাইন তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা) এ তথ্য জানিয়েছে। আইএস প্রায়ই আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায়।
তালেবান হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে খুদে বার্তায় তাদের এ ঘটনায় জড়িত না থাকার বিষয়টি দাবি করেন।
আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এক বিবৃতিতে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, এ দেশের সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা মানে বাক্স্বাধীনতার ওপর হামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ।
আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ব্রডকাস্টার টোলো নিউজ দুজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। টিভি চ্যানেলটি জানায়, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের আগে রিপোর্টার শামিম ফারামার্জ ও ক্যামেরাম্যান রমিজ আহমাদি ঘটনাস্থল থেকে লাইভ করছিলেন।
মাইওয়ান্দ রেসলিং ক্লাবের পরিচালক পালোয়ান শির এএফপিকে বলেন, ‘প্রথম বিস্ফোরণের সময় আমি বাইরে ছিলাম। আমি আমার কোচকে খুঁজছিলাম। অবশেষে আমি তাঁকে হাসপাতালে খুঁজে পাই। তাঁর অবস্থা গুরুতর।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আত্মঘাতী হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দেওয়ার আগে ক্লাবের গার্ডকে হত্যা করে।
মোহাম্মদ হানিফ নামের একজন লেখেন, খেলোয়াড়দের বড় এক জটলার কাছে আত্মঘাতী হন এক ব্যক্তি। সেখানে অনেকই হতাহত হয়।
মিডিয়া সাপোর্ট গ্রুপ এনএআইয়ের ভাষ্য, দ্বিতীয় বিস্ফোরণে অন্তত চারজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।


























