আরকেটু হলেই হাত, নিদেনপক্ষে আঙুলটা হারাতে হতো বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে! তার সেই জাদুকরী বাম হাত। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব ক্রিকেট হারাত এক বিস্ময় ক্রিকেটারকে। সাকিবের এই অবস্থার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না জাতীয় দলের ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহন। তার সবুজ সংকেত পেয়েই অপারেশন না করিয়ে ঝুঁকি নিয়ে এশিয়া কাপে খেলেছিলেন সাকিব। কেন ফিজিও এই বিপদ ধরতে পারলেন না, সেটা জানতে তাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান বলেছেন,’আমরা অবশ্যই তার কাছে জানতে চাইব, সাকিবের কেন এমন হয়েছে। প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলে জবাবদিহি চাওয়া হবে। সাকিবের আরও খারাপ কিছু হতে পারত। ফিজিওকে দলে রাখাই হয়েছে খেলোয়াড়দের দেখে রাখার জন্য। তিনি কেন এই বিপদ আগে থেকেই ধরতে পারলেন না?’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙুলে চোট পান সাকিব। চিকিৎসার পর সাময়িক সুস্থ হলেও ব্যথা ছিলই। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষে অপারেশন করাতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বিসিবি সভাপতির ইচ্ছা এবং ফিজিও চন্দ্রমোহনের সবুজ সংকেত পেয়ে তিনি অপারেশন না করিয়ে দুবাইয়ে চলে যান এশিয়া কাপ খেলতে। কিন্তু সেখানে চার ম্যাচ খেলার পর আঙুলের অবস্থা খারাপ হলে ফাইনাল না খেলেই ফিরে আসেন দেশে।
পরের দিন তার যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন আঙুল বেশ ফুলে গেছে। প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে। দ্রুত চলে যান রাজধানীর একটি হাসপাতালে। চিকিৎসকদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় সাকিবের আঙুল দেখে! এই আঙুল নিয়ে কীভাবে তিনি খেলেছেন, তা ভেবে পাচ্ছিলেন না ডাক্তাররা। তাৎক্ষণিক অপারেশন করে ৬০-৭০ মিলিমিটার পুঁজ বের করা হয় সাকিবের আঙুল থেকে। ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাকিব নিজেই জানান, আরেকটু দেরি হলেই মহাবিপদ হতে পারত।
সাকিবের আঙুলের ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছিল। আরেকটু দেরি হলেই হাতটাই হয়তো কেটে ফেলতে হতো! হাসপাতালের একজন চিকিৎসক তার আঙুল দেখেই বুঝে ফেলেছিলেন কী ভয়াবহ ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু জাতীয় দলের একজন ফিজিও দিনের পর দিন সাকিবকে সামনাসামনি দেখেও এটা ধরতে পারলেন না! এমনটাও হতে পারে! তাই বিসিবি শিগগির চন্দ্রমোহনের কাছে কারণ জানতে চাইবে, কেন সাকিবের আঙুলের অবস্থা ভালোভাবে বুঝতে পারেননি তিনি।
বিবি/এসআর
























