০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

সাত রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

আসামের শিলচর কারাগারে বন্দি সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। আজ বৃহস্পতিবার তাদের মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের ‘ট্রাভেল পাস’ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভারতের এমন পদক্ষেপ এটাই প্রথম। মিয়ানমার থেকে বিগত বছরগুলোতে আনুমানিক ৪০,০০০ রোহিঙ্গা পালিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে যে সাতজনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তারা ২০১২ সাল থেকে অবৈধ উপায়ে প্রবেশের দায়ে বন্দি ছিল।

ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী মোদি সরকার পূর্বে বলেছে, রোহিঙ্গারা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। গত বছর, রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য গত বছর রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আসামের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ভাস্কর জ্যোতি মাহান্ত বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০১২ সালে তাদের আটক করা হয়। গতকাল বুধবার একটি বাসে করে তাদের মনিপুর রাজ্যের সীমান্ত শহর মোরেহ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা একটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া। আমরা অবৈধ বিদেশীদের ফেরত পাঠিয়ে দেই।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করা বিষয়ক একটি পিটিশন বাতিল করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

এদিকে সাত রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকার যে পরিকল্পনা করেছে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এ রকম কিছু হলে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে।

জেনেভা থেকে প্রকাশ করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণবাদ সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার তেনদায়ি একুইমি বলেন, জাতিগত পরিচয় বিবেচনায় তাদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

একুইমি বলেন, নিজের দেশে বৈষম্য, নিপীড়ন, বিদ্বেষ, গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

সাত রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত

প্রকাশিত : ০২:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর ২০১৮

আসামের শিলচর কারাগারে বন্দি সাত রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। আজ বৃহস্পতিবার তাদের মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের ‘ট্রাভেল পাস’ ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পেয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ভারতের এমন পদক্ষেপ এটাই প্রথম। মিয়ানমার থেকে বিগত বছরগুলোতে আনুমানিক ৪০,০০০ রোহিঙ্গা পালিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে যে সাতজনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তারা ২০১২ সাল থেকে অবৈধ উপায়ে প্রবেশের দায়ে বন্দি ছিল।

ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী মোদি সরকার পূর্বে বলেছে, রোহিঙ্গারা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। গত বছর, রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য গত বছর রাজ্য সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আসামের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ভাস্কর জ্যোতি মাহান্ত বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০১২ সালে তাদের আটক করা হয়। গতকাল বুধবার একটি বাসে করে তাদের মনিপুর রাজ্যের সীমান্ত শহর মোরেহ নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এটা একটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া। আমরা অবৈধ বিদেশীদের ফেরত পাঠিয়ে দেই।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো বন্ধ করা বিষয়ক একটি পিটিশন বাতিল করে দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।

এদিকে সাত রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারত সরকার যে পরিকল্পনা করেছে তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্পর্কে তিনি বলেছেন, এ রকম কিছু হলে ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করবে।

জেনেভা থেকে প্রকাশ করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণবাদ সম্পর্কিত জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার তেনদায়ি একুইমি বলেন, জাতিগত পরিচয় বিবেচনায় তাদের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

একুইমি বলেন, নিজের দেশে বৈষম্য, নিপীড়ন, বিদ্বেষ, গর্হিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে এমন ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের আন্তর্জাতিক আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।