জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আজ মাঠে নামবে মাশরাফি বাহিনী।
এর আগে প্রথম ওয়ানডেতে সহজ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই আজই জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় তারা। প্রথম ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টাও থাকবে। তবে ব্যর্থটার পর ইমরুল কায়েস ও সাইফউদ্দিন জুটি যেভাবে দলকে টেনে তুলেছেন তাতে খুশি অধিনায়ক মাশরাফি মতুর্জা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেই কথাই জানিয়েছেন তিনি।
মাশরাফি বলেন, ‘আমার দিক দিয়ে বলব আমি খুশিই হয়েছি। সাইফউদ্দিন রান করেছে। এই পজিশনটা দেখা। আমি আগেও বলছি হয়তো বা এটা আদর্শ পরিস্থিতি না। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে যা হয় আরকি, এই যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিগুলো যদি আমরা না দেখতাম তাহলে ওদেরও আত্মবিশ্বাস বাড়ত না, আমাদেরও বাড়ত না।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘অন্য দলের অনেক সময় টপ অর্ডার রান পেলে লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয় না। কিন্তু আমাদের লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয়ে সেখান থেকে ফিরে আসতে পেরেছি, এটা কিন্তু আমাদের আরো ওপরে উঠতে সাহায্য করবে। সব সময় যদি আমরা মুশফিক আর রিয়াদে খেলা শেষ করি, বড় মঞ্চে গিয়ে যখন সেটা হবে না, তখন কিন্তু দল বিপদে পড়বে। সুতরাং এটা এক দিক দিয়ে ভালো যে লেট মিডল অর্ডার এক্সপোজড হয়েছে এবং ওরা রান পেয়েছে।’
তবে ৩ উইকেটে ১৩৭ থেকে এক লাফে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান- পর পর তিন উইকেট হারানোটা ভাবাচ্ছে মাশরাফিকে। কারণ টপ অর্ডারের একজন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি হাকানোর পরও সংগ্রহটা তিন শ’ ছুঁতে পারছে না। কারণ পর পর উইকেট হারানো। তাই দুশ্চিন্তায় আছেন মাশরাফি। বললেন, ‘টপ অর্ডারে একজন এক শ’ করার পরেও রানটা কিন্তু তিন শ’ হচ্ছে না। সাধারণত টপ অর্ডারের একজন সেঞ্চুরি পেলে দলীয় সংগ্রহটা তিন শ’ ছাড়িয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। এই জায়গাটা চিন্তার। টপ অর্ডারে বড় সংগ্রহের পর পরের দিকে যে সাহায্যটা দরকার সেটা এত পরে আসছে যে রানটা বড় হচ্ছে না। এই জায়গায় একটু মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার আছে।’
অপরদিকে জিম্বাবুয়ে জয়খরা কাটিয়ে উঠতে চাচ্ছে আজ। দীর্ঘ সময় ধরে জয়ের মুখ দেখছে না দলটি। তাই বড় স্কোরের প্রত্যাশা করছে তারা। সেই কথাই কাল জানিয়েছেন জিম্বাবুয়ে কোচ লালচান্দ রাজপুত।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নিতে হবে। মাসাকাদজা প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি করেছিল। আশা করি মূল সিরিজেও সেটি বয়ে আনতে পারবে। ব্রেন্ডন টেইলর শুরুটা ভালো করছে, শেষ করতে পারছে না। আশা করি ওর বড় স্কোর আসবে।’
রাজপুত বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, ওরাও বড় স্কোরের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছে। বড় রান আসছে। নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, শিগগিরই আসছে।’
গত মার্চের পর তিন সংস্করণ মিলিয়ে টানা ১৭ ম্যাচ হেরেছে জিম্বাবুয়ে। এই পারফরমেন্সে হতাশ সবাই। জয়খরা কাটাতে মরিয়া তারা। কোচের কণ্ঠে সেই আশা, ‘অনেক দিনই আমরা জিতি না। তবে সত্যি বলতে, প্রথম আট ম্যাচে আমরা সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাইনি। এখন সিনিয়ররা ফিরেছে, আমরা জয়ের কাছে যাচ্ছি। শুধু শেষটা করতে পারছি না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০০ রানে ৭ উইকেট নিয়েও পারিনি। এমনকি টি-টোয়েন্টিতেও সম্ভাবনা জাগিয়ে পারিনি। খু্ব শিগগিরই আমরা শেষ বাধাটুকু টপকে যেতে পারব।’
বিবি/রেআ
























