১১:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

চট্টগ্রামের মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশোনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (১৫ ডিসেম্বর)। ২০১৭ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে যান।

মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের প্রগতিশীল রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। একাত্তরের মাউন্টেন ডিভিশনের অধিনায়ক এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ধ্যান-জ্ঞান ছিল চট্টগ্রামকে নিয়েই। পরপর তিন মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়।

পাকিস্তান আমলে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশ শত্রুমুক্ত করার আন্দোলন করায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দলের অস্তিত্ব ধরে রাখায় বারবার শাসক গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় মরহুমের কবর প্রাঙ্গণে খতমে কোরআন, কালোব্যাজ ধারণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের কবরে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এছাড়া বিকেল ৩টায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

‘চট্টলবীর’ উপাধি পাওয়া এ রাজনীতিবিদ ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বঙ আলী চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হোসেন আহমদ চৌধুরী আর মা বেদুরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন ছিলেন দ্বিতীয়।

তার বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। বাবার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন পড়াশুনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, নগরীর কাজেম আলী ইংলিশ হাইস্কুল ও প্রবর্তক সংঘে। স্কুলজীবনেই তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া মহিউদ্দিন ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই মহিউদ্দিন চৌধুরী জহুর আহমদ চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৬৮ ও ‘৬৯ সালে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী।

পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ‘মুজিব বাহিনী’ গঠন করেন তিনি। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শাসনামলে স্বয়ং এরশাদকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বিবি/জেজে

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চ্যালেঞ্জে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন

মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত : ১১:৫৫:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

চট্টগ্রামের মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশোনের মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (১৫ ডিসেম্বর)। ২০১৭ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী না ফেরার দেশে চলে যান।

মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন চট্টগ্রামের প্রগতিশীল রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি নাম। একাত্তরের মাউন্টেন ডিভিশনের অধিনায়ক এই বীর মুক্তিযোদ্ধার ধ্যান-জ্ঞান ছিল চট্টগ্রামকে নিয়েই। পরপর তিন মেয়াদে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে নিয়ে যান এক অনন্য উচ্চতায়।

পাকিস্তান আমলে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত থাকায়, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশ শত্রুমুক্ত করার আন্দোলন করায়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দলের অস্তিত্ব ধরে রাখায় বারবার শাসক গোষ্ঠীর রোষানলে পড়েছিলেন এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় মরহুমের কবর প্রাঙ্গণে খতমে কোরআন, কালোব্যাজ ধারণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের কবরে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এছাড়া বিকেল ৩টায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

‘চট্টলবীর’ উপাধি পাওয়া এ রাজনীতিবিদ ১৯৪৪ সালের ১ ডিসেম্বর রাউজানের গহিরা গ্রামের বঙ আলী চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হোসেন আহমদ চৌধুরী আর মা বেদুরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন ছিলেন দ্বিতীয়।

তার বাবা চাকরি করতেন আসাম বেঙ্গল রেলওয়েতে। বাবার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন পড়াশুনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, নগরীর কাজেম আলী ইংলিশ হাইস্কুল ও প্রবর্তক সংঘে। স্কুলজীবনেই তিনি জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে।

ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া মহিউদ্দিন ১৯৬২ সালে এসএসসি, ১৯৬৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৭ সালে ডিগ্রি পাস করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং পরে আইন কলেজে ভর্তি হলেও শেষ করেননি। জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে।

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই মহিউদ্দিন চৌধুরী জহুর আহমদ চৌধুরীর সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৬৮ ও ‘৬৯ সালে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন একাত্তরে গঠন করেন ‘জয় বাংলা’ বাহিনী।

পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে ‘মুজিব বাহিনী’ গঠন করেন তিনি। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শাসনামলে স্বয়ং এরশাদকে চট্টগ্রামে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

বিবি/জেজে