০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কান্না ও ক্ষোভে নিহতদের স্মরণ

অসংখ্য স্বজনের সমাবেশ ঘটেছে সাভারে। এসেছেন আহত শ্রমিকরাও রানা প্লাজায় নিহতদের স্মরণে। তাদের হাহাকারে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। ঘটনার বিচার না হওয়ার, আর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার ক্ষোভ তাদের প্রত্যেকের চোখেমুখে। তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে স্বর মিলিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হতাহতদের স্মরণে ঘটনাস্থলে নির্মিত ‘অস্থায়ী শহীদ বেদিতে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।

আজ সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ শ্রমিক পবিরারের সদস্যরা রানা প্লাজার অস্থায়ী বেদির সামনে আসেন। প্রথমে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান, পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসাসেবা, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা, হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের শিশুদের লেখাপড়ার নিশ্চয়তা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অনশন শুরু করেছেন আহত শ্রমিকরা। সোমবার দুপুর থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবন ধসের স্থানে হতাহতের স্মরণে এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোমবাতি প্রজ্বালন এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য আমরা অনশন শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখান থেকে আমরা সরছি না। তিনি বলেন, এই রানা প্লাজায় আমি জীবনের সবকিছু হারিয়েছি। পঙ্গু হয়ে পড়ে রয়েছি। এত এত ওষুধ খেয়েছি যে, এখন ওষুধ দেখলেই ভয় লাগে। প্রস্রাবে ইনফেকশনসহ বুক ও পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। অর্থের অভাবে দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারি না।

তিনি অভিযোগ করেন, দাবি আদায়ে রানা প্লাজার সামনে এলে আমাদের দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। কালও (সোমবার) রানার লোকজন এসে আমাদের হুমকি দিয়ে গেছে। কালু নামে একজন নিজেকে রানার লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের এখান থেকে উঠে যেতে বলে। নইলে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত নয়তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভবনটির পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। পোশাক শিল্পের ইতিহাসে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মারা যায় ১ হাজার ১৩৬ শ্রমিক, জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন এক হাজার ১৬৯ জন। যারা প্রাণে বেঁচে আছেন তারা জীবিত থেকেও অসহনীয় কষ্টে মৃতের মতো জীবনযাপন করছেন।

বিবি/রেআ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

কান্না ও ক্ষোভে নিহতদের স্মরণ

প্রকাশিত : ১১:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯

অসংখ্য স্বজনের সমাবেশ ঘটেছে সাভারে। এসেছেন আহত শ্রমিকরাও রানা প্লাজায় নিহতদের স্মরণে। তাদের হাহাকারে ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। ঘটনার বিচার না হওয়ার, আর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার ক্ষোভ তাদের প্রত্যেকের চোখেমুখে। তাদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে স্বর মিলিয়ে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। হতাহতদের স্মরণে ঘটনাস্থলে নির্মিত ‘অস্থায়ী শহীদ বেদিতে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তারা।

আজ সকাল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ শ্রমিক পবিরারের সদস্যরা রানা প্লাজার অস্থায়ী বেদির সামনে আসেন। প্রথমে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেককে ৪৮ লাখ টাকা প্রদান, পুনর্বাসন, আজীবন চিকিৎসাসেবা, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা, হতাহত ও নিখোঁজ শ্রমিক পরিবারের শিশুদের লেখাপড়ার নিশ্চয়তা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবিতে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে অনশন শুরু করেছেন আহত শ্রমিকরা। সোমবার দুপুর থেকে রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভবন ধসের স্থানে হতাহতের স্মরণে এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোমবাতি প্রজ্বালন এবং দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রানা প্লাজা সার্ভাইবারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অনশনরত মাহমুদুল হাসান হৃদয় বলেন, ১১ দফা দাবি আদায়ের জন্য আমরা অনশন শুরু করেছি। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি মেনে নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এখান থেকে আমরা সরছি না। তিনি বলেন, এই রানা প্লাজায় আমি জীবনের সবকিছু হারিয়েছি। পঙ্গু হয়ে পড়ে রয়েছি। এত এত ওষুধ খেয়েছি যে, এখন ওষুধ দেখলেই ভয় লাগে। প্রস্রাবে ইনফেকশনসহ বুক ও পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। অর্থের অভাবে দু’বেলা পেট ভরে খেতে পারি না।

তিনি অভিযোগ করেন, দাবি আদায়ে রানা প্লাজার সামনে এলে আমাদের দাঁড়াতে দেওয়া হয় না। কালও (সোমবার) রানার লোকজন এসে আমাদের হুমকি দিয়ে গেছে। কালু নামে একজন নিজেকে রানার লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের এখান থেকে উঠে যেতে বলে। নইলে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত নয়তলা বিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ভবনটির পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। পোশাক শিল্পের ইতিহাসে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় মারা যায় ১ হাজার ১৩৬ শ্রমিক, জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হন এক হাজার ১৬৯ জন। যারা প্রাণে বেঁচে আছেন তারা জীবিত থেকেও অসহনীয় কষ্টে মৃতের মতো জীবনযাপন করছেন।

বিবি/রেআ