০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন আলাউদ্দিন আলী

হাসপাতালের বেডে শুয়ে প্রিয় মানুষদের খুঁজে চলেছেন কিংবদন্তি সুরকার আলাউদ্দিন আলী। প্রায় চার মাস পার হয়ে গেলো ঘরে ফেরা হয়নি তার। হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে রোগের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সহজ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাড়নায় চিকিৎসার মধ্যেই কাটছে তার একেকটা দিন।

আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে অনেক দিন ধরেই থাকেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস। তাদের সম্পর্কটা গুরু শিষ্যের। রোববার রাতে ওস্তাদকে হাসপাতাল থেকে দেখে আসার পর এক আবেগ ঘন স্ট্যাটাস লিখেছেন মোমিন বিশ্বাস। বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে এখানে।

মোমিন লিখেছেন, ‘অন্যান্য দিন হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় এতটা কাঁদিনি! আজকে সাভার থেকে মিরপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তা সানগ্লাসের আড়ালে চোখের পানি গড়িয়ে ঘামের সাথে কখন মিশে গেছে টের পাইনি! গত ১১৬দিন যাবৎ ওস্তাদকে কে নিয়ে কিছু লিখতে গিয়েও পারিনি!

আজকে অনেক কথা বলেছেন তিনি,যখন আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করছিলেন কিশোর (এন্ড্রু কিশোর) কই ?, বাবু (ফুয়াদ নাসের) কই ?,শুভ (আলী আকরাম)কই ?,রফিক ভাই (মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান) কেমন আছে ?, তখন কিছুটা আনন্দেই চোখ টা ভিজে আসছিল! কারন উনার এভাবে জিজ্ঞেস করা টা খুব ভালো জানি আমি!

গুণে গুণে ১১৬দিন পর আজকে সেই আলাউদ্দিন আলী’কে পেয়েছি, ১১৬দিন আগে যে আলাউদ্দিন আলী দিনের ভেতর অসংখ্যবার ফোন দিয়ে কখন কোথায় আছি, কি করছি, খেয়েছি কি না খোঁজ নিতেন!

স্যার..গত ১১৬দিনে আর কেউ খোঁজ নেয়নি কখন কোথায় আছি খেয়েছি কি না, রেয়াজ করেছি কি না? নিজের ভেতরকার কান্না থামাতে পারিনা বলে হাসপাতালে এখন আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনা, রাতের বেলা এখন আর ফোন পাইনা যাবতীয় গল্প শোনার জন্য, সারাদিনে অসংখ্যবার গত ১১৬দিন যাবৎ এখন আর ফোন আসেনা!

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন স্যার। তার বাম হাত ও বাম পা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিলো। এখন বাম পা ভালো হওয়ার পথে। একটু একটু হাঁটতে পারছেন তিনি। বাম হাতটা এখনো দুর্বল হয়ে আছে। নিয়মিত থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।’

মোমিন বিশ্বাস জানালেন, এরই মধ্যে এ্যন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমিন, ফোয়াদ নাসের বাবু, আলী আকরাম শুভ ,মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানসহ আরও অনেকেই একাধিকবার দেখতে এসেছেন আলাউদ্দিন আলীকে। নিয়মিত খোঁজ রাখছেন তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ২২ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালে আইসিইউতে ভর্তি হন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে, টানা ২৬ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দিন আলীকে বিশেষ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এখন আগের চেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন আলাউদ্দিন আলী। তবে তার শরীরের বাম অংশে সমস্যা থাকায়, ফিজিওথেরাপি নিতে তাকে সাভারের সিআরপি হাসপাতালে নেয়া হয়। নিয়মিত থেরাপি চলছে তার।

 

বিবি/এমএ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সামনে কঠিন বাস্তবতা

ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন আলাউদ্দিন আলী

প্রকাশিত : ০১:১৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০১৯

হাসপাতালের বেডে শুয়ে প্রিয় মানুষদের খুঁজে চলেছেন কিংবদন্তি সুরকার আলাউদ্দিন আলী। প্রায় চার মাস পার হয়ে গেলো ঘরে ফেরা হয়নি তার। হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে রোগের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। সহজ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাড়নায় চিকিৎসার মধ্যেই কাটছে তার একেকটা দিন।

আলাউদ্দিন আলীর সঙ্গে অনেক দিন ধরেই থাকেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী মোমিন বিশ্বাস। তাদের সম্পর্কটা গুরু শিষ্যের। রোববার রাতে ওস্তাদকে হাসপাতাল থেকে দেখে আসার পর এক আবেগ ঘন স্ট্যাটাস লিখেছেন মোমিন বিশ্বাস। বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে এখানে।

মোমিন লিখেছেন, ‘অন্যান্য দিন হাসপাতাল থেকে ফেরার সময় এতটা কাঁদিনি! আজকে সাভার থেকে মিরপুর পর্যন্ত পুরো রাস্তা সানগ্লাসের আড়ালে চোখের পানি গড়িয়ে ঘামের সাথে কখন মিশে গেছে টের পাইনি! গত ১১৬দিন যাবৎ ওস্তাদকে কে নিয়ে কিছু লিখতে গিয়েও পারিনি!

আজকে অনেক কথা বলেছেন তিনি,যখন আমাকে কয়েকবার জিজ্ঞেস করছিলেন কিশোর (এন্ড্রু কিশোর) কই ?, বাবু (ফুয়াদ নাসের) কই ?,শুভ (আলী আকরাম)কই ?,রফিক ভাই (মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান) কেমন আছে ?, তখন কিছুটা আনন্দেই চোখ টা ভিজে আসছিল! কারন উনার এভাবে জিজ্ঞেস করা টা খুব ভালো জানি আমি!

গুণে গুণে ১১৬দিন পর আজকে সেই আলাউদ্দিন আলী’কে পেয়েছি, ১১৬দিন আগে যে আলাউদ্দিন আলী দিনের ভেতর অসংখ্যবার ফোন দিয়ে কখন কোথায় আছি, কি করছি, খেয়েছি কি না খোঁজ নিতেন!

স্যার..গত ১১৬দিনে আর কেউ খোঁজ নেয়নি কখন কোথায় আছি খেয়েছি কি না, রেয়াজ করেছি কি না? নিজের ভেতরকার কান্না থামাতে পারিনা বলে হাসপাতালে এখন আর বেশিক্ষণ থাকতে পারিনা, রাতের বেলা এখন আর ফোন পাইনা যাবতীয় গল্প শোনার জন্য, সারাদিনে অসংখ্যবার গত ১১৬দিন যাবৎ এখন আর ফোন আসেনা!

‘ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন স্যার। তার বাম হাত ও বাম পা প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিলো। এখন বাম পা ভালো হওয়ার পথে। একটু একটু হাঁটতে পারছেন তিনি। বাম হাতটা এখনো দুর্বল হয়ে আছে। নিয়মিত থেরাপি দেওয়া হচ্ছে।’

মোমিন বিশ্বাস জানালেন, এরই মধ্যে এ্যন্ড্রু কিশোর, সাবিনা ইয়াসমিন, ফোয়াদ নাসের বাবু, আলী আকরাম শুভ ,মোহাম্মদ রফিকউজ্জামানসহ আরও অনেকেই একাধিকবার দেখতে এসেছেন আলাউদ্দিন আলীকে। নিয়মিত খোঁজ রাখছেন তারা।

উল্লেখ্য, চলতি বছর ২২ জানুয়ারি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালে আইসিইউতে ভর্তি হন উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী। এরপর তার অবস্থার অবনতি হলে, টানা ২৬ দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দিন আলীকে বিশেষ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। এখন আগের চেয়ে এখন অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন আলাউদ্দিন আলী। তবে তার শরীরের বাম অংশে সমস্যা থাকায়, ফিজিওথেরাপি নিতে তাকে সাভারের সিআরপি হাসপাতালে নেয়া হয়। নিয়মিত থেরাপি চলছে তার।

 

বিবি/এমএ