নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকার আকাশ আহমেদ ইতালীয় গাড়ি ‘ল্যাম্বোরগিনি’র আদালে একটি গাড়ি বানিয়েছেন। দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাড়িটি বানাতে তার খরচ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ লাখ টাকা। গাড়িটি দেখতে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করছেন। আকাশের দাবি, সরকারি সহযোগিতা পেলে অল্প খরচে দেশের ভেতরে পরিবেশবান্ধব টেকসই গাড়ি বানানো সম্ভব।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে আকাশের বাবার ‘নবী অ্যান্ড সন্স’ অটোরিকশার ওয়ার্কশপে তৈরি করা হয়েছে গাড়িটি। যেটি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা চলাচলে সক্ষম।
২০ বছর বয়সী এই তরুণ বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম নিজে একটি গাড়ি বানিয়ে সে গাড়ি দিয়ে চলাচল করবো। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন হলো ২০১৯ সালের এসে।’
ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের একটি আলিয়া মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশ। আকাশ বলেন, ধর্মগঞ্জে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বডি তৈরির জন্য কারখানা আছে তাদের। ওই কারখানায় অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বডি বানাতে বানাতে তার মাথায় গাড়ি বানানোর চিন্তা আসে। পরে বাবা নবী হোসেনের কাছে গাড়ি বানানোর কথা বলেন। বাবা ছেলের কথায় সম্মিতি দেন। সেই থেকেই যাত্রা শুরু। ক্যালেন্ডারে ল্যাম্বোরগিনি গাড়ির মডেল দেখেই সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকে সে। বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০/২০০ টাকা নিয়ে অল্প অল্প করে কাজ শুরু করেন। ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়ালও ফলো করতেন। ইস্পাতের পাত কেটে কেটে গাড়ির বডির শেপ তৈরি করেন। গাড়ির নকশা, নির্মাণ, জোড়াতালি সবই নিজের হাতে করেন তিনি।
‘গাড়ির চাকা, স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সব কিছু আমার নিজের হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট ব্যাকলাইট, গিয়ার, এসবও তৈরি করেছি আমি। যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রায় দেড় বছরের চেষ্টায় গাড়িটি তৈরি করেছি।’
গাড়িতে প্রায় ৫টি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে। যেটি প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। আর এই ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে সময় লাগবে ৫ ঘণ্টা। এছাড়া ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারবে গাড়িটি।
তবে গাড়িতে আরও কিছু কাজ বাকি আছে বলে জানায় এই তরুণ। যেমন গাড়ির দরজাগুলোয় সুইচ বসানো। যাতে এগুলো অটো খুলবে ও বন্ধ হয়ে যাবে।
আকাশ বলেন, ‘গাড়ি বানানোর খবর মিডিয়ার আসার পর থেকেই এখন পর্যন্ত ৩০ জন গাড়ি তৈরি করে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছেন। কিন্তু আমি কারও সঙ্গে কোনও প্রকার চুক্তি করিনি। তাদের বলেছি,আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে। কারণ যে গাড়িটি আমি বানিয়েছি,তার চেয়ে আরও ভালো গাড়ি কীভাবে তৈরি করা যায় সেটি নিয়ে চিন্তা করছি। সরকারি সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে বাংলাদেশেই উন্নতমানের গাড়ি বানানো সম্ভব।’
ল্যাম্বোরগিনির আদলে তৈরি করা গাড়ি আকাশের বাবা নবী হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলে গাড়িটি বানিয়েছে এটা এলাকার অনেকেই বিশ্বাস করতে চায় না। বিষয়টি মিডিয়াতে আসার পর প্রতিদিনই আমাদের গ্যারেজে গাড়িতে দেখতে ভিড় করছেন লোকজন। অনেকে প্রশংসা করছেন। ছেলের প্রশংসা দেখে বাবা হিসেবে গর্ববোধ হচ্ছে।’
বিবি/এমএ




















