০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজনীতির ময়দানে মুখোমুখি দেবর-ভাবি

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই ও জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবার বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসতে যাচ্ছেন। আর এতেই নাখোশ এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা। মূলত এরশাদবিহীন জাপার কর্তৃত্ব নিয়ে এই মুহূর্তে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন রাজনীতির ময়দানের এই দেবর ভাবি।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরপরই দলটির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। এর মধ্যে গত ১৮ জুলাই বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জিএম কাদেরকে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় নতুন চেয়ারম্যানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জিএম কাদের এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, তিনি পার্টির চেয়ারম্যান। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে, জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। এরশাদ মৃত্যুর আগে তাকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। এতে দলে রওশনপন্থী বলে পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই অখুশি হন। যদিও এ নিয়ে তখন বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়নি।

তবে এ ঘটনায় নাখোশ রওশন অনুসারীরা, এরপর থেকেই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে আশা ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এবার দেবর-ভাবির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় হিসেবে ঘোষণা করতে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেওয়া হয়। দলের ২২ জন সংসদ সদদ্যের মধ্যে ১৫ জন এতে স্বাক্ষরও করেন।

এমন অবস্থার মধ্যে বুধবার সকালে রওশন এরশাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তার অনুসারীরা। এর পরপরই ‘এমন চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার জিএম কাদেরের নেই’ বলে সাফ জানিয়েদেন রওশনপন্থী নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এদিকে জাপা আরেক নেতা মজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা হবে রওশনই।

অন্যদিকে রওশনপন্থীদের আজকের বৈঠক থেকে জানানো হয়, আগামীকাল তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানেই চলতি ইস্যু নিয়ে মুখ খুলবেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

হত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অভাবনীয় ফল করে বিএনপিকে পিছনে ফেলে ২২ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় জাপা। সংরক্ষিত মহিলা আসনের চারটি ভাগে পায় জাপা। বিএনপিবিহীন দশম সংসদেও প্রধান বিরোধীদল ছিল জাপা। সেবার মন্ত্রী পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার পদে রওশন এরশাদ।

একাদশ নির্বাচনের পর স্ত্রীকে সরিয়ে নিজেই বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন এরশাদ। জিএম কাদেরকে উপনেতা নিয়োগ করেন। আড়াই মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। গত ২২ মার্চ জিএম কাদেরকে সরিয়ে উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার চেয়ারম্যান হন জিএম কাদের। তাকে এ পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিবৃতি দেন রওশন এরশাদ। দেবর-ভাবীর দ্বন্ধে প্রশ্ন ছিল, কে হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদীয় দল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

১৪ বছর পর বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পাকিস্তানে নামলো বিমান

রাজনীতির ময়দানে মুখোমুখি দেবর-ভাবি

প্রকাশিত : ০৫:৫২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর তার ভাই ও জাতীয় পার্টির নতুন চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এবার বিরোধীদলীয় নেতার পদে বসতে যাচ্ছেন। আর এতেই নাখোশ এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ ও তার অনুসারীরা। মূলত এরশাদবিহীন জাপার কর্তৃত্ব নিয়ে এই মুহূর্তে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন রাজনীতির ময়দানের এই দেবর ভাবি।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরপরই দলটির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয় রশি টানাটানি। এর মধ্যে গত ১৮ জুলাই বনানীতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে জিএম কাদেরকে দলের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় নতুন চেয়ারম্যানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, জিএম কাদের এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নন, তিনি পার্টির চেয়ারম্যান। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনি এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে, জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদে ছিলেন। এরশাদ মৃত্যুর আগে তাকে পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন। এতে দলে রওশনপন্থী বলে পরিচিত জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই অখুশি হন। যদিও এ নিয়ে তখন বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়নি।

তবে এ ঘটনায় নাখোশ রওশন অনুসারীরা, এরপর থেকেই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে আশা ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এবার দেবর-ভাবির মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় হিসেবে ঘোষণা করতে স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেওয়া হয়। দলের ২২ জন সংসদ সদদ্যের মধ্যে ১৫ জন এতে স্বাক্ষরও করেন।

এমন অবস্থার মধ্যে বুধবার সকালে রওশন এরশাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তার অনুসারীরা। এর পরপরই ‘এমন চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার জিএম কাদেরের নেই’ বলে সাফ জানিয়েদেন রওশনপন্থী নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এদিকে জাপা আরেক নেতা মজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতা হবে রওশনই।

অন্যদিকে রওশনপন্থীদের আজকের বৈঠক থেকে জানানো হয়, আগামীকাল তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানেই চলতি ইস্যু নিয়ে মুখ খুলবেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ।

হত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অভাবনীয় ফল করে বিএনপিকে পিছনে ফেলে ২২ আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হয় জাপা। সংরক্ষিত মহিলা আসনের চারটি ভাগে পায় জাপা। বিএনপিবিহীন দশম সংসদেও প্রধান বিরোধীদল ছিল জাপা। সেবার মন্ত্রী পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার পদে রওশন এরশাদ।

একাদশ নির্বাচনের পর স্ত্রীকে সরিয়ে নিজেই বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন এরশাদ। জিএম কাদেরকে উপনেতা নিয়োগ করেন। আড়াই মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেন। গত ২২ মার্চ জিএম কাদেরকে সরিয়ে উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

গত ১৪ জুলাই এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার চেয়ারম্যান হন জিএম কাদের। তাকে এ পদে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিবৃতি দেন রওশন এরশাদ। দেবর-ভাবীর দ্বন্ধে প্রশ্ন ছিল, কে হবেন বিরোধীদলীয় নেতা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জিএম কাদের সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন- এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদীয় দল।

বিজনেস বাংলাদেশ-বি/এইচ