০২:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

লবিং-তদবিরে ব্যস্ত জবি ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরা

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের কমিটি গঠন ও কমিটি পূর্নাঙ্গ করার নির্দেশনার পর ফের আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের এক বছর পার হলেও এখনো কমিটি না হওয়ায় বিগত রয়েছে নেতাকর্মীরা। গত বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২য় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগের এই সুপার ইউনিটের কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী অনেক ছাত্রনেতা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। কয়েক ছাত্রনেতা চাকুরির পড়ালেখার পাশাপাশি সাংসারিক জীবনেও পদার্পণ করেছেন।

জবি শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর জবি শাখা ছাত্রলীগের ৩৯ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। এরপর গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ফের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা সংঘর্ষে জড়ালে কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার চার মাস পর গত বছরের ২০ জুলাই শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আশরাফুল ইসলাম টিটনকে আহ্বায়ক ও জামাল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনে দিন স্লোগান দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুলতান মো. ওয়াসি হিটস্ট্রোকে মারা যান। পরে মৃত ওয়াসির বিষয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও তা আর ফলপ্রসূ হয়নি। এমনকি কমিটি বিলুপ্তির প্রায় দেড় বছর পার হলেও কমিটি বিহীন হয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

এদিকে গত ২৭ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক- মহানগর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ড কমিটি ও সমস্ত কমিটির স্ট্রাকচার দাঁড় করানোর আহবান জানান। এ সময়ে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসব ইউনিটে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেখতে চাই। আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতার এমন ঘোষনার পর আবারও দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছেও লবিং-তদবীর করে যাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘিরে নেতা হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটন, সাবেক সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ শাহিন, আল আমিন শেখ ও শরিফুল ইসলাম। সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, তারেক আজীজ, কাওসার আহমেদ, হোসনে মুবারক রিশাদ। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজী, আক্তার হোসেন, নুরুল আফসার, আসাদুল্লাহ আসাদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আদম সাইফুল্লাহ, আনিসুর রহমান। সাবেক দফতর সম্পাদক শাহবাজ হোসেন বর্ষণ, সাবেক সহ-সম্পাদক মোল্লা আনোয়ার হোসেন (সজীব), সাবেক উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈকতুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান, সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন অনি, ইনজামামুল ইসলাম নিলয়, কামরুল হোসাইন ও একমাত্র নারী প্রার্থী মুন্নি আক্তার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

লবিং-তদবিরে ব্যস্ত জবি ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশীরা

প্রকাশিত : ০৩:১৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের কমিটি গঠন ও কমিটি পূর্নাঙ্গ করার নির্দেশনার পর ফের আলোচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের এক বছর পার হলেও এখনো কমিটি না হওয়ায় বিগত রয়েছে নেতাকর্মীরা। গত বছরের ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ চত্বরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২য় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্রলীগের এই সুপার ইউনিটের কমিটি না হওয়ায় পদপ্রত্যাশী অনেক ছাত্রনেতা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিয়েছে। কয়েক ছাত্রনেতা চাকুরির পড়ালেখার পাশাপাশি সাংসারিক জীবনেও পদার্পণ করেছেন।

জবি শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর জবি শাখা ছাত্রলীগের ৩৯ সদস্যের কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে তরিকুল ইসলামকে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেলকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির মেয়াদ ছিল এক বছর। এরপর গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রেমঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। ফের ১৯ ফেব্রুয়ারি তারা সংঘর্ষে জড়ালে কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার চার মাস পর গত বছরের ২০ জুলাই শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আশরাফুল ইসলাম টিটনকে আহ্বায়ক ও জামাল হোসেনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনে দিন স্লোগান দিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুলতান মো. ওয়াসি হিটস্ট্রোকে মারা যান। পরে মৃত ওয়াসির বিষয়ে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপের কথা বলা হলেও তা আর ফলপ্রসূ হয়নি। এমনকি কমিটি বিলুপ্তির প্রায় দেড় বছর পার হলেও কমিটি বিহীন হয়ে আছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

এদিকে গত ২৭ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক- মহানগর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়, থানা, ওয়ার্ড কমিটি ও সমস্ত কমিটির স্ট্রাকচার দাঁড় করানোর আহবান জানান। এ সময়ে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এসব ইউনিটে আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেখতে চাই। আওয়ামীলীগের এই শীর্ষ নেতার এমন ঘোষনার পর আবারও দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের কাছেও লবিং-তদবীর করে যাচ্ছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘিরে নেতা হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম টিটন, সাবেক সহ-সভাপতি জামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ শাহিন, আল আমিন শেখ ও শরিফুল ইসলাম। সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম, তারেক আজীজ, কাওসার আহমেদ, হোসনে মুবারক রিশাদ। সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজী, আক্তার হোসেন, নুরুল আফসার, আসাদুল্লাহ আসাদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজ, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য আদম সাইফুল্লাহ, আনিসুর রহমান। সাবেক দফতর সম্পাদক শাহবাজ হোসেন বর্ষণ, সাবেক সহ-সম্পাদক মোল্লা আনোয়ার হোসেন (সজীব), সাবেক উপ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈকতুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান, সহ-সম্পাদক মহিউদ্দিন অনি, ইনজামামুল ইসলাম নিলয়, কামরুল হোসাইন ও একমাত্র নারী প্রার্থী মুন্নি আক্তার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ