পুলিশ কনস্টেবল পদে ছেলের চাকরির জন্য দেওয়া টাকার বাকি অংশও ফেরত পেয়েছেন ময়মনসিংহের কৃষক আবুল কালাম শেখ।
সোমবার (৩ নবেম্বর) সকালে তোফাজ্জল হোসেন ডেকে নিয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত রেখে সাত লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন আবুল কালাম শেখকে।
টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আবুল কালাম শেখ। তিনি বলেন, গত বছর ছেলে শাকিলের পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য জমি বিক্রি করে ১২ লাখ ও সুদে ২ লাখ টাকা এনে মোট ১৪ লাখ টাকা দিয়েছি তোফাজ্জল হোসেনকে। এর আগে সাত লাখ টাকা ফেরত পেয়েছি। তোফাজ্জল হোসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান মাহমুদকে দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।
কিন্তু শাকিল পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চাকরি হয়নি। হাসান মাহমুদ ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর ছেলে।
এ বিষয়ে তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “কালামের ছেলের কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য ১৪ লাখ টাকা নিয়েছিলাম। তবে কারো নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নেইনি। আগে সাত লাখ টাকা পরিশোধ করেছিলাম। বাকি সাত লাখ টাকা সোমবার (২ নবেম্বর) সকালে পরিশোধ করেছি।”
ত্রিশাল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আব্দুল মতিন সরকার বলেন, পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ ও তার এক অনুসারীর কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তার দায় তারা কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এতে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এদিকে মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে এমপি পুত্র ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হাসান মাহমুদ সোমবার (২ নবেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এসময় হাসান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিককালে একটি কুচক্রি ও স্বার্থান্বেষী মহল ব্যক্তি স্বার্থ ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তাকে, তার পিতা আলহাজ্ব হাফেজ রুহুল আমীন মাদানী এমপিকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানীকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ঐ চক্র তার পিতা ও পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার হীন প্রয়াস চালাচ্ছে।
এমপি পুত্র আরও বলেন, এলাকায় তার পিতা ও তার উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা এবং তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় সুবিধাবাদী একটি মহল এসব অপপ্রচার করছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, পুলিশের হেড কোয়ার্টার, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা, কাল্পনিক অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এসব প্রচার করা হচ্ছে। তবে কুচক্রি মহল কে বা কারা এবং কি উদ্দেশ্যে অভিযোগ বা মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে লিখিত বক্তব্যে তিনি তা স্পষ্ট করেননি। তবে তিনজনের অডিও রেকর্ডের কথোপকথন তার নয় বলেও দাবি করা হয়। তিনি এসব ব্যাপারে মিডিয়ার সহযোগিতা চান।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নবী নেওয়াজ সরকার, উপজেলা যুগ্ম-আহবায়ক এ এন এম শোভা মিয়া আকন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/ ইমরান মাসুদ

























