দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে কারণ দর্শানো নোটিশের (শোকজ) জবাব দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ। এর মধ্য দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি শোকজের জবাব দিলেন।
শোকজে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তার অজান্তে কোনো কাজ হয়ে থাকলে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে শওকত মাহমুদের একান্ত সহকারী আবদুল মমিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার জবাব পৌঁছে দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
শোকজের জবাবে কী লিখেছেন জানতে চাইলে রিজভী বলেন, সেটা দলীয় গোপন বিষয়। কী লিখেছেন, তা বলা যাবে না। তবে তিনি বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই শোকজের জবাব দিয়েছেন।
এদিকে শওকত মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, এক পৃষ্ঠার ওই জবাবে তিন লাইনে দুটি বাক্যে তিনি লিখেছেন, জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজে তিনি জ্ঞাতসারে সম্পৃক্ত ছিলেন না। এরপরও নিজ অজান্তে এমন কোনো কাজে জড়িত থাকলে সে জন্য তিনি দুঃখিত।
এদিকে দলের অপর ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বনানীর তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে তার লিখিত বক্তব্য জানাবেন এবং পরে সেটি দলের কাছে জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজ করা হয়।
শোকজে বলা হয়, শওকত মাহমুদ দলের নাম ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগ পেয়েছে বিএনপি। আর বারবার সতর্ক করার পরও অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে অবজ্ঞা করে কথা বলেছেন বলে অভিযোগ দলটির। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে জন্য শওকত মাহমুদকে ৭২ ঘণ্টা এবং হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে ৫ দিনের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শওকত মাহমুদকে ২০১৬ সালে বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। এর আগে তিনি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া তিনি বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বিএনপি সমর্থিত সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদেরও ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কও তিনি।


























