চট্টগ্রামের রাউজানে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করার সময় দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাউজান পৌর শহরের চার বটতল এলাকা থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহকালে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আটক ব্যক্তিরা বেলা ১১টার দিকে একাধিক সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের স্টিকারযুক্ত মাইক্রোবাস (চট্ট মেট্রো-চ-১১-৪৪৩৫) নিয়ে রাউজান পৌর এলাকার ৮০৮ নামের একটি ইটভাটায় উপস্থিত হন। সেখানে তারা সাংবাদিক পরিচয়ে ওই ইটভাটার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশের হুমকি দিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেন। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী অন্য আরেকটি ইটভাটা জিবিআই ব্রিকফিল্ড থেকেও তারা একই কায়দায় ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা হলেন, ময়মনসিংহ জেলার পাগলা উপজেলার উস্থি গ্রামের খোকন আলীর ছেলে আল আমিন আহমেদ (৩৫), গফরগাঁও উপজেলার দিঘা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কন্যা আরিফা আফরোজ (২০), ভালুকা পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডের সৈয়দ আব্দুল জব্বারের কন্যা সৈয়দা জবা, একই এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মাছুম হাসান (৩৫) এবং কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলার কদমতলী গ্রামের আবুল কাশেম মজুমদারের ছেলে ইলিয়াস মজুমদার (৫৫)।
পুলিশ জানায়, থানায় নিয়ে আসার পর আটককৃতরা বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে তারা সেখানে সংবাদকর্মী হিসেবে দায়িত্বরত আছেন মর্মে দাবি করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তাদের পত্রিকা থেকে কোনোরকম বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না।
পুলিশ আরও জানায়, মাইক্রোবাসের সামনে দৈনিক বর্তমান কথা ও দেশ টিভি বাংলার স্টিকার লাগানো আছে। মোবাইল ফোনের পেছনে নিউজ বাংলা টিভি এবং গলায় জবস টিভি ও দেশকাল পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে তারা চাঁদাবাজি করেন। এ ছাড়া সাংবাদিক পরিচয় দিলেও আল আমিন আহমেদ নিজেই জানান যে, তিনি কোনোদিন স্কুলের গণ্ডিতে পা দেননি। লিখতে বা পড়তেও জানেন না।
পরে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৮০৮ ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক সুমন দেবনাথ বাদী হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করলে তাদের সেই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ এময় তাদের পরিচয়পত্র এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ‘চার কথিত সাংবাদিকসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবহৃত মাইক্রোবাস ও বিভিন্ন টিভি-পত্রিকার পরিচয়পত্র ও ভিজিটিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ ও জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।





















