সীতাকুণ্ডে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও দুই হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামি মোঃ নুরুল ইসলাম প্রকাশ ইরান (৪৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার ৪ নং মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল এলাকায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহত ইরান দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামের নুর মিয়ার পুত্র।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইরান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সাম্রাজ্য ও ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তুলেছিলেন। তার বিরুদ্ধে শামীম ও নাঈম নামের দুই যুবককে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। গত ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ার অজুহাতে নাঈম (১৬) নামের এক যুবককে তুলে নিয়ে অকথ্য নির্যাতন চালায় ইরানের সন্ত্রাসী বাহিনী। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নাঈম মারা যান।
নাঈম হত্যার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার নাঈমের জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ইরান ও তার সহযোগীদের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে ইরানকে না পেয়ে তার এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একটি ঘরে ইরান আত্মগোপনে আছেন খবর পেয়ে শত শত মানুষ তাকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মোঃ মহিনুল ইসলাম জানান, নিহত ইরান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এবং তিনি দুটি পৃথক হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ইতিপূর্বেও তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হলেও আটক করা সম্ভব হয়নি। শনিবার গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মারাত্মক আহত অবস্থায় ইরানের এক সহযোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এলাকা বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং এ সংক্রান্ত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল রাতে সীতাকুণ্ড পৌরসভার শিবপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শামীমকে (৪০) শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলারও প্রধান আসামি ছিলেন এই ইরান।
ডিএস./



















