০৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

নিরাপদ ডিজিটাল জীবন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান পুলিশ সুপারের

মাদক, বাল্যবিবাহ ও টিনেজ সাইবার ক্রাইমের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নওগাঁ সরকারি কলেজে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা, বাল্যবিবাহের কুফল এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) নওগাঁ সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সভায় পুলিশ সুপার প্রজেক্টরের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন এবং বাস্তব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর অপব্যবহার থেকে সতর্ক থাকাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি অনলাইন প্রতারণা, সাইবার বুলিং, ভুয়া আইডি, পর্নোগ্রাফি, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, আইন মেনে চলা, প্রযুক্তি-সচেতন এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং সাইবার অপরাধমুক্ত রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা মাদক প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ, অনলাইন নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ এবং আইনগত সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন। পুলিশ সুপার প্রতিটি প্রশ্নের বাস্তবসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর প্রদান করেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং গঠনমূলক মতামত প্রদানকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষক ও প্রতিনিধিবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), র‍্যাবের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কর্মসূচি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নিরাপদ ডিজিটাল জীবন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান পুলিশ সুপারের

নিরাপদ ডিজিটাল জীবন ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান পুলিশ সুপারের

প্রকাশিত : ০৫:০২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মাদক, বাল্যবিবাহ ও টিনেজ সাইবার ক্রাইমের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নওগাঁ সরকারি কলেজে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা, বাল্যবিবাহের কুফল এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় অনুষ্ঠানে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) নওগাঁ সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সভায় পুলিশ সুপার প্রজেক্টরের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা করেন এবং বাস্তব ঘটনার উদাহরণ তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি শুধু একজন মানুষের জীবন নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রাকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদেরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা, যা কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ বিষয়ে পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এর অপব্যবহার থেকে সতর্ক থাকাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি অনলাইন প্রতারণা, সাইবার বুলিং, ভুয়া আইডি, পর্নোগ্রাফি, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করেন। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম সম্পর্কে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, আইন মেনে চলা, প্রযুক্তি-সচেতন এবং দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং সাইবার অপরাধমুক্ত রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা মাদক প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ, অনলাইন নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ এবং আইনগত সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন। পুলিশ সুপার প্রতিটি প্রশ্নের বাস্তবসম্মত ও তথ্যসমৃদ্ধ উত্তর প্রদান করেন। পরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং গঠনমূলক মতামত প্রদানকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষক ও প্রতিনিধিবৃন্দ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), র‍্যাবের প্রতিনিধি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের কর্মসূচি সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

ডিএস./