০৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা এবং তাদের পদত্যাগের দাবি তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতি এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে বলা হয়, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের পরেও জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কলঙ্কিত অধ্যায়কে ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করবার জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, চাল, ডাল, তেল এবং শাক-সবজীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। সরকারের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এই মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। সরকার দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় ৭ জানুয়ারি সারাদেশে থানা পর্যায়ে বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সংগঠন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করবে।

সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বৈঠকে বলা হয়, এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চিত্রই দেখা গেছে। বিরোধী দলের প্রার্থী, সমর্থকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, ভোটের দিনে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে না দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

‘ইভিএম ব্যবহার করে ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর এবং বিশিষ্ট জনদের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের জন্য ইভিএম ব্যবহার করে চলেছে। ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণ করবার ত্রুটিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের রায় বদলে ফেলা হচ্ছে।’

বৈঠক মনে করে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত সকল উপনির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এই নির্বাচন কমিশনের জনগণের আস্থা হারিয়েছে। সভা এই নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের কারণে সকল দায় নিয়ে পদত্যাগের দাবি করে। নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ জানুয়ারি সারা দেশের সকল পৌরসভা ও মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

বিএনপির তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত : ০৬:৪৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২১

ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, পৌর নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতা এবং তাদের পদত্যাগের দাবি তিনদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

রোববার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতি এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গত শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠকে বলা হয়, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের পরেও জনগণের দাবিকে উপেক্ষা করে ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কলঙ্কিত অধ্যায়কে ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করবার জন্য আগামী ৫ জানুয়ারি সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বৈঠকে বলা হয়, চাল, ডাল, তেল এবং শাক-সবজীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবন দুঃসহ হয়ে উঠেছে। সরকারের মদদপুষ্ট ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে এই মূল্য বৃদ্ধি হচ্ছে। সরকার দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় ৭ জানুয়ারি সারাদেশে থানা পর্যায়ে বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সংগঠন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচি পালন করবে।

সারাদেশে পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে বৈঠকে বলা হয়, এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চিত্রই দেখা গেছে। বিরোধী দলের প্রার্থী, সমর্থকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, ভোটের দিনে সন্ত্রাসের মাধ্যমে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আসতে না দেয়া, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহায়তায় ভোটের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

‘ইভিএম ব্যবহার করে ফলাফলকে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর এবং বিশিষ্ট জনদের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের জন্য ইভিএম ব্যবহার করে চলেছে। ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণ করবার ত্রুটিযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের রায় বদলে ফেলা হচ্ছে।’

বৈঠক মনে করে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন এবং পরবর্তীকালে অনুষ্ঠিত সকল উপনির্বাচন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এই নির্বাচন কমিশনের জনগণের আস্থা হারিয়েছে। সভা এই নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান প্রদত্ত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের কারণে সকল দায় নিয়ে পদত্যাগের দাবি করে। নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ জানুয়ারি সারা দেশের সকল পৌরসভা ও মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।