০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

স্বামী আত্মগোপন করায় আত্মহত্যা নববধূর

বিয়ের ৩/৪ মাস পর পরিবারের চাপে স্বামী আত্মগোপন করে নানার বাড়িতে। এ কথা জানতে পেরে স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে সেখানে উপস্থিত হন নববধু। সালিশে বসেও স্বামীকে না পাওয়ায় ক্ষোভ-অভিমানে ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন নববধু জেসমিন আক্তার ওরফে রিমি (২৫)। 

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দিনগত রাতে খাগড়াছড়িতে মানিকছড়ির মাস্টার পাড়ার ভাড়াটিয়া বাসায় ছোট ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন এই নববধু।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লক্ষীছড়ি উপজেলার শীলছড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন ও জুলেখার সংসারে গত ২ থেকে ৩ বছর পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় মা জুলেখা মেয়ে জেসমিন আক্তার ও ছেলে জাহেদুল ইসলামকে নিয়ে মানিকছড়িতে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন। কলেজ পড়ুয়া জেসমিন আক্তার ও এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহেদুল ইসলামের ভরণ-পোষণে মা এক পর্যায়ে বিদেশ পাড়ি জমান। মা-বাবার অবর্তমানে গত ৫/৬ মাস আগে মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে জোনায়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জাড়িয়ে পড়েন জেসমিন আক্তার। দুজনেই অভিভাবককে না জানিয়ে ৩/৪ মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভাড়া বাসায় ঘর সংসার শুরু করেন।

এ খবর জানাজানি হলে ছেলের (বর) প্রভাবশালী পরিবার এই বিয়ে মেনে না নিয়ে স্ত্রীর (নববধু) কাছ থেকে ছেলেকে (বর) সরিয়ে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। কাবিননামায় উল্লেখিত অর্থ ছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হলেও জেসমিনকে তালাক দিতে ছেলের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে জোনায়েদ হোসেন নানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলার সুয়াবিল আত্মগোপন করে। এ খবর জানতে পেরে স্বামীকে ফিরে পেতে সুয়াবিল গিয়ে বৈঠকে বসেও স্বামীর অধিকার পেতে ব্যর্থ হয় জেসমিন।

সামাজিক বিচারবঞ্চিত হয়ে ও শ্বশুরপক্ষের অমানবিক আচরণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় জেসমিন আক্তার। দীর্ঘক্ষণ ঘরে কোনো সাড়াশব্দ না হওয়ায় প্রতিবেশীরা অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে জেসমিনকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পিতা আলমগীর হোসেন জানান, ২ বছর আগে আমার ১ম স্ত্রী জুলেখার সঙ্গে আমার ছাড়াছড়ি হয়। ফলে আমার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তারা মানিকছড়িতে থাকা অবস্থায় আমার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদেশে পাড়ি জমান (ওমান)। বিদেশ থেকে মায়ের প্রেরিত অর্থেই দুই ভাই-বোন মানিকছড়ি ভাড়াবাসায় থেকে লেখাপড়া করতো। এর বেশি কিছুই আমি জানতাম না। আজ মেয়ের অকালে মৃত্যু খবর পেয়ে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

মানিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন জানান, মা-বাবা থেকে দূরে থাকা জেসমিন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও শ্বশুর পক্ষের কেউ এ বিয়ে মেনে না নিয়ে স্বামীর অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করায় এক পর্যায়ে রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর ভাবনা সাকিবের

স্বামী আত্মগোপন করায় আত্মহত্যা নববধূর

প্রকাশিত : ০২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১

বিয়ের ৩/৪ মাস পর পরিবারের চাপে স্বামী আত্মগোপন করে নানার বাড়িতে। এ কথা জানতে পেরে স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে সেখানে উপস্থিত হন নববধু। সালিশে বসেও স্বামীকে না পাওয়ায় ক্ষোভ-অভিমানে ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন নববধু জেসমিন আক্তার ওরফে রিমি (২৫)। 

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দিনগত রাতে খাগড়াছড়িতে মানিকছড়ির মাস্টার পাড়ার ভাড়াটিয়া বাসায় ছোট ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন এই নববধু।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লক্ষীছড়ি উপজেলার শীলছড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন ও জুলেখার সংসারে গত ২ থেকে ৩ বছর পূর্বে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ায় মা জুলেখা মেয়ে জেসমিন আক্তার ও ছেলে জাহেদুল ইসলামকে নিয়ে মানিকছড়িতে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন। কলেজ পড়ুয়া জেসমিন আক্তার ও এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহেদুল ইসলামের ভরণ-পোষণে মা এক পর্যায়ে বিদেশ পাড়ি জমান। মা-বাবার অবর্তমানে গত ৫/৬ মাস আগে মানিকছড়ি উপজেলার তিনটহরী এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে জোনায়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জাড়িয়ে পড়েন জেসমিন আক্তার। দুজনেই অভিভাবককে না জানিয়ে ৩/৪ মাস আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ভাড়া বাসায় ঘর সংসার শুরু করেন।

এ খবর জানাজানি হলে ছেলের (বর) প্রভাবশালী পরিবার এই বিয়ে মেনে না নিয়ে স্ত্রীর (নববধু) কাছ থেকে ছেলেকে (বর) সরিয়ে নিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেন। কাবিননামায় উল্লেখিত অর্থ ছাড়াও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হলেও জেসমিনকে তালাক দিতে ছেলের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায়ে জোনায়েদ হোসেন নানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী উপজেলার সুয়াবিল আত্মগোপন করে। এ খবর জানতে পেরে স্বামীকে ফিরে পেতে সুয়াবিল গিয়ে বৈঠকে বসেও স্বামীর অধিকার পেতে ব্যর্থ হয় জেসমিন।

সামাজিক বিচারবঞ্চিত হয়ে ও শ্বশুরপক্ষের অমানবিক আচরণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় জেসমিন আক্তার। দীর্ঘক্ষণ ঘরে কোনো সাড়াশব্দ না হওয়ায় প্রতিবেশীরা অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে জেসমিনকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মহিউদ্দিন জানান, হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পিতা আলমগীর হোসেন জানান, ২ বছর আগে আমার ১ম স্ত্রী জুলেখার সঙ্গে আমার ছাড়াছড়ি হয়। ফলে আমার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তারা মানিকছড়িতে থাকা অবস্থায় আমার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদেশে পাড়ি জমান (ওমান)। বিদেশ থেকে মায়ের প্রেরিত অর্থেই দুই ভাই-বোন মানিকছড়ি ভাড়াবাসায় থেকে লেখাপড়া করতো। এর বেশি কিছুই আমি জানতাম না। আজ মেয়ের অকালে মৃত্যু খবর পেয়ে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

মানিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ আমির হোসেন জানান, মা-বাবা থেকে দূরে থাকা জেসমিন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও শ্বশুর পক্ষের কেউ এ বিয়ে মেনে না নিয়ে স্বামীর অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করায় এক পর্যায়ে রাগে ক্ষোভে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।