০৪:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দুর্গম পাহাড়ে জেলা ডিবির অভিযান: দুই অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল দেশীয় অস্ত্র

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল।

শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ জুলাই দুপুরে জেলা ডিবির একটি চৌকস দল পটিয়া থানার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে কেলিশহর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্নারপাড়া এলাকায় মো. দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে খাটের নিচ থেকে ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহা কাটার এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়ার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) এবং একই এলাকার মো. মহসিন (৩৩)।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত করতে জেলা ডিবির অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ, সন্ত্রাস এবং অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে তারা কাজ করছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ধনি গরীব সকলের জন্য একই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

দুর্গম পাহাড়ে জেলা ডিবির অভিযান: দুই অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল দেশীয় অস্ত্র

প্রকাশিত : ০৪:০২:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল।

শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ জুলাই দুপুরে জেলা ডিবির একটি চৌকস দল পটিয়া থানার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ, প্রতিকূল পরিবেশ এবং সম্ভাব্য সশস্ত্র প্রতিরোধের ঝুঁকি উপেক্ষা করে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযানে দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে কেলিশহর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইন্নারপাড়া এলাকায় মো. দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে খাটের নিচ থেকে ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহা কাটার এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পরে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুকিয়ে রাখা দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় তৈরি এলজি উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়ার বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) এবং একই এলাকার মো. মহসিন (৩৩)।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রগুলো বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত অন্য সহযোগী, অস্ত্রের উৎস এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রকে শনাক্ত করতে জেলা ডিবির অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ, সন্ত্রাস এবং অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে তারা কাজ করছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

ডিএস./