০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আপনার বিচার ভাঙ্গার মানুষ করবে’ নিক্সনকে কাদের মির্জা

ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর সাম্প্রতিকালের কথাবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আপনার বিচার একদিন ফরিদপুরের ভাঙ্গার মানুষ করবে। সে দিন আর বেশি দূরে নয়। আপনি সংযত হয়ে কথা বলুন। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে কলঙ্কিত করবেন না। এ পরিবার আমাদের মূল চালিকা শক্তি, আমাদের আদর্শ বঙ্গবন্ধুর পরিবার। 

তিনি আরও বলেন, আমাকে খোঁচাবেন না। আমাকে এক আঙুল দিয়ে খোঁচালে আমি দুই আঙুল দিয়ে খোঁচাবো। আপনি যত বড় নেতাই হোন। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের মির্জা।

এসময় নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একরাম সাহেব, জেহান সাহেব মামলার ভয় দেখান? ৮২ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছি। টাকার গরম দেখান, লুট করে কতো টাকার মালিক হয়েছেন? কোথায় পেলেন এত টাকা জনগণের কাছে একদিন হিসাব দিতে হবে।

কাদের মির্জা বলেন, আমি টেন্ডারবাজির কথা বলায় অশ্বদিয়ার এক নারী কেলেঙ্কারি মাদক মামলার আসামিকে দিয়ে আমার নামে মামলা দিয়েছেন। যে ছেলে রাতের অন্ধকারে আমার বোনদেরকে নিয়ে এ নেতাদের হাতে তুলে দেয়। আমার বিরুদ্ধে মামলা যে বাদী হয়েছে, তার একটা ভাই সিন্ধুলপুরে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে মারা গেছে। শত মামলা করুক, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবো, অপরাধী হলে আমার বিচার হবে। আর আপনাদের বিচার গণআদালতে করা হবে। সেদিন বেশিদিন নয়, অপেক্ষা করুন।

তিনি আরও বলেন, আপনি (একরামুল করিম চৌধুরী) ছেলের হাতে কেন অস্ত্র তুলে দিলেন। আপনার ছেলের জীবন আপনি নষ্ট করে দিয়েছেন। আমি এ ছেলেকে দায়ী করতে চাই না, দায়ী আপনি আপনার অস্ত্র আপনাকে ধ্বংস করবে। আমার ছেলে যেদিন অস্ত্র হাতে নিবে সেদিন আমি আত্মহত্যা করে জীবন দিব। কবিরহাটে অস্ত্রবাজির কথা কবিরহাটের জনগণ কি ভুলে গেছে।

নোয়াখালীর সম্মেলনের দিন আপনি সেখানে গুলি করেছেন, এর সাক্ষী নোয়াখালী এসপি। সেদিন অস্ত্র নিয়ে আপনার ছেলেসহ আওয়ামীলীগের অফিস ভেঙেছেন। অস্ত্রের জোর দেখান, আমাদের কাছে অস্ত্র নাই, আমার আছে জনগণ।

মামলার বিষয়ে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, অতীতেও আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এবার সত্য কথা বলায় দলের কিছু দুষ্কৃতিকারীর গায়ে লেগেছে। তিনি বলেন, আমি অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এতে কেউ রাগ হলে বা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিলে তাতে আমার কিছু বলার নেই। তবে যতো বাধাই আসুক সত্য বচনে একটুও পিছপা হবো না।অনেকে বলেন আমি বড় নেতা হওয়ার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমি আজ ঘোষণা দিচ্ছি আমি কোনো পদ পদবীর রাজনীতি করি না। আমি কোন বড় দায়িত্বে যাবো না। আমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সদস্য থাকবো। বসুরহাট পৌরসভার জনগণের সাথে থাকবো বাকী জীবন।

ট্যাগ :

নীলফামারীতে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিলেন ছয় প্রার্থী, আশ্বাস দিলেন অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর

আপনার বিচার ভাঙ্গার মানুষ করবে’ নিক্সনকে কাদের মির্জা

প্রকাশিত : ০৭:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১

ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ নিক্সন চৌধুরীর সাম্প্রতিকালের কথাবার্তায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বসুরহাট পৌরসভার নবনির্বাচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, আপনার বিচার একদিন ফরিদপুরের ভাঙ্গার মানুষ করবে। সে দিন আর বেশি দূরে নয়। আপনি সংযত হয়ে কথা বলুন। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে কলঙ্কিত করবেন না। এ পরিবার আমাদের মূল চালিকা শক্তি, আমাদের আদর্শ বঙ্গবন্ধুর পরিবার। 

তিনি আরও বলেন, আমাকে খোঁচাবেন না। আমাকে এক আঙুল দিয়ে খোঁচালে আমি দুই আঙুল দিয়ে খোঁচাবো। আপনি যত বড় নেতাই হোন। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাদের মির্জা।

এসময় নোয়াখালী-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন জেহানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একরাম সাহেব, জেহান সাহেব মামলার ভয় দেখান? ৮২ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছি। টাকার গরম দেখান, লুট করে কতো টাকার মালিক হয়েছেন? কোথায় পেলেন এত টাকা জনগণের কাছে একদিন হিসাব দিতে হবে।

কাদের মির্জা বলেন, আমি টেন্ডারবাজির কথা বলায় অশ্বদিয়ার এক নারী কেলেঙ্কারি মাদক মামলার আসামিকে দিয়ে আমার নামে মামলা দিয়েছেন। যে ছেলে রাতের অন্ধকারে আমার বোনদেরকে নিয়ে এ নেতাদের হাতে তুলে দেয়। আমার বিরুদ্ধে মামলা যে বাদী হয়েছে, তার একটা ভাই সিন্ধুলপুরে ডাকাতির সময় গণপিটুনিতে মারা গেছে। শত মামলা করুক, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবো, অপরাধী হলে আমার বিচার হবে। আর আপনাদের বিচার গণআদালতে করা হবে। সেদিন বেশিদিন নয়, অপেক্ষা করুন।

তিনি আরও বলেন, আপনি (একরামুল করিম চৌধুরী) ছেলের হাতে কেন অস্ত্র তুলে দিলেন। আপনার ছেলের জীবন আপনি নষ্ট করে দিয়েছেন। আমি এ ছেলেকে দায়ী করতে চাই না, দায়ী আপনি আপনার অস্ত্র আপনাকে ধ্বংস করবে। আমার ছেলে যেদিন অস্ত্র হাতে নিবে সেদিন আমি আত্মহত্যা করে জীবন দিব। কবিরহাটে অস্ত্রবাজির কথা কবিরহাটের জনগণ কি ভুলে গেছে।

নোয়াখালীর সম্মেলনের দিন আপনি সেখানে গুলি করেছেন, এর সাক্ষী নোয়াখালী এসপি। সেদিন অস্ত্র নিয়ে আপনার ছেলেসহ আওয়ামীলীগের অফিস ভেঙেছেন। অস্ত্রের জোর দেখান, আমাদের কাছে অস্ত্র নাই, আমার আছে জনগণ।

মামলার বিষয়ে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেন, অতীতেও আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। এবার সত্য কথা বলায় দলের কিছু দুষ্কৃতিকারীর গায়ে লেগেছে। তিনি বলেন, আমি অপরাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এতে কেউ রাগ হলে বা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিলে তাতে আমার কিছু বলার নেই। তবে যতো বাধাই আসুক সত্য বচনে একটুও পিছপা হবো না।অনেকে বলেন আমি বড় নেতা হওয়ার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি। আমি আজ ঘোষণা দিচ্ছি আমি কোনো পদ পদবীর রাজনীতি করি না। আমি কোন বড় দায়িত্বে যাবো না। আমি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সদস্য থাকবো। বসুরহাট পৌরসভার জনগণের সাথে থাকবো বাকী জীবন।