০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির নারী সঙ্গ; প্রত্যাহার ৫

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি কয়েদি হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদকে কারাগারে নারী সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হলো।

রোববার সকালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে তাদের প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. আবরার হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা হলেন– কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আবদুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান। তাদের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ থেকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লা ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

কারাগারের সিসি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশের মাঝে কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় কালো রঙের জামাকাপড় পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদ। তিনি আসার কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইনের উপস্থিতিতেই ওই নারীকে সেখানে দেখা যায়। তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করে।

তাকে সেখানে রিসিভ করেন খোদ ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দি হলমার্কের জিএম তুষার আহমদকে নিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে ওই ভিডিও নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভিডিও টি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

জনপ্রিয়

শহীদ জহির রায়হান স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদির নারী সঙ্গ; প্রত্যাহার ৫

প্রকাশিত : ০৪:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২১

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি কয়েদি হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদকে কারাগারে নারী সঙ্গীর ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগে কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় পাঁচজনকে প্রত্যাহার করা হলো।

রোববার সকালে তাদের প্রত্যাহার করা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে তাদের প্রত্যাহার করে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কারা মহাপরিদর্শকের পক্ষে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. আবরার হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। তারা হলেন– কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আবদুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান। তাদের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ থেকে প্রত্যাহার করে কারা অধিদফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লা ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

এ ছাড়া একই ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

কারাগারের সিসি ফুটেজে দেখা গেছে, গত ৬ জানুয়ারি কারাগারে প্রবেশের মাঝে কর্মকর্তাদের অফিস এলাকায় কালো রঙের জামাকাপড় পরে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘোরাফেরা করছেন হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) তুষার আহমেদ। তিনি আসার কিছু সময় পর বাইরে থেকে বেগুনি রঙের সালোয়ার কামিজ পরা এক নারী সেখানে প্রবেশ করেন।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রত্না রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইনের উপস্থিতিতেই ওই নারীকে সেখানে দেখা যায়। তাদের সহযোগিতার বিষয়টিও সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে কারাগারের দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করে।

তাকে সেখানে রিসিভ করেন খোদ ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। প্রায় ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দি হলমার্কের জিএম তুষার আহমদকে নিয়ে আসেন।

উল্লেখ্য বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে ওই ভিডিও নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ভিডিও টি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে শুক্রবার থেকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ