০৪:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

কবর থেকে সাড়ে ৪ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন

ময়মনসিংহ নগরীর রেজিয়া ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় সাত বছরের শিশু সাজ্জাদ হোসেনের মৃত্যুর সাড়ে চারমাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামের চর লক্ষীপুর কাছিমুল উলুম মাদ্রাসার কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। নিহত শিশু সাজ্জাত একই ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে শিশু সাজ্জাতের লাশ তুলা হয়।
এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লাশ দেখতে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়। নিহত শিশুর মায়ের কান্নাকাটিতে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম বলেন, নিহত শিশুর আনোয়ার বেগম ময়মনসিংহ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরে পর আদালত মামলাটি পিবিআই এ হস্তান্তর করেন। একই সাথে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর লাশ উত্তোলনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর আজ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশ ময়নাতদন্ত করে করে আবারও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুর পরিবার যেন সুষ্ঠু বিচার পায় তার চেষ্টা করা হবে।

নিহত শিশুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি বলেন, ১ অক্টোবর সাজ্জাতের এপেন্ডিসাইডের ব্যথা উঠলে নগরীর চরপাড়ার ব্রাহ্মপল্লী এলাকার রেজিয়া ক্লিনিকে ভর্তি করান। ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান তার ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার জন্য বলেন। পরে ভর্তি হওয়ার পর ওই রাতেই অপারেশন করতে হবে বলে জানান ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন। পরে অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন ডিসি বর্মণ ও অজ্ঞানের ডাক্তার টিকে সাহা এবং ডাক্তার প্রীতি রঞ্জন রায়।

আনোয়ার বেগম আরও বলেন, তাড়াহুড়া করে অপারেশন করে ডাক্তাররা চলে গেলে ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তখন ক্লিনিকের লোকজনের সহযোগিতা চাইলে কেউ তাদের সহযোগিতা করেনি। ছেলের খারাপ অবস্থার জন্য তারা কোন দায়ভার নিবে না বলে ভোররাতে কর্তৃপক্ষ তাদের ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়। পরদিন সকালে ২ অক্টোবর সাজ্জাতকে কোলে করে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ছেলে মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি করলে মামলাসহ বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। দুই ছেলে নিয়েই মানুষের বাড়িতে কাজ করে তার সংসার চলতো। অপারেশনের টাকাও ঋণ করে দিয়ে ছিলেন। ছেলে মারা গেলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা বা শান্তনা দেয়নি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে বিচার দাবি করে আনোয়ারা বলেন, রেজিয়া ক্লিনিকের চিকিৎসকরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশেই লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পর্ববর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারন করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন পেশ করবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আশুগঞ্জে গাঁজা উদ্ধার,দুই মাদক কারবারী গ্রেফতার

কবর থেকে সাড়ে ৪ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন

প্রকাশিত : ০৭:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১

ময়মনসিংহ নগরীর রেজিয়া ক্লিনিকে চিকিৎসকের অবহেলায় সাত বছরের শিশু সাজ্জাদ হোসেনের মৃত্যুর সাড়ে চারমাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার ৬ নম্বর চর ঈশ্বরদিয়া ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামের চর লক্ষীপুর কাছিমুল উলুম মাদ্রাসার কবরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। নিহত শিশু সাজ্জাত একই ইউনিয়নের চর লক্ষীপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে শিশু সাজ্জাতের লাশ তুলা হয়।
এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। লাশ দেখতে স্থানীয় এলাকাবাসী জড়ো হয়। নিহত শিশুর মায়ের কান্নাকাটিতে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম বলেন, নিহত শিশুর আনোয়ার বেগম ময়মনসিংহ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরে পর আদালত মামলাটি পিবিআই এ হস্তান্তর করেন। একই সাথে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর লাশ উত্তোলনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেন। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পর আজ কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব লাশ ময়নাতদন্ত করে করে আবারও দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুর পরিবার যেন সুষ্ঠু বিচার পায় তার চেষ্টা করা হবে।

নিহত শিশুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, তিনি বলেন, ১ অক্টোবর সাজ্জাতের এপেন্ডিসাইডের ব্যথা উঠলে নগরীর চরপাড়ার ব্রাহ্মপল্লী এলাকার রেজিয়া ক্লিনিকে ভর্তি করান। ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান তার ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার জন্য বলেন। পরে ভর্তি হওয়ার পর ওই রাতেই অপারেশন করতে হবে বলে জানান ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন। পরে অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন ডিসি বর্মণ ও অজ্ঞানের ডাক্তার টিকে সাহা এবং ডাক্তার প্রীতি রঞ্জন রায়।

আনোয়ার বেগম আরও বলেন, তাড়াহুড়া করে অপারেশন করে ডাক্তাররা চলে গেলে ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তখন ক্লিনিকের লোকজনের সহযোগিতা চাইলে কেউ তাদের সহযোগিতা করেনি। ছেলের খারাপ অবস্থার জন্য তারা কোন দায়ভার নিবে না বলে ভোররাতে কর্তৃপক্ষ তাদের ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়। পরদিন সকালে ২ অক্টোবর সাজ্জাতকে কোলে করে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ছেলে মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি করলে মামলাসহ বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলেও হুমকি দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। দুই ছেলে নিয়েই মানুষের বাড়িতে কাজ করে তার সংসার চলতো। অপারেশনের টাকাও ঋণ করে দিয়ে ছিলেন। ছেলে মারা গেলেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদের সহযোগিতা বা শান্তনা দেয়নি।

কান্নাজড়িত কন্ঠে বিচার দাবি করে আনোয়ারা বলেন, রেজিয়া ক্লিনিকের চিকিৎসকরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাত হোসেন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশেই লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পর্ববর্তীতে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারন করে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন পেশ করবেন।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ